Md Razib Ali
Senior Reporter
বিনিয়োগকারী ঝুঁকিতে! স্বল্প মূলধনীর শেয়ারে বিপদ
শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আর্থিক ভিত্তি নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পেশ করা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে লভ্যাংশ বণ্টন ও স্থায়ী সম্পদের হিসাবে বড় ধরনের গোলমাল ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
অনিয়মের উৎস ও বিএসইসির পদক্ষেপ
২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীতে নিরীক্ষক কোম্পানিটির হিসাব নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ বা 'এমফাসিস অব ম্যাটারস' প্রদান করেছেন। এতে দেখা গেছে, লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি এবং কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের তথ্যেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোস্তফা মেটালের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চেয়েছে কমিশন। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি বিশদভাবে খতিয়ে দেখে দোষীদের শনাক্ত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক হিসাবে লভ্যাংশের ঘাটতি
বিএসইসির চিঠিতে উঠে আসা সবচেয়ে বড় অসংগতি হলো লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত। কোম্পানির আর্থিক নোট (২০.০১) অনুযায়ী, তাদের বকেয়া লভ্যাংশের পরিমাণ ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি। অথচ আইন অনুযায়ী লভ্যাংশ ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পৃথক ব্যাংক হিসাবে পুরো অর্থ জমা রাখার কথা থাকলেও কোম্পানিটির নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৬ টাকা। এই ঘাটতি সরাসরি সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন এবং কোম্পানির ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের বিশৃঙ্খলাকে স্পষ্ট করে।
স্থায়ী সম্পদের অস্বচ্ছতা
আর্থিক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় বড় ত্রুটি পাওয়া গেছে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ বা ফিক্সড অ্যাসেট নিয়ে। কোম্পানিটি তাদের সম্পদের কোনো হালনাগাদ রেজিস্টার বা তালিকা সংরক্ষণ করেনি। এছাড়া আলোচিত বছরে সম্পদের বাজারমূল্য যাচাই বা পুনর্মূল্যায়নও করা হয়নি। এর ফলে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ডিএসইর তদন্ত ও সময়সীমা
বিএসইসির প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিএসই এই অনিয়মের বিষয়ে কোম্পানি এবং নিরীক্ষক—উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করবে। এই জালিয়াতি বা অবহেলার জন্য পরিচালনা পর্ষদ, এমডি, সিএফও কিংবা কোম্পানি সচিবের কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিএসইসিতে এই তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর এমন লুকোচুরি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পুঁজিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। লভ্যাংশের টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে না রাখা এবং সম্পদের সঠিক হিসাব না থাকা করপোরেট সুশাসনের বড় অভাব। সঠিক তথ্যের অভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: শরিফুলের প্রথম আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: আবারও শরিফুলের আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
- ডিএসই সূচকে এপ্রিলেও নেই নতুন মুখ: আইপিও খরায় বড় ধাক্কা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬)
- হজ ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা: আমিরাতে ৬ দিনের ছুটি!