Alamin Islam
Senior Reporter
ওয়ানওয়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ট্রাভেল পাস কী, কেন দেওয়া হয়
বিদেশের মাটিতে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা বা মেয়াদ শেষ হওয়া যেকোনো পর্যটক বা প্রবাসীর জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তবে এমন সংকটকালীন মুহূর্তে আন্তর্জাতিক যাতায়াত সচল রাখতে উদ্ধারকর্তা হিসেবে কাজ করে ‘ট্রাভেল পাস’। এটি মূলত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে ভ্রমণের আইনি বৈধতা দেয়।
ট্রাভেল পাস কী এবং কাদের জন্য?
সহজ কথায়, ট্রাভেল পাস হলো সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন- জাতিসংঘ বা দূতাবাস) কর্তৃক ইস্যু করা একটি সাময়িক অনুমতিপত্র। এটি পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবে কাজ করলেও এর ব্যবহার ও সময়সীমা বেশ সীমিত। সাধারণত যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, কিংবা যাদের পাসপোর্ট চুরি হয়েছে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তাদের জরুরি প্রয়োজনে এই পাস দেওয়া হয়। এছাড়া শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য দলিল। এটি সাধারণত একমুখী ভ্রমণের জন্য এবং একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ইস্যু করা হয়।
পাসপোর্ট বনাম ট্রাভেল পাস: প্রধান পার্থক্যসমূহ
অনেকেই এই দুটি দলিলকে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু এদের মধ্যে কার্যগত ও মেয়াদি দিক থেকে বিশাল তফাত রয়েছে:
স্থায়িত্ব ও উদ্দেশ্য: পাসপোর্ট একটি দেশের নাগরিকত্বের স্থায়ী প্রমাণপত্র, যার মেয়াদ থাকে ৫ থেকে ১০ বছর। অন্যদিকে, ট্রাভেল পাস কেবল বিশেষ প্রয়োজনে বা দেশে ফেরার জন্য সাময়িকভাবে (৩ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদে) দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ: পাসপোর্ট কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার প্রদান করতে পারে। তবে ট্রাভেল পাস বা ‘লেসে-পাসে’ (Laissez-passer) সরকার ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট বা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) ইস্যু করতে সক্ষম।
কাঠামো: পাসপোর্টে ভিসা লাগানো বা ইমিগ্রেশন সিলের জন্য অনেকগুলো পাতা থাকে। কিন্তু ট্রাভেল পাস সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা একটি পাতার হয়ে থাকে, যেখানে ভিসার জন্য আলাদা কোনো জায়গা থাকে না।
কোন কোন অবস্থায় এই পাস পাওয়া যায়?
মূলত তিনটি প্রেক্ষাপটে ট্রাভেল পাস ব্যবহারের চল রয়েছে:
১. জরুরি প্রত্যাবাসন: প্রবাসে থাকাকালীন পাসপোর্ট নষ্ট বা হারিয়ে গেলে নিজ দেশে ফেরার জন্য ইমিগ্রেশন অফিস বা কনস্যুলেট থেকে এটি সংগ্রহ করা যায়। এটি পেতে সাধারণত ১ থেকে ৩ দিন সময় লাগে।
২. মানবিক কারণ: শরণার্থী বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য UNHCR ‘কনভেনশন ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করে, যা আইনিভাবে স্বীকৃত।
৩. বিশেষ বৈশ্বিক পরিস্থিতি: যুদ্ধকালীন সময়ে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতে ঐতিহাসিক ‘লেসে-পাসে’ ব্যবহৃত হতো। এছাড়া সাম্প্রতিক করোনা মহামারিতে যাত্রীদের স্বাস্থ্যতথ্য যাচাইয়ের জন্য ‘আইএটিএ (IATA) ট্রাভেল পাস’ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এমনকি চীন ও রাশিয়ার মতো দেশে দেশত্যাগের অনুমতির জন্যও বিশেষ ট্রাভেল পাস ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়ম
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ট্রাভেল পাসের ইতিহাস বেশ পুরোনো। এক সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতের জন্য ‘স্পেশাল পাসপোর্ট’ প্রচলিত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশনায় ২০১৪ সাল থেকে সেই বিশেষ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশির পাসপোর্ট না থাকলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটগুলো তাকে ‘ট্রাভেল পারমিট (TP)’ প্রদান করে। এর মাধ্যমে কেবল একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিরাপদে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পারেন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ‘জেড’ক্যাটাগরিতে নামলো দুই কোম্পানির শেয়ার
- এক লাফে কমলো স্বর্ণের দাম
- শেয়ারবাজারের সময়সূচিতে পরিবর্তন
- আজ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- চলছে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আওয়ামী লীগ কবে রাজনীতিতে ফিরতে পারবে যা জানালেন তারেক রহমান
- রমজানজুড়ে স্কুল বন্ধ থাকবে কিনা জানিয়ে দিল হাইকোর্ট
- ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় শাস্তি: ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো দুই কোম্পানির শেয়ার
- সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা যে দিন থেকে শুরু হবে
- আজ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজকের খেলার সময়সূচি:ভারত বনাম পাকিস্তান
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- শেয়ারবাজারে বড় পতন: বিপরীত স্রোতে এই ৫ কোম্পানি
- ৯ম পে স্কেল: প্রথম সভায় বড় সুখবর পেলেন চাকরিজীবীরা