Alamin Islam
Senior Reporter
মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন
রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং প্রত্যেক মুমিনের ওপর এটি পালন করা বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে এই ফরজ ইবাদত বাদ পড়লে পরকালে মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তবে অনেক সময় অসুস্থতা বা যৌক্তিক কারণে রোজা পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ইসলামে ‘কাজা’ আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, কেউ যদি তার জীবনের কাজা রোজাগুলো শেষ না করেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, তবে কি তার উত্তরাধিকারীরা সেই রোজাগুলো রেখে দিতে পারবেন?
কুরআনের নির্দেশনা ও কাজা রোজার বিধান
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা রমজানের গুরুত্ব এবং বিশেষ অবস্থায় শিথিলতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে। তবে কেউ যদি অসুস্থ থাকে কিংবা সফরে থাকে, তবে সে অন্য সময়ে এই সংখ্যা পূর্ণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং কঠোরতা পরিহার করতে চান।’
ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখার সতর্কতা
যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফরজ রোজা ত্যাগ করা মারাত্মক ক্ষতির বিষয়। কারণ রমজানের একটি রোজার যে আধ্যাত্মিক মর্যাদা, তা অন্য সময়ের হাজারো রোজা দিয়েও পূরণ করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি কেউ কোনো শরয়ি ওজর বা রোগ ব্যাধি ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ছেড়ে দেয়, তবে সে যদি সারা জীবনও রোজা রাখে, তবুও রমজানের ওই একটি রোজার সমতুল্য সওয়াব বা হক আদায় হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৩)
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা কি বৈধ?
ইসলামি আইন বিশারদ ও ফুকাহায়ে কেরামদের সুচিন্তিত মত হলো— একজনের রোজা অন্যজন রাখার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই। অর্থাৎ, মৃত ব্যক্তির অনাদায়ী রোজা যদি তার আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কেউ রেখেও দেয়, তবে সেটি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় হিসেবে গণ্য হবে না।
এই বিষয়ে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি ফয়সালা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। তাকে যখন অন্যের পক্ষ থেকে রোজা বা নামাজ আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কেউ অন্য কারো পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং কারো পক্ষ থেকে নামাজও পড়বে না।’ (মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদিস: ৯৪)
বিকল্প ব্যবস্থা: ফিদইয়া প্রদান
যদি কোনো ব্যক্তি কাজা রোজা রেখে ইন্তেকাল করেন, তবে তার স্বজনদের দায়িত্ব হলো সেই রোজার বদলা হিসেবে ‘ফিদইয়া’ বা মুক্তিপণ প্রদান করা। শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কাজা রোজার বিনিময়ে একজন অসহায় বা দরিদ্র মানুষকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়াতে হবে। কেউ চাইলে খাবারের সমপরিমাণ অর্থও সদকা করতে পারেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২০৭)
জীবিত থাকাকালীন প্রতিটি মুসলমানের উচিত তার ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো রোজা কাজা থাকলে এবং তা আদায়ের আগেই মৃত্যু এসে পড়লে, উত্তরাধিকারীদের উচিত দেরি না করে তার পক্ষ থেকে ফিদইয়া পরিশোধ করা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম ওয়ানডে: শেষ ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: শরিফুলের প্রথম আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- বিনিয়োগকারী ঝুঁকিতে! স্বল্প মূলধনীর শেয়ারে বিপদ
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: আবারও শরিফুলের আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬)
- ডিএসই সূচকে এপ্রিলেও নেই নতুন মুখ: আইপিও খরায় বড় ধাক্কা
- হজ ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা: আমিরাতে ৬ দিনের ছুটি!
- সাতসকালে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল কোথায়?