MD. Razib Ali
Senior Reporter
এক লাফে বাড়লো তেলের দাম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।
বাজার পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের উপাত্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৪ শতাংশ বা ১.১১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৮২.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তেলের দামে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আর দেখা যায়নি। পিছিয়ে নেই মার্কিন তেলের বাজারও; ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দর ১.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৫.৩৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
ইরান ও ইরাকের উৎপাদন ব্যাহত
মঙ্গলবার ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের মোট তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই অঞ্চল থেকেই সরবরাহ করা হয়।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাকেও অস্থিরতা চরমে। অভ্যন্তরীণ মজুত রাখার জায়গা না থাকা এবং প্রধান রপ্তানি পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি তাদের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দিয়েছে। এটি ইরাকের মোট সক্ষমতার অর্ধেক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, রপ্তানি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দৈনিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে কার্যত অচল। পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর টানা চতুর্থ দিনের মতো এই রুটটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক সংশয়
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী ‘এসকর্ট’ প্রদান করতে প্রস্তুত। এছাড়া বাণিজ্যিক ঝুঁকি কমাতে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিমা সুবিধা দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনের এই আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটছে না। বাজার বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মধ্যে কেবল সামরিক পাহারা দিয়ে কি আস্থা ফেরানো সম্ভব? উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান শুরু করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি আরামকো তাদের রপ্তানি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে লোহিত সাগর দিয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পরিস্থিতি
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। আজ বুধবার সরকারিভাবে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- ঢাকাসহ ৮ বিভাগে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- ওবায়দুল কাদেরের সেই ‘মাসুদ’ বদলি
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- এক ক্লিকেই কি বাড়বে ওয়াই-ফাই স্পিড? জেনে নিন বাস্তবতা
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম