ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

সংসদে নতুন আইন পাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:০৮:৫৭
সংসদে নতুন আইন পাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সব সম্ভাবনা এখন আইনত সমাপ্ত। দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দলটির যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে কঠোর এক নতুন আইন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ অনুমোদনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির রাজনৈতিক উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হলো।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। সংসদের এই নতুন আইন সেই সিদ্ধান্তকে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রদান করল।

প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা

পাস হওয়া নতুন আইনের ৩ ধারায় দলটির ওপর অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা সত্তার পক্ষে কোনো প্রকার প্রচার চালানো যাবে না। এর আওতায় রয়েছে:

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা মুদ্রণ মাধ্যমের কোনো প্রচারণা।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির পক্ষে জনমত গঠন।

মিছিল, জনসভা, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদান।

আইন অমান্য করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সংসদে নাটকীয় বিতর্ক ও স্পিকারের কঠোর অবস্থান

বিলের ওপর আলোচনার সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এটি পর্যালোচনার জন্য সময় দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিলের কপি পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে এত বড় একটি আইন পাস করা যৌক্তিক নয়। বিলটি পর্যালোচনার জন্য তিনি আরও সময় প্রার্থনা করলেও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা নাকচ করে দেন।

স্পিকার জানান, বিলের ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব সঠিক সময়ে না আসায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এখন আর আলোচনার অবকাশ নেই। এরপরই স্পিকার বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

‘গণহত্যাকারী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, “এটি মূলত একটি গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পথ রুদ্ধ করার আইন। সাধারণ মানুষ এবং এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই সংশোধনী।”

মন্ত্রী আরও জানান, এই আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।

চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই দলটির কার্যক্রম গুটিয়ে যেতে থাকে।

২৩ অক্টোবর ২০২৪: প্রথম ধাপ হিসেবে দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।

১১ মে ২০২৫: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে।

৮ এপ্রিল ২০২৬: সংসদের এই অনুমোদনের মাধ্যমে সেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এখন স্থায়ী আইনি রূপে আত্মপ্রকাশ করল।

এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানভির ইসলাম/

ট্যাগ: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ Bangladesh political news today Bangladesh Parliament News আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ সংসদে নতুন আইন পাস আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন আইন ২০২৬ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ডা. শফিকুর রহমান সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদ সংবাদ অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন আইন আওয়ামী লীগের অনলাইন প্রচারণা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খবর আওয়ামী লীগের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগ কি চিরতরে নিষিদ্ধ হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নতুন আইন বাংলাদেশে কোন কোন দল নিষিদ্ধ বর্তমান সরকারের আওয়ামী লীগ বিরোধী আইন আজকের সংসদ সংবাদ আওয়ামী লীগ Awami League banned Awami League politics banned in Bangladesh Anti-Terrorism Amendment Act 2026 Awami League activities permanent ban Home Minister Salauddin Ahmad Dr. Shafiqur Rahman Parliament speech Speaker Hafiz Uddin Ahmad news Awami League registration status Political party ban Bangladesh Awami League rallies banned Awami League social media ban Awami League permanent ban law Anti-Terrorism Act 2026 Bangladesh

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ