ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আকামার মেয়াদ শেষ, সৌদিগামী কর্মীদের জন্য নতুন সুখবর

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:৪১:০৫
আকামার মেয়াদ শেষ, সৌদিগামী কর্মীদের জন্য নতুন সুখবর

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে সৌদি আরবে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি, এরই মধ্যে শেষ হয়েছে আকামার মেয়াদ—এমন বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কমানো, ভিসা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আধুনিক করা এবং প্রবাসীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও আলোচনায় আসে।

ফ্লাইট বিপর্যয়ে আটকে পড়া কর্মীদের জন্য কী ব্যবস্থা হবে

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ফ্লাইট জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারেননি কিছু বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে তাঁদের আকামার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এসব কর্মী ভবিষ্যতে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পেলে প্রবেশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। তবে এই আশ্বাসের আওতায় থাকা কর্মীদের নির্দিষ্ট সংখ্যা, কার্যক্রম শুরুর তারিখ কিংবা পৃথক কোনো সময়সীমার কথা দেওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখ নেই।

তিন লাখের খরচে সাত থেকে আট লাখ নেওয়া নিয়ে আপত্তি

বিদেশে চাকরি নিতে গিয়ে কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিদেশে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মীদের বিদেশযাত্রার খরচ কমাতে হবে।

মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দেশে যেতে তিন লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা থাকলে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া উচিত নয়। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে বলেন তিনি।

বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাড় করতেই যেন কর্মীদের জীবনের মূল্যবান সময় শেষ হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন আরিফুল হক চৌধুরী।

ভিসা যাচাই ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ

বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সহজ করতে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর আওতায় বিদেশগামী কর্মীদের ভিসা যাচাই এবং যাত্রার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি রয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের সমস্যার কথা জানানো ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ সেবা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের জানাতে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ বিষয়ে সরকার এককভাবে কাজ না করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় হতে হবে।

কারাবন্দি বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

আলোচনা সভায় সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়টি সামনে আনেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি। আগামী রমজানে তাঁদের বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যেসব দ্বিপক্ষীয় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশাও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক চাপ কমাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং এ সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

তাকামুল পরীক্ষা সহজ করাসহ একাধিক দাবি এজেন্সির

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে সভায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা। তাঁরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা এবং এর ফি কমানোর দাবি জানান।

এ ছাড়া বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার প্রস্তাব দেন তাঁরা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় একদিকে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কর্মীদের সৌদি আরবে প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস এসেছে, অন্যদিকে বিদেশযাত্রার ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে। কর্মীদের জন্য ঘোষিত ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সেবা সহজ করার বিষয়গুলোও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে।

FAQ: পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

১. আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কোন কর্মীদের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে?

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে এ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

২. সৌদি আরবে প্রবেশের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে?

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পেলে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রবেশ কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হবে।

৩. বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ নিয়ে মন্ত্রী কী বলেছেন?

মন্ত্রী বলেছেন, যে দেশে যেতে তিন লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া উচিত নয়। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের আহ্বান জানান।

৪. বিদেশগামী কর্মীদের সেবা সহজ করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালু করে ভিসা যাচাই ও বিদেশযাত্রার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু এবং প্রচারের উদ্যোগও রয়েছে।

৫. সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে কী আহ্বান জানানো হয়েছে?

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: