Alamin Islam
Senior Reporter
প্রতিদিন ১টি কলা খেলে কী ঘটে? জানুন চমকপ্রদ তথ্য
পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সুস্বাদু ফল হিসেবে কলার জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। সরাসরি খাওয়া ছাড়াও স্মুদি কিংবা বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরিতে এর ব্যবহার ব্যাপক। প্রোটিন এবং নানাবিধ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এই ফলটি নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মনে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন উঁকি দেয়। বিশেষ করে কলার মিষ্টতা রক্তে শর্করার মাত্রায় কেমন প্রভাব ফেলে কিংবা ডায়াবেটিস রোগীরা এটি খেতে পারবেন কি না— এই বিষয়গুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।
কলায় চিনির পরিমাণ ও পুষ্টির বিন্যাস
সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিকর এই ফলটিতে ঠিক কতটা চিনি থাকে? গবেষণায় দেখা যায়, একটি মাঝারি মানের কলায় (ওজন প্রায় ১১৮ গ্রাম) প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ প্রায় ১৪ গ্রাম। এই শর্করা মূলত সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজের মিশ্রণ। শুনতে চিনির পরিমাণ বেশি মনে হলেও, কলায় থাকা ফাইবার এই শর্করা শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে সুস্থ ব্যক্তিদের রক্তে হুট করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এছাড়া কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং শক্তির এক অনন্য উৎস। তবে মনে রাখা জরুরি, কলা যত বেশি পাকবে, তার স্টার্চ তত বেশি চিনিতে রূপান্তরিত হবে।
রক্তে শর্করার ওপর কলার প্রভাব কতটা?
কলায় বিদ্যমান কার্বোহাইড্রেট শরীরে গ্লুকোজ তৈরি করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারে। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে ফাইবার থাকায় গ্লুকোজ রক্তে মিশতে সময় নেয়, যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে।
মজার বিষয় হলো, কলার পরিপক্কতা বা পাকার ওপর এর শর্করার প্রভাব নির্ভর করে। কাঁচা বা আধা-পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে 'প্রতিরোধী স্টার্চ' থাকে, যা হজম হতে সময় নেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বৃদ্ধি করে। কিন্তু কলা পুরোপুরি পেকে গেলে স্টার্চ সরাসরি সরল চিনিতে পরিণত হয়, ফলে তা রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও দৈনিক কলার পরিমাণ
যারা ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কলা একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন একাধিক কলা খেলে ওজন বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হয়। একটি কলায় প্রায় ১০০ থেকে ১১০ ক্যালোরি থাকে। দুধ, ওটস বা পিনাট বাটারের মতো ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবারের সাথে নিয়মিত কলা গ্রহণ করলে শরীরে মোট ক্যালোরির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
তবে সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি মাঝারি আকারের কলা খাওয়াই যথেষ্ট। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, পটাশিয়ামের আধিক্যের কারণে তাদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি কলা খেতে পারবেন?
ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য কলা নিষিদ্ধ নয়, তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে। কলার প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, কিন্তু এর ফাইবার আবার শর্করা শোষণে বাধা দেয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তে চিনির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা খুব বেশি পাকা কলার পরিবর্তে কিছুটা কম পাকা কলা বেছে নিতে পারেন।
কলা একটি শক্তিশালী পুষ্টির আধার হলেও নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি। পরিমিতি বোধই পারে এই সুস্বাদু ফলের পূর্ণ স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: জেনে নিন সময়সূচি, একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের খেলার সময়সূচি: ব্রাজিল বনাম জাপান
- শেষ ১৬ তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে, জানুন ম্যাচের সময়সূচি ও পরিসংখ্যান
- ভবিষ্যৎবাণী: কেপ ভার্দের কাছে কি হারবে আর্জেন্টিনা?
- চলছে ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আজ ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজ ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: লাইভ দেখার সহজ উপায়
- আজ ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- কিছুক্ষণ পর ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live