ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

বাংলাদেশ থেকে আইফোন ১৭ ও ১৭ প্রো কিনতে হলে যা জানা জরুরি

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২২ ১১:৪২:১৬
বাংলাদেশ থেকে আইফোন ১৭ ও ১৭ প্রো কিনতে হলে যা জানা জরুরি

অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৭ সিরিজ বিশ্ববাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও, বাংলাদেশের বাজার এখনো এর আনুষ্ঠানিক আগমনের অপেক্ষায়। তবে এই অপেক্ষার বাঁধ ভেঙেছে 'গ্রে মার্কেট' বা অনানুষ্ঠানিক আমদানি প্রক্রিয়ায়। রাজধানীর নামিদামি স্মার্টফোন কেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই আইফোন ১৭ মডেলগুলো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, আর ক্রেতাদের অভাবনীয় সাড়া এই বাজারকে করে তুলেছে সরগরম।

যেখানে মিলছে আইফোন ১৭:

দেশের প্রধান প্রধান স্মার্টফোন কেনাকাটার গন্তব্য, যেমন বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, টোকিও স্কয়ার এবং শাহ আলী প্লাজা – সবখানেই এখন আইফোন ১৭-এর ঝলমলে উপস্থিতি। যদিও এর দাম কিছুটা বেশি, তবুও প্রযুক্তিপ্রেমীরা নতুন আইফোন হাতে পেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না।

বর্তমান বাজার মূল্য এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

বর্তমানে আইফোন ১৭ (২৫৬ জিবি) মডেলটি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রো সংস্করণ, আইফোন ১৭ প্রো, ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সর্বোচ্চ চাহিদার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের দাম ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিক্রেতারা আশাবাদী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নামতে পারে।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ আইফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা দেশের মোট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এই পরিসংখ্যান অ্যাপলের প্রতি গভীর নির্ভরশীলতাকেই তুলে ধরে।

গ্রাহক ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া:

বসুন্ধরা সিটিতে আইফোন ১৭ প্রো কিনতে আসা অঙ্কন আহমেদ জানান, "আমাকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি দিতে হয়েছে। দাম বেশি হলেও, এই ফোনের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারিনি।"

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তাহমিদ মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, "অ্যাপলের প্রতি ভোক্তাদের এই আনুগত্য এতটাই শক্তিশালী যে, আনুষ্ঠানিক সমর্থন না থাকলেও প্রিমিয়াম দামে পণ্য কিনতে বাংলাদেশি ক্রেতারা পিছপা নন। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ অফিসিয়াল অভিজ্ঞতা এখনো তাদের নাগালের বাইরে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "ক্রেতারা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন, অথচ বিক্রয়োত্তর সেবা বা ওয়ারেন্টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবুও অ্যাপলের জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে গেছে।"

গ্রে মার্কেট থেকে আইফোন কেনার সম্ভাব্য ঝুঁকি:

গ্রে মার্কেট থেকে আইফোন কেনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে, যা ক্রেতাদের বিবেচনায় রাখা উচিত:

অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নেই: অ্যাপলের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে কোনো ত্রুটির জন্য মেরামতের সুযোগ পাওয়া যায় না।

নকল বা রিফার্বিশড পণ্যের ঝুঁকি: বাজারে অনেক সময় নকল বা পুরনো রিফার্বিশড সেট আসল বলে চালিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সফটওয়্যার আপডেটে সমস্যা: কিছু মডেলে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত মেরামত খরচ: অফিশিয়াল সাপোর্ট না থাকায় কোনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন বা মেরামতের জন্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

সীমিত বিক্রয়োত্তর সেবা: ট্রাবলশুটিং বা প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য বিক্রেতার উপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয়, যা সবসময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইফোন ১৭:

আন্তর্জাতিক বাজারে আইফোন ১৭ সিরিজ, বিশেষ করে চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। প্রো ম্যাক্স মডেলটি বিশ্বব্যাপী বিক্রির শীর্ষে অবস্থান করছে, যা এর প্রিমিয়াম ফিচার এবং উন্নত কর্মক্ষমতার প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহের প্রতিফলন।

বাংলাদেশে আইফোন ১৭-এর এই অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, অ্যাপলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার। গ্রে মার্কেটের এই শক্তিশালী চাহিদা প্রমাণ করে, এদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অ্যাপল ব্র্যান্ডের প্রভাব কতটা গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

দুই লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা

দুই লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানায় নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে কোম্পানিটির বড়... বিস্তারিত