ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

৯ম পে স্কেলে বিশাল পরিবর্তন: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৯:১০:২৮
৯ম পে স্কেলে বিশাল পরিবর্তন: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সুখবর

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বৈষম্যমুক্ত নতুন বেতন কাঠামো গঠনের লক্ষে গঠিত 'নবম জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫' তাদের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে গত বুধবারের নির্ধারিত সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে যে, খুব শীঘ্রই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

গ্রেড পরিবর্তন নিয়ে ৩টি ভিন্ন মত:

কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে জানা গেছে, বর্তমানের ২০টি গ্রেড নিয়ে সদস্যদের মধ্যে তিনটি প্রধান প্রস্তাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে:

১. গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা: একটি পক্ষ মনে করছেন, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখেই কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন ও অন্যান্য ভাতা যৌক্তিক হারে বাড়ানো উচিত।

২. ১৬টি গ্রেডে রূপান্তর: দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হলো বেতন বৈষম্য কিছুটা লাঘব করতে বর্তমানের ২০টি গ্রেডকে কমিয়ে ১৬টি গ্রেডে নিয়ে আসা। এতে নিচের ধাপের কর্মচারীরা আগের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।৩. ১৪টি গ্রেডে আমূল পরিবর্তন: সবচেয়ে সাহসী এবং আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব হলো গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৪টিতে নামিয়ে আনা। অনেক সদস্য মনে করছেন, এতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য একবারে দূর করা সম্ভব হবে এবং এটি একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি?

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন মনে করছে, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিম্নধাপের কর্মচারীরা উচ্চধাপের তুলনায় অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ছেন। এই প্রকট বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংগঠন থেকে আসা হাজার হাজার মতামত এখন ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’ করা হচ্ছে।সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার এই কমিশন গঠন করে এবং প্রথম সভার পর থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগেই কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, গ্রেড কমানোর এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে তারা বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক স্বস্তি পাবেন।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ