অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ৮ বলে ডুবলো ভারত
দুই বছর আগে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) যেখানে ৯০,২৯৩ দর্শক বিরাট কোহলির নামে স্লোগান দিয়েছিল, এবারের বক্সিং ডে টেস্টে দৃশ্যটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কোহলিকে এবার একই মাঠে দর্শকদের কাছ থেকে বিদ্রুপ শুনতে হয়েছে।
এমসিজির গ্যালারি থেকে আসা শব্দ যেন ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো, যেখানে প্রতিটি উপাদান যোগ করার পর তা বিস্ফোরণের দিকে যায়। এই ম্যাচে সেই বিস্ফোরণটি ঘটে যখন কোহলি ৩৬ রানে আউট হন।
ম্যাচের শুরুতেই সাম কনস্টাসের সাথে কোহলির কাঁধের ধাক্কা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও এটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি, তবে পরে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর আগে, একটি ভুল কলের কারণে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের সেরা খেলোয়াড় যশস্বী জয়সওয়ালের রান-আউট হওয়া পরিস্থিতি আরও তিক্ত করে তোলে। প্যাট কামিন্সের নিখুঁত থ্রোতে রান নেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না, যা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের শেষ পাঁচ ওভার ছিল নাটকীয়। মিচেল স্টার্কের অসাধারণ বোলিং এবং স্লিপ কর্ডনে অতিরিক্ত ফিল্ডারদের উপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে কোহলির ব্যাটিং। তিনি শুরুতে যথেষ্ট সংযমী ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ভুল শট তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটায়।
কোহলির এই পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়ার ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো তাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে। "ক্লাউন কোহলি" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন সরাসরি তার মানসিক ও কৌশলগত ভুলের প্রতি ইঙ্গিত করে। কোহলির ভুলগুলো নিয়ে বিশেষ করে তার রান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিতর্কিত আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
কোহলির ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি তার দ্রুত সিঙ্গেল নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে তার এই কৌশল বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এদিনও একই কারণে তার দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যান আউট হন।
তার আগের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান-আউট হওয়া এবং পার্থে ক্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে শট খেলার চেষ্টা। এ ধরনের ভুলগুলো তার ব্যাটিংয়ের ছন্দ নষ্ট করেছে।
স্টিভেন স্মিথ ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোহলির ইনিংস নিয়ে বলেন, "তিনি খুবই ধৈর্যশীল ছিলেন এবং ভালো ব্যাটিং করছিলেন। তবে স্কট বোল্যান্ডের একটি বল তাকে পরাস্ত করে। এটি তার খেলা একমাত্র ভুল বল ছিল।"
কোহলির ব্যাটিং ছিল সময়ের মধ্যে একটি নাটকীয় গল্পের মতো। তার ইনিংসের শুরুতে ছিল সংযম এবং প্রতিশ্রুতি, কিন্তু শেষ দিকে ভুলে ভরা। এমসিজিতে কোহলিকে বিদ্রুপ করার জন্য দর্শকরা গলা ফাটালেও, তিনি যেন সেই শব্দ শুনতেই পেলেন না। হয়তো তিনি নিজেই নিজের মনের ভেতর হারিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ম্যাচে কোহলি নিজের মানসিক এবং কৌশলগত স্থিরতা খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি কঠিন সময়।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ড্র করলেই ইতিহাস! বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি: রিয়াল বনাম বায়ার্ন
- বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, দেশের যেসব এলাকায়
- এডহক কমিটিতে থাকা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
- বিসিবিতে বড় ধামাকা: তামিম ইকবালকে নতুন সভাপতি ঘোষণা
- অন্য দেশে জন্মেও যারা বিশ্বকাপ জেতালেন: অজানা ইতিহাস
- মাদ্রিদ বধের ছকে বায়ার্ন: খেলবেন কি হ্যারি কেইন?
- নতুন এডহক কমিটির প্রথম সভা আজকেই
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ এপ্রিল ২০২৬
- ইয়ামালের পাশে ভিনিসিয়ুস: বর্ণবাদ রুখবে রিয়াল-বার্সা তারকা
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (৭ এপ্রিল ২০২৬)
- হাসিমুখে বিদায় নিতে চাই: বড় ঘোষণা দিলেন সাকিব