ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

আর কত দিন চলবে পেট্রল-অকটেনে, জানাল জ্বালানি বিভাগ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৫:৫৬:০১
আর কত দিন চলবে পেট্রল-অকটেনে, জানাল জ্বালানি বিভাগ

বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী দুই মাস দেশে পেট্রল ও অকটেনের কোনো ঘাটতি হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির এই আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

জ্বালানি ভাণ্ডারে বর্তমান মজুত কত?

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব জানান, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমান মজুত নিম্নরূপ:

ডিজেল: ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন।

অকটেন: ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন।

পেট্রল: ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন।

সরকার কেবল বর্তমান সরবরাহ নিশ্চিত করতেই ক্ষান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অন্তত ৩ মাসের ব্যাকআপ মজুত গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

লিটারে ৫৫ টাকা লোকসান দিচ্ছে সরকার

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতি লিটার ডিজেল বর্তমানে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত খরচ পড়ে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে সরকার ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি বহন করছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে সরকারকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক দায়ভার নিতে হচ্ছে।

জনস্বার্থ বিবেচনা করে এপ্রিল মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ।

অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৪২টি স্পটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার যে প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, তা পরিবর্তন না করলে সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রযুক্তিনির্ভর 'ফুয়েল পাস' ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে দেশে 'ফুয়েল পাস' পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার আসাদ গেট সংলগ্ন সোনার বাংলা এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এই প্রযুক্তিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। সফলভাবে পরীক্ষা শেষ হলে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এছাড়া, এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বজুড়ে থাকলেও, যুদ্ধ থামলে সরকার সবকিছু বিবেচনা করে তেলের দামের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ