Md Razib Ali
Senior Reporter
সংসদে নতুন আইন পাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সব সম্ভাবনা এখন আইনত সমাপ্ত। দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দলটির যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে কঠোর এক নতুন আইন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ অনুমোদনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির রাজনৈতিক উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হলো।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। সংসদের এই নতুন আইন সেই সিদ্ধান্তকে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রদান করল।
প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা
পাস হওয়া নতুন আইনের ৩ ধারায় দলটির ওপর অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা সত্তার পক্ষে কোনো প্রকার প্রচার চালানো যাবে না। এর আওতায় রয়েছে:
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা মুদ্রণ মাধ্যমের কোনো প্রচারণা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির পক্ষে জনমত গঠন।
মিছিল, জনসভা, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদান।
আইন অমান্য করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সংসদে নাটকীয় বিতর্ক ও স্পিকারের কঠোর অবস্থান
বিলের ওপর আলোচনার সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এটি পর্যালোচনার জন্য সময় দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিলের কপি পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে এত বড় একটি আইন পাস করা যৌক্তিক নয়। বিলটি পর্যালোচনার জন্য তিনি আরও সময় প্রার্থনা করলেও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা নাকচ করে দেন।
স্পিকার জানান, বিলের ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব সঠিক সময়ে না আসায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এখন আর আলোচনার অবকাশ নেই। এরপরই স্পিকার বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
‘গণহত্যাকারী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, “এটি মূলত একটি গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পথ রুদ্ধ করার আইন। সাধারণ মানুষ এবং এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই সংশোধনী।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।
চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই দলটির কার্যক্রম গুটিয়ে যেতে থাকে।
২৩ অক্টোবর ২০২৪: প্রথম ধাপ হিসেবে দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।
১১ মে ২০২৫: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে।
৮ এপ্রিল ২০২৬: সংসদের এই অনুমোদনের মাধ্যমে সেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এখন স্থায়ী আইনি রূপে আত্মপ্রকাশ করল।
এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, দেশের যেসব এলাকায়
- আজকের খেলার সময়সূচি: রিয়াল বনাম বায়ার্ন
- ড্র করলেই ইতিহাস! বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ
- এক লাফে বাড়লো সোনার দাম, জানুন ২২ স্বর্ণের দাম
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬)
- বিসিবিতে বড় ধামাকা: তামিম ইকবালকে নতুন সভাপতি ঘোষণা
- এডহক কমিটিতে থাকা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
- মাদ্রিদ বধের ছকে বায়ার্ন: খেলবেন কি হ্যারি কেইন?
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (৭ এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো
- খেলার মাঝেই নিখোঁজ ৭ ফুটবলার! তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল
- অন্য দেশে জন্মেও যারা বিশ্বকাপ জেতালেন: অজানা ইতিহাস
- নতুন এডহক কমিটির প্রথম সভা আজকেই
- ৬০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৩ জেলায় বড় সতর্কতা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ এপ্রিল ২০২৬