মুনাফায় ২৮৬% প্রবৃদ্ধি, এবার বেশি ডিভিডেন্ড দেবে বিপিপিএল?
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের (বিপিপিএল) সামনে এখন বড় প্রশ্ন, মুনাফার উল্লেখযোগ্য উন্নতির সুফল কি এবার বেশি নগদ লভ্যাংশের মাধ্যমে পাবেন বিনিয়োগকারীরা? ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ২ টাকা ৮৬ পয়সায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৭৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২৮৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান কমে আসা, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যয় হ্রাস এই অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে আর্থিক প্রতিবেদনে ইতিবাচক ফলাফলের পাশাপাশি একটি উদ্বেগের দিকও রয়েছে। মুনাফা বাড়লেও নয় মাসের হিসাবে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। ফলে আগের অর্থবছরে সুপারিশ করা ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের চেয়ে এবার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
নয় মাসের হিসাবে আয় বেড়েছে ২ টাকা ১২ পয়সা
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৪ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি আয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১২ পয়সা।
এই উন্নতির পেছনে কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগের বছরের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান কমেছে। পাশাপাশি অর্থায়ন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় তাদের মুনাফাও বেড়েছে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই পরিবর্তন বিপিপিএলের সমন্বিত আয়ের হিসাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নয় মাসের মুনাফা বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে কোম্পানির সব আর্থিক সূচক একই হারে উন্নত হয়েছে। শেয়ারপ্রতি আয় ও নিট সম্পদমূল্য বাড়লেও নগদ প্রবাহের হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
প্রথম প্রান্তিকে লোকসান থেকে মুনাফায় ফেরার গল্প
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই বিপিপিএলের আর্থিক ফলাফলে পরিবর্তন দেখা যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৬৬ পয়সা। অথচ আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৩ পয়সা।
অর্থাৎ, আগের বছরের ঋণাত্মক ফলাফল কাটিয়ে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরে আসে। দুই বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আর্থিক ফলাফলের উন্নতি হয় ৭৯ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান কমে যাওয়ায় তাদের আর্থিক ফলাফল উন্নত হয়, যার প্রভাব পড়ে বিপিপিএলের সমন্বিত আয়ে।
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনে বিদেশি মুদ্রায় থাকা ঋণ, দায় বা লেনদেনের মূল্যায়ন বদলে যেতে পারে। এ কারণে সৃষ্ট লোকসান কমলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিপিপিএলের দেওয়া ব্যাখ্যাতেও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিকে নগদ প্রবাহের ঘাটতিও আগের বছরের তুলনায় কমেছিল। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ১২ টাকা ১৪ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ঘাটতি কমেছিল ১১ টাকা ৬২ পয়সা।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকারীদের কম অর্থ পরিশোধ করায় নগদ প্রবাহের হিসাবে এই উন্নতি হয়েছে। তবে নগদ প্রবাহ তখনো ঋণাত্মক ছিল। তাই ঘাটতি কমে আসাকে পরিচালন কার্যক্রমে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ ফিরে আসার সমতুল্য হিসেবে দেখা যাবে না।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ধরে রাখে কোম্পানি
অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বিপিপিএলের আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ৭৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল মাত্র ১ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৭৬ পয়সা।
আগের বছরের আয়ের ভিত্তি খুব কম থাকায় তুলনামূলক প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র বোঝা কঠিন। তবে টাকার অঙ্কে হিসাব করলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয়ের ব্যবধান স্পষ্ট হয়।
প্রথম দুই প্রান্তিক একত্রে বিবেচনা করলে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১২ পয়সা। ফলে ছয় মাসের হিসাবে শেয়ারপ্রতি আর্থিক ফলাফলের উন্নতি হয় ১ টাকা ৫৫ পয়সা।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান হ্রাস এবং অর্থায়ন ব্যয় কমে আসার প্রভাব দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বজায় ছিল।
এ সময় পরিচালন নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৪ টাকা ৮০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৭ টাকা ৯৫ পয়সা। দুই সময়ের ব্যবধান ১২ টাকা ৭৫ পয়সা।
কোম্পানি জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকারীদের কম অর্থ পরিশোধ করার কারণে নগদ প্রবাহের এই উন্নতি হয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকেও আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে বিপিপিএলের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ৮৭ পয়সা।
এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৫৬ পয়সা, যা শতকরা হিসাবে ৬৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
এই ফলাফল দেখায়, প্রথম ছয় মাসের পরও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থাৎ নয় মাসের প্রবৃদ্ধি শুধু অর্থবছরের শুরুর দিকের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়; তৃতীয় প্রান্তিকেও আয়ের উন্নতি দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
৪২ টাকা থেকে ১১ টাকায় শেয়ারের দর, জেড ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে কোম্পানি
শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ, কী বলছে হিসাব?
বারাকা পাওয়ারের আয় ২০০% বাড়ল, ডিভিডেন্ড দেবে কি?
তবে কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা ছিল সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত আর্থিক ফলাফল, বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান হ্রাস এবং অর্থায়ন ব্যয় কমে আসা।
তিনটি প্রান্তিকের হিসাব একত্রে ধরলে শেয়ারপ্রতি আয় ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৮৬ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বর্তমান আয় প্রায় ৩ দশমিক ৮৬ গুণ। তবে এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর।
সম্পদমূল্য বেড়েছে, কিন্তু নগদ প্রবাহে উল্টো চিত্র
বিপিপিএলের আর্থিক প্রতিবেদনের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের বৃদ্ধি। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয় ২৮ টাকা ৩৬ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর দাঁড়ায় ২৮ টাকা ৯০ পয়সা।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে এই অঙ্ক আরও বেড়ে ৩০ টাকা ৩৪ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তুলনায় নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা বা ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধিকে এই অগ্রগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু সম্পদমূল্যের উন্নতি এবং নগদ অর্থের প্রাপ্যতা এক বিষয় নয়। নয় মাসের হিসাবে বিপিপিএলের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৮ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৮ পয়সা।
অর্থাৎ, মুনাফা বাড়লেও শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহের ঘাটতি বেড়েছে ৩ টাকা ১৪ পয়সা। শতকরা হিসাবে আগের বছরের ঘাটতির তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নয় মাসে কোম্পানি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহ দুর্বল হয়েছে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানি হিসাবের খাতায় মুনাফা দেখালেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ আদায়ে বিলম্ব হলে পরিচালন ব্যয়, সরবরাহকারীদের পাওনা ও অন্যান্য আর্থিক দায় মেটানোর জন্য নগদ অর্থের ওপর চাপ পড়তে পারে। ফলে শুধু মুনাফার অঙ্ক দেখে কোম্পানির নগদ অর্থের সক্ষমতা বিচার করা ঠিক নয়।
আগেরবার ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড, এবার কী হবে?
বিপিপিএল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এর চেয়ে বেশি নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হবে কি না, তা এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের পরিমাণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
লভ্যাংশ বাড়ানোর পক্ষে কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান একটি ইতিবাচক দিক। নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৮৬ পয়সায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি সিদ্ধান্তটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নয় মাসে নগদ প্রবাহের ঘাটতি বেড়ে যাওয়া এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তি কমে যাওয়ার তথ্য কোম্পানির নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
লভ্যাংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাই শুধু শেয়ারপ্রতি আয় নয়, পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা আদায়, ভবিষ্যৎ পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায় বিবেচনা করা জরুরি।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে এবং বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান ও অর্থায়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোম্পানির পূর্ণ বছরের আর্থিক ফলাফল ইতিবাচক হতে পারে। তবে নগদ প্রবাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া চলতি নয় মাসের আয় বৃদ্ধির বড় অংশ সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ফলাফলের উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, অর্থায়ন ব্যয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিস্থিতির পরিবর্তন কোম্পানির মুনাফাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন কোন দিকে?
বিপিপিএলের আর্থিক প্রতিবেদনে দুটি ভিন্ন চিত্র পাশাপাশি রয়েছে। একদিকে শেয়ারপ্রতি আয় ও নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে, অন্যদিকে নয় মাসের পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় দুর্বল হয়েছে।
এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত ফলাফল এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত। ২৮ অক্টোবরের নির্ধারিত সভায় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিবেচনার পর ডিভিডেন্ড সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের মুনাফা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলেও আগের বছরের ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় এবার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। মুনাফার পাশাপাশি নগদ প্রবাহের পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়, সেটিই বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের ৯ মাসের শেয়ারপ্রতি আয় কত?
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা।
২. আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় কত বেড়েছে?
আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৮৬ পয়সা হয়েছে। বৃদ্ধির পরিমাণ ২ টাকা ১২ পয়সা বা প্রায় ২৮৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
৩. কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহ কেমন ছিল?
নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৮ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৮ পয়সা।
৪. বিপিপিএল কি এবার ২ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে?
এখনো নিশ্চিত নয়। কোম্পানিটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।
৫. পরিচালনা পর্ষদের সভা কবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সভাটি ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান