ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে খরচ কত, জানুন পুরো নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৯:৪১:১৮
প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে খরচ কত, জানুন পুরো নিয়ম

নিজের প্রাইভেট কার চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চাইলে প্রথমেই জানতে হবে, কোন কাগজপত্র লাগবে, বয়স কত হতে হবে এবং আবেদন করতে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির জন্য প্রয়োজন অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী, এ লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হয়। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে গাড়ি চালানোর উপযুক্ত হতে হবে।

তবে আবেদন করলেই লাইসেন্স পাওয়া যায় না। প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সব ধাপ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে কী কী যোগ্যতা লাগে?

প্রাইভেট গাড়ির জন্য অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

বয়স: আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।

শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা: গাড়ি চালানোর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

লার্নার লাইসেন্স: মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নিতে হবে।

পরীক্ষা: নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এখানে মনে রাখা জরুরি, ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর জন্য অপেশাদার লাইসেন্স প্রয়োজন। গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ বা পেশাগত কাজে নিয়োজিত হতে চাইলে পেশাদার লাইসেন্সের নিয়ম আলাদা।

প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যেসব কাগজপত্র লাগে

বিআরটিএর অনলাইন সেবা পোর্টালে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি জমা দিতে হয়। সাধারণভাবে যেসব নথি প্রস্তুত রাখতে হবে সেগুলো হলো—

১. জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) স্ক্যান কপি।

২. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র বা অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ।

৩. নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট।

৪. আবেদনকারীর বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ। এনআইডির ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউটিলিটি বিলের কপি লাগতে পারে।

৫. নির্ধারিত মাপের ছবি ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য।

৬. নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধের তথ্য।

অনলাইনে আবেদনের সময় কাগজপত্রের ফাইলের আকার ও ফরম্যাটের বিষয়ে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও নথি মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

প্রাইভেট কারের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করবেন যেভাবে

বিআরটিএর সেবা বাতায়ন বা BSP পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

১. বিআরটিএর ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন

প্রথমে বিআরটিএর সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন:

https://bsp.brta.gov.bd/

সেখানে নিবন্ধন বা Registration অপশন থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে লগইন করুন।

২. লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনসংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন। এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য পূরণ করতে হবে।

প্রাইভেট কারের জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির শ্রেণি বা ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। একাধিক শ্রেণির যান চালানোর অনুমতি চাইলে সেই অনুযায়ী ক্যাটাগরি নির্বাচন ও ফি দিতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড ও ফি পরিশোধ করুন

নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।

এরপর পোর্টালে দেখানো নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে লার্নার লাইসেন্স বা আবেদনসংক্রান্ত কপি সংরক্ষণ করুন।

৪. গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিন

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন, সড়কের সংকেত, পার্কিং এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়ম শেখা জরুরি।

বিআরটিএর প্রকাশিত প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণের পর নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষার তারিখ ও নির্দেশনা আবেদনকারীর জন্য নির্ধারিত হবে।

৫. লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিন

নির্ধারিত দিনে বিআরটিএর পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিন ধরনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

লিখিত পরীক্ষা: ট্রাফিক আইন, সড়কের সংকেত, গাড়ি চালানোর নিয়ম ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

মৌখিক পরীক্ষা: সড়ক আইন, ট্রাফিক চিহ্ন ও গাড়ি চালানোর নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।

ব্যবহারিক পরীক্ষা: গাড়ি চালানোর দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে চলাচলের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

পরীক্ষার দিন লার্নার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয় কপি ও বিআরটিএর নির্দেশনায় চাওয়া কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

৬. পরীক্ষায় পাসের পর স্মার্ট কার্ডের আবেদন

নির্ধারিত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিআরটিএ আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে।

লাইসেন্স প্রস্তুত হলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়। এরপর বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করা যায়।

প্রাইভেট কারের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

বিআরটিএর প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা। প্রাইভেট কারের জন্য শুধু একটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করলে এই ফি প্রযোজ্য। দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন করলে শিক্ষানবিশ ফি ৭৪৮ টাকা।

অন্যদিকে, অপেশাদার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর জন্য বিআরটিএর হালনাগাদ সেবা-তথ্যে ৪ হাজার ৬২৮ টাকা এবং ডাকযোগে সরবরাহের জন্য ৬০ টাকা উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু প্রাইভেট কারের এক ক্যাটাগরিতে নতুন অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে হিসাবটি হলো—

শিক্ষানবিশ লাইসেন্স: ৫১৮ টাকা

স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স: ৪ হাজার ৬২৮ টাকা

ডাকযোগে সরবরাহ: ৬০ টাকা

মোট: ৫ হাজার ২০৬ টাকা

এ হিসাবের বাইরে মেডিকেল সার্টিফিকেট, ছবি, যাতায়াত এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের প্রযোজ্য চার্জ থাকতে পারে। ফি সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা জমা দেওয়ার আগে BSP পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি দেখে নেওয়া উচিত।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?

বিআরটিএর প্রকাশিত ফি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত নিয়মে নবায়ন করতে হয়।

লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নবায়নের জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর নবায়ন করলে প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা দিতে হতে পারে।

লার্নার লাইসেন্স দিয়ে কি একা প্রাইভেট কার চালানো যাবে?

লার্নার লাইসেন্স হলো প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য দেওয়া শিক্ষানবিশ অনুমতি। এটি পূর্ণাঙ্গ অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়। তাই লার্নার লাইসেন্স হাতে পেলেই পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সধারীর মতো স্বাধীনভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না।

প্রশিক্ষণের সময় বিআরটিএর প্রযোজ্য নিয়ম ও শর্ত মেনে চলতে হবে। মূল লাইসেন্স পাওয়ার আগে একে পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

প্রাইভেট কারের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে প্রথমে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এরপর বিআরটিএর BSP পোর্টালে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন, নির্ধারিত ফি পরিশোধ, প্রশিক্ষণ এবং লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং বিআরটিএর পোর্টালে সর্বশেষ ফি ও নির্দেশনা যাচাই করা হলে প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. প্রাইভেট কারের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বয়স কত হতে হয়?

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

২. প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে কতটুকু পড়াশোনা প্রয়োজন?

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস।

৩. প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে মোট কত টাকা লাগে?

এক ক্যাটাগরির অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রকাশিত ফি অনুযায়ী মোট ৫ হাজার ২০৬ টাকা—লার্নার ফি ৫১৮ টাকা, স্মার্ট কার্ড ফি ৪ হাজার ৬২৮ টাকা এবং ডাক খরচ ৬০ টাকা। পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

৪. লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার কত দিন পর পরীক্ষা দিতে হয়?

বিআরটিএর প্রকাশিত প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণের পর লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ বিআরটিএ নির্ধারণ করে।

৫. প্রাইভেট কারের লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?

অপেশাদার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী নবায়ন করতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

৩ জেলায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, কারণ কী?

৩ জেলায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, কারণ কী?

ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে... বিস্তারিত