ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কত আগে নবায়ন করবেন?

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৭:৫৫:২৪
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কত আগে নবায়ন করবেন?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা, ভিসার আবেদন, বিদেশে চাকরি কিংবা পড়াশোনার প্রস্তুতি থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর আবেদন করার জন্য সবার ক্ষেত্রে ছয় মাস আগে আবেদন করতেই হবে—এমন সাধারণ বাধ্যবাধকতা নেই। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছরের কম থাকলেও পুনরায় ইস্যুর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে বাংলাদেশি মিশনের নির্দেশনায় উল্লেখ আছে।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা বা ভিসার কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। আবার কিছু দেশে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের অবশিষ্ট মেয়াদ থাকা প্রয়োজন। তাই কখন আবেদন করবেন, কীভাবে করবেন এবং কত দিন সময় লাগতে পারে—এসব বিষয় আগে থেকে জানা জরুরি।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কত মাস আগে আবেদন করবেন?

সাধারণভাবে, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে পুনরায় ইস্যুর প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। তবে এটি সবার জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক আবেদনের সময়সীমা নয়; বরং ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

কখন আবেদন করবেন, তা নির্ভর করতে পারে কয়েকটি বিষয়ের ওপর:

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে: গন্তব্য দেশের পাসপোর্টের অবশিষ্ট মেয়াদসংক্রান্ত নিয়ম আগে যাচাই করুন।

ভিসার আবেদন করতে হলে: সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা ভিসা কর্তৃপক্ষের শর্ত দেখুন। পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকলে আবেদন করার আগেই নতুন পাসপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে।

বিদেশে চাকরি বা পড়াশোনার প্রস্তুতি থাকলে: ভিসা, নিয়োগপত্র, ভর্তি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার সময় বিবেচনায় রেখে আগেই আবেদন করুন।

কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা না থাকলেও: পাসপোর্টের মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করুন, যাতে শেষ মুহূর্তে জরুরি আবেদন করতে না হয়।

অর্থাৎ, ছয় মাসের বিষয়টি একটি ব্যবহারিক নির্দেশনা। আপনার ভ্রমণ বা ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

মেয়াদ এক বছরের কম থাকলে কি পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করা যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশি ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত একটি সরকারি মিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছরের কম থাকলে, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে পুনরায় ইস্যুর আবেদন করা যায়।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় সাধারণভাবে পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে রি-ইস্যু বা পুনরায় ইস্যুর আবেদন করা হয়। আবেদন করার সময় আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

সরকারি নির্দেশনা দেখতে ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://www.epassport.gov.bd/

বিদেশ ভ্রমণের আগে ছয় মাসের মেয়াদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে ছয় মাস বাকি থাকলেও সব দেশে ভ্রমণ করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার সব দেশের নিয়মও এক নয়। কোনো কোনো দেশ প্রবেশের সময় পাসপোর্টে অন্তত ছয় মাসের অবশিষ্ট মেয়াদ চাইতে পারে। অন্য ক্ষেত্রে ভ্রমণের ধরন, ভিসা বা সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে।

তাই বিদেশ যাওয়ার আগে তিনটি বিষয় যাচাই করা উচিত:

১. গন্তব্য দেশের প্রবেশের শর্তে পাসপোর্টের কত দিনের বা মাসের মেয়াদ প্রয়োজন।

২. ভিসা আবেদন বা ভিসা ইস্যুর সময় পাসপোর্টের মেয়াদ নিয়ে কোনো আলাদা শর্ত আছে কি না।

৩. বিমান সংস্থা ও ট্রানজিট দেশের নিয়মে অতিরিক্ত কোনো শর্ত রয়েছে কি না।

বিশেষ করে বিদেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি থাকার পরিকল্পনা থাকলে পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকা অবস্থায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন ও পুনরায় ইস্যুর প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করা যায়। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য প্রস্তুত রাখুন।

ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ থেকে আবেদন শুরু করুন।

ধাপ ২: রি-ইস্যুর আবেদন নির্বাচন করুন

আবেদনপত্রে আগের পাসপোর্টের তথ্য এবং পুনরায় ইস্যুর কারণ সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। মেয়াদ শেষ হওয়া, মেয়াদ কম থাকা বা তথ্য পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কারণ নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ৩: তথ্য মিলিয়ে আবেদন জমা দিন

জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য বিবরণ মিলিয়ে নিন। ভুল তথ্য থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ধাপ ৪: ফি পরিশোধ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন করুন

আবেদনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন এবং বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের জন্য নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।

ধাপ ৫: পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন

রি-ইস্যুর আবেদনে আগের মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হয়। তাই আবেদন ও এনরোলমেন্টের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে পুরোনো পাসপোর্টও রাখুন।

আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা বিভাগে পাওয়া যাবে।

পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগতে পারে?

ই-পাসপোর্ট পেতে কত দিন লাগবে, তা নির্ভর করে নির্বাচিত ডেলিভারি ধরন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার ওপর। ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর নিয়মিত ডেলিভারির জন্য ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য সাত কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য দুই কর্মদিবস উল্লেখ রয়েছে।

তবে এগুলো প্রকাশিত নির্ধারিত সময়সীমা; সব আবেদনকারী যে ঠিক ওই সময়েই পাসপোর্ট হাতে পাবেন, তার নিশ্চয়তা নয়। তথ্য যাচাই, আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা বা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে সময় বাড়তে পারে।

এ কারণে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার একেবারে কাছাকাছি সময়ে আবেদন করে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভ্রমণের টিকিট বা ভিসার সময়সীমা থাকলে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে আবেদন করাই ভালো।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কী করবেন?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পুনরায় ইস্যুর আবেদন করা যায়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরোনো পাসপোর্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রবেশের শর্ত ও ভ্রমণসংক্রান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে বৈধ পাসপোর্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে রি-ইস্যুর আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখুন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন জমা দিন এবং নির্ধারিত এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে বিষয়টি যাচাই করে পুনরায় ইস্যুর প্রস্তুতি নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। তবে ছয় মাস আগে আবেদন করতেই হবে—এমন সর্বজনীন বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে বিষয়টি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ভ্রমণ, ভিসা বা চাকরির জন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হলে গন্তব্য দেশের শর্তও যাচাই করতে হবে।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের আবেদন ও রি-ইস্যুর সর্বশেষ নির্দেশনার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd ব্যবহার করুন। দালাল বা অননুমোদিত সূত্রের পরিবর্তে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলে আবেদনসংক্রান্ত ভুল ও অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কত আগে নবায়ন করা উচিত?

সাধারণভাবে ছয় মাস আগে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো, বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসার পরিকল্পনা থাকলে। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক আবেদনের সময়সীমা নয়।

২. পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছরের কম থাকলে কি রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশি ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত সরকারি মিশনের নির্দেশনায় এক বছরের কম মেয়াদ থাকলেও রি-ইস্যুর আবেদন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

৩. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি নতুন পাসপোর্ট করা যাবে?

হ্যাঁ। মেয়াদ শেষ হলে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের মাধ্যমে রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়।

৪. পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী কী লাগবে?

সাধারণত আগের মূল পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য জন্মনিবন্ধনের তথ্য এবং আবেদন অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে। সর্বশেষ তালিকা সরকারি পোর্টালে যাচাই করা উচিত।

৫. পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু হতে কত দিন লাগে?

সরকারি পোর্টালে নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য আলাদা সময়সীমা প্রকাশ করা আছে। তবে প্রকৃত সময় আবেদন যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: