MD Zamirul Islam
Senior Reporter
আবারও এক বন্ধ কোম্পানি শেয়ারবাজারের তালিকায় যুক্ত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃক পরিচালিত এক পরিদর্শনে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড-এর কারখানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকার খবর নিশ্চিত হলো। কোম্পানিটির কমপ্লায়েন্স এবং অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে উদ্বেগ ছিল, ডিএসই-এর এই রিপোর্ট সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল। এই তথ্য জনসমক্ষে আসার ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত নিষ্ক্রিয় বা অ-কার্যকর (নন-পারফর্মিং) কোম্পানির মোট সংখ্যা বেড়ে এখন ৩১-এ পৌঁছেছে।
শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বাস্তবিক পরিস্থিতি যাচাই করতে গত ২২ অক্টোবর ডিএসই-এর একটি পরিদর্শক দল ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গিয়েছিল। পরিদর্শনের ফলাফলে দেখা যায়, কারখানাটিতে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। স্টক এক্সচেঞ্জ পরে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়েছে।
অ-কার্যকর প্রতিষ্ঠানের তালিকা বৃদ্ধি
অতীতে বাজারে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে শেয়ারদরকে প্রভাবিত করার প্রবণতা বাড়ার কারণে ডিএসই তাদের ওয়েবসাইটে প্রাথমিকভাবে ৩০টি অ-কার্যকর বা বন্ধ কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। প্যাসিফিক ডেনিমস-এর নিষ্ক্রিয়তা নিশ্চিত হওয়ায় এখন এই তালিকাটি ৩১টি সংস্থায় উন্নীত হলো।
দীর্ঘকালীন আর্থিক জটিলতা এবং কমপ্লায়েন্সে ব্যর্থতা
প্যাসিফিক ডেনিমস-এর দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং বিধিমালা মেনে চলার ক্ষেত্রে সমস্যা আজকের নয়। কোম্পানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শেয়ারবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংস্থাটি তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত। এই আর্থিক দুর্বলতার পরিণতিস্বরূপ, কোম্পানিটি ৩০ জুন, ২০২৪ অর্থবছর শেষে ঘোষিত মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও তার শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করতে পারেনি। এর ফলস্বরূপ, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিএসই কঠোর হয়ে কোম্পানিটিকে সর্বনিম্ন 'জেড' ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনে এবং এর শেয়ার লেনদেন এখনও সেই ক্যাটাগরিতেই সীমাবদ্ধ।
আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় চরম গাফিলতি
আর্থিক তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও প্যাসিফিক ডেনিমস নিয়ম মানছে না। সর্বশেষ মার্চ ২০২৪-এ তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি আর কোনো নতুন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এমনকি ৩০ জুন, ২০২৫ অর্থবছর সমাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, ডিএসই-এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ অর্থবছরের কোনো আর্থিক প্রতিবেদন এখনও আপলোড করা হয়নি, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বচ্ছতার গুরুতর অভাব তুলে ধরে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর জুনে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে কোম্পানিটির উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও ২৪ জুন কারখানাটি পুনরায় চালু হয়েছিল বলে জানানো হয়, কিন্তু বর্তমান ডিএসই-এর পরিদর্শনে কারখানাটি ফের বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হলো।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে আতঙ্কের মধ্যেই যা বললেনবিএসইসি চেয়ারম্যান
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ কোম্পানির সুখবর
- অবশেষে sscresult 2026ফল প্রকাশের দিন-তারিখ জানাল বোর্ড
- সপ্তাহের শুরুতেই ফের পতন শেয়ারবাজারে, কারণ যা জানা গেল
- তিন বিমা কোম্পানির লাফ, বোর্ড সভা থেকে আর্থিক ফলাফল একনজরে
- সূচক পড়লেও যে ১০ শেয়ারে ক্রেতার হুড়োহুড়ি
- ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক
- সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর, ডিএসই আনল নতুন সুবিধা
- এক ক্যাচেই বেঁচে গেল আফ্রিদির ৩০ বছরের রেকর্ড
- মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুই কোম্পানির ইপিএস
- ৩০ জুলাই নয়, এসএসসির ২০২৬ এর রেজাল্ট নিয়ে নতুন তথ্য
- প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চাঙ্গা জুলাই, এগিয়ে যে ব্যাংক
- সূর্যবংশীর ঝড়ে রানের পাহাড় গড়ল ভারত
- মেসির অবসর নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন পারেদেস
- সূর্যবংশীর ঝড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের পথে ভারত