বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আচরণ দেখে অবাক ক্রিকেট বিশ্ব, চলুন জেনে নেই
যে টুর্নামেন্টকে একসময় বিসিবিই আইপিএলের পর দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্ট বলে দাবি করেছিল, এখন তারা হতাশ সুরে বলছে যে টুর্নামেন্ট বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিপিএলের বর্তমান লড়াই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট-বিশ্বে টিকে থাকার।
ফেসবুকে ছবি দেখে অবাক হলাম। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুটি রিকশা ভ্যান ঢুকেছে। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের কিট ব্যাগ, আইস বক্স ইত্যাদি বোঝাই একটি ভ্যান! সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল। ফ্র্যাঞ্চাইজি কিছু করেছে কি না জানা নেই, তবে বিপিএলের বাকি ছবি নষ্ট করার জন্য ওই একটি ছবিই যথেষ্ট।
ভ্যান-ভ্যান নয়, ভ্যানের কথা বলি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দুই দিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সামনের চত্বরটিকে আন্তঃনগর বাসস্ট্যান্ডের মতো দেখাচ্ছিল। ক্রিকেটারদের নিয়ে বড় বড় বাস আসছে-যাচ্ছে। কিন্তু কোনো বাসেই টিম ব্র্যান্ডিং নেই। কিন্তু বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাসগুলো সবসময়ই চোখে পড়ার মতো। রাস্তায় চলাচলকারী ওই বাসগুলোতে দেশি-বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের ছবি ও রঙিন পোশাক দেখে মানুষ বলত অমুক দল ওখানে যায়।
বিপিএল এখন বিসিবির মধ্যে একটি নেতিবাচক পরিচয় অর্জন করেছে । এই বিবেচনায় বিপিএলের পুরো নাম হওয়া উচিত 'বাংলাদেশ পেন লিগ'। এখন এসব বলা যাবে না।
বিপিএল বাংলাদেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, যেখানে বিখ্যাত বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলতে আসেন। ধারাভাষ্যকক্ষে বিদেশি তারকারাও রয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচের শেষে আতশবাজি এবং মাঠে জোরে গান বাজানো হয়। এবারের বিপিএলে প্রচারেও রেখেছে বিশেষ উদ্দেশ্য। লোগোটি রিকশা পেইন্টিং-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা টেলিভিশন সম্প্রচার থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সব কিছুকে কভার করে।
কিন্তু বিসিবি এবং টুর্নামেন্টের কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির অপেশাদারিত্বের কারণে বিপিএলে ইতিমধ্যেই যে নেতিবাচকতা কলঙ্কিত হয়েছে তা রিকশা পেইন্টিং দিয়ে আড়াল করা যাবে না। যে টুর্নামেন্টকে একসময় বিসিবিই আইপিএলের পরে দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্ট বলে দাবি করেছিল, এখন তারা হতাশ সুরে বলছে যে টুর্নামেন্ট বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিপিএলের বর্তমান লড়াই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট-বিশ্বে টিকে থাকার লড়াই। সেই যুদ্ধে বিসিবির সহযোগী ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ভূমিকার একটি ছোট্ট নমুনা শুরুতেই দেওয়া হল। এরকম উদাহরণ আরো আছে।
মাটি থেকে শুরু করা যাক। পুরোপুরি ফিট না হলেও সিলেট স্ট্রাইকার্সে মাশরাফি বিন মুর্তজার খেলা নিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের তোলা প্রশ্ন এড়াতে পারেননি মাশরাফি নিজেই।
সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি হয়তো দলের অভ্যন্তরে কিছু একটার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে 'সব কিছু বলা যাবে না'; কিন্তু কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে কোনো দলই এ ধরনের অপেশাদারি ভাবনা অবলম্বন করতে পারে না। বোলিংয়ে মাশরাফির দুই-তিন পেস বিপিএলকে ছোট করছে বলে মনে করেন আশরাফুল। কারণ, সারা বিশ্ব দেখছে, এভাবেও বিপিএল খেলা যায়।
মাঠের বাইরে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির একজন খেলোয়াড় নিজেই বিদেশি খেলোয়াড়দের এজেন্ট। কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে আনার পর তিনি দেখলেন ভালো স্পন্সরের অভাবে তিনি যে খেলোয়াড়দের নিয়ে এসেছেন তাদের সঠিক পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে; এরপর স্পন্সর সংগ্রহে নেমে পড়েন তিনি! একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বড় নামী খেলোয়াড় থাকা সবসময় স্পনসরদের আকর্ষণ করবে। তা না হলে টাকা কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে ভাবতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। কিন্তু যখন বড় নামী খেলোয়াড়দের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাদের নাম লিখতে হয় এবং এটি তৈরি করতে হয়, তখন সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজ কী?
আগের বিপিএলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের খেলার জন্য মাত্র এক সেট জার্সি দিয়েছিল। তবে এবার দলের অনুশীলনে গিয়ে একজন খেলোয়াড়ের ফিল্ড ফি দেওয়ার নজির সামনে এসেছে। সর্বশেষ ঘটনা হলো সিলেটে দলের বিদেশি খেলোয়াড়দের চাপে গতকাল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হোটেল বদলানোর। সিলেটে দলটি আগে থাকার জন্য নেওয়া হোটেলে থাকতে পারলেও সেখান থেকে বিপিএল খেলা যাবে না। মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই হোটেলে থাকতে চাননি ক্রিকেটাররা। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি অন্য হোটেলে ঠিকানা পরিবর্তন করে।
বিপিএল শুরুর আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আলাদাভাবে অনুশীলন করলেও টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই মিরপুর একাডেমি মাঠে শুরু হয় বিতর্ক।বিপিএল শুরুর আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আলাদাভাবে অনুশীলন করলেও টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই মিরপুর একাডেমি মাঠে গোলযোগ সৃষ্টি করেন শামসুল হক।বিসিবি ইতিমধ্যেই বিপিএলের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে যেন এই জুটিতে বলার কিছু নেই। বিপিএল এভাবেই চলবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।” তবে তার কথায় একটা আশাবাদও রয়েছে। দেশের ক্রিকেটের জন্য কিছু করার জন্য তারা নতুন খেলোয়াড় আনতে পারে। বড় বড় কর্পোরেট হাউসগুলো বিপিএলে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম ওয়ানডে: শেষ ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: শরিফুলের প্রথম আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- বিনিয়োগকারী ঝুঁকিতে! স্বল্প মূলধনীর শেয়ারে বিপদ
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: আবারও শরিফুলের আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬)
- ডিএসই সূচকে এপ্রিলেও নেই নতুন মুখ: আইপিও খরায় বড় ধাক্কা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬)
- সাতসকালে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?