ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৪:২২:০০
মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং প্রত্যেক মুমিনের ওপর এটি পালন করা বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে এই ফরজ ইবাদত বাদ পড়লে পরকালে মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তবে অনেক সময় অসুস্থতা বা যৌক্তিক কারণে রোজা পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ইসলামে ‘কাজা’ আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, কেউ যদি তার জীবনের কাজা রোজাগুলো শেষ না করেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, তবে কি তার উত্তরাধিকারীরা সেই রোজাগুলো রেখে দিতে পারবেন?

কুরআনের নির্দেশনা ও কাজা রোজার বিধান

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা রমজানের গুরুত্ব এবং বিশেষ অবস্থায় শিথিলতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে। তবে কেউ যদি অসুস্থ থাকে কিংবা সফরে থাকে, তবে সে অন্য সময়ে এই সংখ্যা পূর্ণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং কঠোরতা পরিহার করতে চান।’

ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখার সতর্কতা

যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফরজ রোজা ত্যাগ করা মারাত্মক ক্ষতির বিষয়। কারণ রমজানের একটি রোজার যে আধ্যাত্মিক মর্যাদা, তা অন্য সময়ের হাজারো রোজা দিয়েও পূরণ করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি কেউ কোনো শরয়ি ওজর বা রোগ ব্যাধি ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ছেড়ে দেয়, তবে সে যদি সারা জীবনও রোজা রাখে, তবুও রমজানের ওই একটি রোজার সমতুল্য সওয়াব বা হক আদায় হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৩)

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা কি বৈধ?

ইসলামি আইন বিশারদ ও ফুকাহায়ে কেরামদের সুচিন্তিত মত হলো— একজনের রোজা অন্যজন রাখার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই। অর্থাৎ, মৃত ব্যক্তির অনাদায়ী রোজা যদি তার আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কেউ রেখেও দেয়, তবে সেটি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় হিসেবে গণ্য হবে না।

এই বিষয়ে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি ফয়সালা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। তাকে যখন অন্যের পক্ষ থেকে রোজা বা নামাজ আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কেউ অন্য কারো পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং কারো পক্ষ থেকে নামাজও পড়বে না।’ (মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদিস: ৯৪)

বিকল্প ব্যবস্থা: ফিদইয়া প্রদান

যদি কোনো ব্যক্তি কাজা রোজা রেখে ইন্তেকাল করেন, তবে তার স্বজনদের দায়িত্ব হলো সেই রোজার বদলা হিসেবে ‘ফিদইয়া’ বা মুক্তিপণ প্রদান করা। শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কাজা রোজার বিনিময়ে একজন অসহায় বা দরিদ্র মানুষকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়াতে হবে। কেউ চাইলে খাবারের সমপরিমাণ অর্থও সদকা করতে পারেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২০৭)

জীবিত থাকাকালীন প্রতিটি মুসলমানের উচিত তার ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো রোজা কাজা থাকলে এবং তা আদায়ের আগেই মৃত্যু এসে পড়লে, উত্তরাধিকারীদের উচিত দেরি না করে তার পক্ষ থেকে ফিদইয়া পরিশোধ করা।

তানভির ইসলাম/

ট্যাগ: Islamic News Ramadan 2026 নিউজ আপডেট মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা মৃত ব্যক্তির রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা মৃত ব্যক্তির অনাদায়ী রোজা কি অন্যজন রাখতে পারে? মৃত ব্যক্তির কাযা রোজা আদায়ের নিয়ম রোজার ফিদইয়া দেওয়ার নিয়ম মৃত ব্যক্তির রোজার ফিদইয়া কত? একজনের রোজা কি অন্যজন রাখা যায়? বদলি রোজা রাখার বিধান মৃত ব্যক্তির জন্য ফিদইয়া কাজা রোজা আদায়ের শরয়ি বিধান রমজানের কাজা রোজা ও ফিদইয়া রোজার মাসয়ালা মৃত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির নামাজ ও রোজা অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখা নিয়ে হাদিস ফাতাওয়া হিন্দিয়া রোজার বিধান আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এর ফতোয়া ইসলামি খবর মাসয়ালা Fasting for deceased person in Islam Can someone else fast for a dead person? Qaza fast of a deceased person ruling Can I fast on behalf of my dead parents? Is it permissible to fast for someone who died? Fidya for missed fasts of deceased Compensation for missed fasts in Islam How to pay fidya for dead person Amount of fidya for one fast Missed Ramadan fasts of the dead Ruling on missed fasts of the deceased (Hanafi) Qaza fast after death Substituting fasts for others in Islam Islamic view on someone fasting for someone else Fasting for deceased Qaza fast ruling Fidya in Islam

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ