ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বারাকা পাওয়ারের আয় ২০০% বাড়ল, ডিভিডেন্ড দেবে কি?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:১২:১৩
বারাকা পাওয়ারের আয় ২০০% বাড়ল, ডিভিডেন্ড দেবে কি?

বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, মুনাফার উল্লেখযোগ্য উন্নতি কি এবার বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড পাওয়ার পথ খুলে দেবে? ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ পয়সা হয়েছে। কিন্তু এই আয় বৃদ্ধির বিপরীতে ব্যবসা পরিচালনা থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ ইতিবাচক হয়নি। বরং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের ইতিবাচক ৪ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে নেমে ঋণাত্মক ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, নয় মাসের মুনাফায় বড় অবদান রেখেছে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেড়ে যাওয়া আয়। তবে তিন প্রান্তিকের ফলাফল এক রকম ছিল না। প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে, আর তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই ওঠানামার পাশাপাশি নগদ প্রবাহের দুর্বলতা থাকায় শুধু মুনাফার অঙ্ক দেখে ডিভিডেন্ড সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্তে মুনাফার পাশাপাশি নগদ অর্থও গুরুত্বপূর্ণ

বারাকা পাওয়ার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেনি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে যাওয়ায় এবার কোম্পানিটি নগদ বা অন্য কোনো ধরনের ডিভিডেন্ড দেবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের বিষয়ে কোনো সুপারিশ ঘোষণা করা হয়নি।

কোম্পানিটির নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক দিক হলো শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি এবং নিট সম্পদমূল্যের উন্নতি। বিপরীতে, পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি আর্থিক চিত্রকে জটিল করেছে। আয় হিসাবের ভিত্তিতে মুনাফার পরিমাণ বোঝা যায়; অন্যদিকে পরিচালন নগদ প্রবাহ ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের আসা-যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে। তাই মুনাফা বাড়লেও নগদ অর্থের প্রবাহ দুর্বল থাকলে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় বৃদ্ধি শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এই আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নগদ অর্থের অবস্থাও উন্নত হয়েছে, এমন চিত্র আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়নি।

তিন প্রান্তিকের ফলাফলে বড় ওঠানামা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের ফলাফল বুঝতে হলে তিনটি প্রান্তিকের হিসাব আলাদাভাবে দেখতে হয়। প্রথম তিন মাসে আয় বেড়েছিল। পরের তিন মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হলেও প্রথমার্ধের সম্মিলিত হিসাব ইতিবাচক ছিল। এরপর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা নয় মাসের সামগ্রিক ফলকে শক্তিশালী করে।

প্রথম প্রান্তিক: আয় বাড়ে, নগদ প্রবাহ কমে যায়

২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বারাকা পাওয়ারের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ১২ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৬ পয়সা বা ৫০ শতাংশ।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় বৃদ্ধিই এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার প্রধান কারণ। কিন্তু নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রে একই ধরনের উন্নতি হয়নি।

প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ১৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ইতিবাচক ১ টাকা ৪৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই সূচকে অবনতি হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নিজস্ব কার্যক্রমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কমে যাওয়া এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকারীদের বেশি অর্থ পরিশোধের কারণে নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এই প্রান্তিকে সম্পদমূল্যে অবশ্য সামান্য উন্নতি ছিল। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২২ টাকা ৬৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ২২ টাকা ৮১ পয়সায় দাঁড়ায়। তিন মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১৮ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক: লোকসান হলেও প্রথমার্ধের আয় ইতিবাচক

২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক ৭ পয়সা। অর্থাৎ এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯ পয়সা। সে হিসাবে লোকসান ২ পয়সা কমেছে।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই ফল পুরো ছয় মাসের চিত্রকে ঋণাত্মক করেনি। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪ পয়সা। ফলে প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৭ পয়সা বা ১৭৫ শতাংশ।

প্রথম প্রান্তিকে অর্জিত ১৮ পয়সা আয় দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসানের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করেছে। তবু দুই প্রান্তিকের ফলাফল দেখায়, এ সময়ে কোম্পানিটির আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি।

প্রকাশিত তথ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই লোকসানকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস কিংবা জ্বালানি সংকটের ফল বলে নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই।

নগদ প্রবাহের অবস্থাও প্রথমার্ধে দুর্বল ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৮৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ইতিবাচক ২ টাকা ১৬ পয়সা ছিল। ফলে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহে অবনতি হয়েছে ৩ টাকা ৪ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কমে যাওয়া এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকারীদের বেশি অর্থ পরিশোধের কারণে নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২২ টাকা ৮১ পয়সা থাকলেও ৩১ ডিসেম্বর তা কমে ২২ টাকা ৭৪ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই মূল্য ৭ পয়সা কমেছে। তবে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তুলনায় ছয় মাস শেষে তা ১১ পয়সা বেশি ছিল।

তৃতীয় প্রান্তিক: আয় বৃদ্ধিতে নয় মাসের ফল শক্তিশালী

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বারাকা পাওয়ারের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ৭৬ পয়সা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২৬ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৫০ পয়সা বা প্রায় ১৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় বৃদ্ধি এ উন্নতির প্রধান কারণ। তবে প্রকাশিত তথ্যে কোনো নির্দিষ্ট নতুন প্রকল্প, ব্যবসায়িক চুক্তি বা পরিচালন সিদ্ধান্তকে এই প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বৃদ্ধির প্রভাব নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবেও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ২৯ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৫৮ পয়সা বা ২০০ শতাংশ।

এই হিসাব থেকে দেখা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসানের পর তৃতীয় প্রান্তিকের ভালো ফল নয় মাসের সম্মিলিত আয়ে বড় অবদান রেখেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতেও একই হারে চলবে কি না, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় এবং কোম্পানির নিজস্ব পরিচালন ফলাফলের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

নগদ প্রবাহে অবনতিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

নয় মাসের মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি বারাকা পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিচালন নগদ প্রবাহের পরিবর্তন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৪০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ইতিবাচক ৪ টাকা ৩৭ পয়সা ছিল।

দুই সময়ের ব্যবধান অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহে অবনতি হয়েছে ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের ইতিবাচক অবস্থান এবার ঋণাত্মক হয়েছে।

কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকারীদের বেশি অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কমে যাওয়ার বিষয়টিও নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

এই পরিস্থিতির কারণে মুনাফার অঙ্ককে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৮৭ পয়সা হলেও একই সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৪০ পয়সা। ফলে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে পূর্ণ বছরের মুনাফার পাশাপাশি নগদ অর্থের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পদমূল্যে উন্নতি, নয় মাসে বেড়েছে ৩.৮৪ শতাংশ

কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ২২ টাকা ৬৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ২২ টাকা ৮১ পয়সা হয়। পরবর্তী সময়ে ৩১ ডিসেম্বর তা কমে ২২ টাকা ৭৪ পয়সায় দাঁড়ালেও ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ আবার বেড়ে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে।

এ হিসাবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৮৭ পয়সা বা প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:

৪২ টাকা থেকে ১১ টাকায় শেয়ারের দর, জেড ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে কোম্পানি

শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ, কী বলছে হিসাব?

দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামান্য পতন হলেও তৃতীয় প্রান্তিক শেষে সম্পদমূল্য আগের অবস্থান ছাড়িয়ে গেছে। তবে নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি সরাসরি নগদ অর্থের প্রাপ্যতা বোঝায় না। এ কারণে সম্পদমূল্যের উন্নতিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা গেলেও নগদ প্রবাহের দুর্বলতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ঋণমান স্থিতিশীল, ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত এখনো বাকি

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড বারাকা পাওয়ারকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ৩’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ ঋণমান দিয়েছে। কোম্পানিটির ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।

এই মূল্যায়ন করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত পাওয়া অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে।

তবে ঋণমান স্থিতিশীল থাকা মানেই কোম্পানি ডিভিডেন্ড দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। লভ্যাংশের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, আর্থিক দায় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন বিবেচনায় আসতে পারে।

২৮ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের সভা, নজর ডিভিডেন্ডে

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বারাকা পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বুধবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের বিষয়ে এখনো কোনো সুপারিশ ঘোষণা করা হয়নি।

এবার ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে রয়েছে শেয়ারপ্রতি আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং নিট সম্পদমূল্যের উন্নতি। নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ২৯ পয়সা থেকে ৮৭ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধির ফলে প্রথম নয় মাসের সম্মিলিত ফল আগের বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে।

অন্যদিকে, পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থাকায় ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত সহজ নয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা আদায় কমে যাওয়া কিংবা সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধের চাপ অব্যাহত থাকলে কোম্পানিকে দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক দায় মেটানোর জন্য নগদ অর্থ সংরক্ষণ করতে হতে পারে।

পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত হিসাবে পর্যাপ্ত মুনাফা ও বিতরণযোগ্য অর্থ থাকলে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নগদ ডিভিডেন্ড, অন্য ধরনের ডিভিডেন্ড কিংবা কোনো ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত—কোনটি নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতে বজায় থাকবে কি না, সেটিও বিবেচ্য।

সার্বিকভাবে, বারাকা পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা ও নিট সম্পদমূল্যের উন্নতি থাকলেও পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। তাই শুধু নয় মাসের শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিভিডেন্ড পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

FAQ

১. বারাকা পাওয়ারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কত?

প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ২৯ পয়সা।

২. বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় কত শতাংশ বেড়েছে?

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৫৮ পয়সা বা ২০০ শতাংশ।

৩. বারাকা পাওয়ারের পরিচালন নগদ প্রবাহ কি ইতিবাচক ছিল?

না। প্রথম নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৪০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ইতিবাচক ৪ টাকা ৩৭ পয়সা ছিল।

৪. বারাকা পাওয়ার কি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে?

না। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ড বিষয়ে এখনো কোনো সুপারিশ ঘোষণা করা হয়নি।

৫. বারাকা পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের সভা কবে হওয়ার কথা?

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সভাটি ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বুধবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হওয়ার কথা। সেখানে ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: