মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: কবে চালু হবে, মেডিকেল খরচ কত?
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণায় ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরুর কথা বলা হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু হতে পারে। তবে কলিং ভিসা হাতে পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, মেডিকেল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফি এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার মোট খরচ নিয়ে এখনো সতর্কভাবে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে ২০২৬?
২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের যাত্রা শুরুর আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই সময়সূচি নির্ভর করছে মেডিকেল পরীক্ষা, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার জানায়, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৩৩৮টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগকর্তা খোঁজা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন এবং কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে শ্রমবাজার চালুর প্রস্তুতি, চাকরির চাহিদাপত্র অনুমোদন, কলিং ভিসা ইস্যু এবং কর্মীর চূড়ান্ত যাত্রা—এগুলো আলাদা ধাপ। তাই শুধু শ্রমবাজার চালুর খবর শুনে নির্দিষ্ট দিনে ভিসা পাওয়া বা বিমানে ওঠার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
মালয়েশিয়া মেডিকেল করতে কত টাকা লাগে?
মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে ২০২৬ সালের নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশে এই পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত চূড়ান্ত ফি কত, তা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। নির্ধারিত তারিখের আগে করা মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না।
এ কারণে মেডিকেল করানোর আগে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি। কোনো দালাল বা এজেন্সি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করলেই সেটিকে সরকারি নির্ধারিত ফি মনে করা যাবে না। পরীক্ষার ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্য কোনো চার্জ থাকলে তার লিখিত বিবরণ নিয়ে টাকা দেওয়া নিরাপদ।
মনে রাখবেন: মেডিকেল পরীক্ষার খরচ আর মালয়েশিয়া যেতে মোট অভিবাসন ব্যয় এক নয়। বিমানভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য অনুমোদিত খরচের সঙ্গে মেডিকেল ফি যুক্ত হতে পারে।
মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা লাগতে পারে?
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যয় নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ২৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, বোয়েসেলের মাধ্যমে একজন কর্মী পাঠাতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এই হিসাবের মধ্যে বিমানভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা এবং সার্ভিস চার্জের মতো ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই অঙ্ককে চূড়ান্ত সরকারি ফি বা সবার জন্য নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় হিসেবে ধরা যাবে না। একইভাবে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও তখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিমন্ত্রী বেসরকারি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রাথমিক ধারণা দিলেও সেটি সরকারি নির্ধারিত চূড়ান্ত হার নয়।
সরকার প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে বিমানভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা ও বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জের মতো কিছু খরচ কর্মীকে বহন করতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ‘ফ্রি ভিসা’ বা ‘সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে’—এমন দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে কারা সুযোগ পাবেন?
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে। এই উদ্যোগে কর্মী নির্বাচন ও পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বোয়েসেল যুক্ত থাকবে।
তবে কারা আবেদন করতে পারবেন, কোন পেশায় কতজন নেওয়া হবে, কী যোগ্যতা লাগবে এবং আবেদন কীভাবে করতে হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগের শর্ত অনুসরণ করতে হবে। সবার জন্য একই সঙ্গে আবেদন খোলা হয়েছে বা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলেই চাকরি নিশ্চিত—এমন তথ্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সেখানে পদের নাম, যোগ্যতা, বয়সসীমা, বেতন, কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনপদ্ধতি যাচাই করে এগোনো উচিত।
কলিং ভিসা পেতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য শুধু পাসপোর্ট থাকলেই কলিং ভিসা পাওয়া যায় না। নিয়োগকর্তার চাকরির চাহিদা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ভিসাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বাংলাদেশে কর্মীর ছাড়পত্রসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সত্যায়ন লাগবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভিসা এবং কর্মী ছাড়পত্রের কাজ এগোবে।
তাই কোনো ব্যক্তি ‘কলিং ভিসা নিশ্চিত’, ‘আগাম টাকা দিলে দ্রুত ভিসা’ বা ‘মেডিকেল করালেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে’—এমন প্রতিশ্রুতি দিলে আগে তার সত্যতা যাচাই করুন।
মেডিকেল করার আগে যেসব সতর্কতা জরুরি
মন্ত্রণালয় অনুমোদনহীন মেডিকেল সেন্টার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিষয়ে সতর্ক করেছে। কিছু ব্যক্তি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নিয়ে অনুমোদনহীন মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তাব দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতারণা এড়াতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:
মেডিকেল পরীক্ষার আগে অনুমোদিত কেন্দ্রের সরকারি তালিকা যাচাই করুন।
নির্ধারিত সময়ের আগে মেডিকেল করিয়ে টাকা নষ্ট করবেন না।
রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাই করুন।
চাকরির চুক্তিপত্র, বেতন, কাজের ধরন এবং নিয়োগকর্তার তথ্য বুঝে নিন।
টাকা দিলে রসিদ এবং লেনদেনের প্রমাণ রাখুন।
কলিং ভিসা বা চাকরির নিশ্চয়তার নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না।
সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা, অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং কর্মী পাঠানোর খরচ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট probashi.gov.bd এবং বোয়েসেলের ওয়েবসাইট boesl.gov.bd অনুসরণ করুন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দেশটির সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট imi.gov.my দেখা যেতে পারে।
সারকথা: ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে মেডিকেল পরীক্ষা শুরু এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু মেডিকেল ফি ও বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার মোট খরচের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বা তারিখকে নিশ্চিত বলে প্রচার করা ঠিক হবে না।
পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬ কবে চালু হবে?
২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ৩১ অক্টোবর মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের যাত্রা শুরু হতে পারে। তবে সবার কলিং ভিসা পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত নয়।
২. মালয়েশিয়া মেডিকেল করতে কত টাকা লাগে?
নতুন ব্যবস্থায় মেডিকেল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত সরকারি অঙ্ক পাওয়া যায়নি। অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা ও সরকারি ঘোষণা যাচাই করে ফি জেনে নেওয়া উচিত।
৩. মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা লাগবে?
বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে এটি চূড়ান্ত সরকারি হার নয়। বেসরকারি এজেন্সির খরচও আলাদাভাবে নির্ধারিত হতে পারে।
৪. ৩১ অক্টোবরের আগে মেডিকেল করলে কি রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে?
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখের আগে করা মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না। তাই অনুমোদিত কেন্দ্র ও নির্ধারিত সময় নিশ্চিত করে পরীক্ষা করানো জরুরি।
৫. মালয়েশিয়া কলিং ভিসার খবর কোথায় যাচাই করব?
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের probashi.gov.bd এবং বোয়েসেলের boesl.gov.bd ওয়েবসাইটে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগীর কথার ওপর নির্ভর করে টাকা দেওয়ার আগে তার অনুমোদন যাচাই করুন।
তানভির ইসলাম/