ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

MD Zamirul Islam

Senior Reporter

তারেক ও শফিকুরের সম্পদ কত? হলফনামায় এলো চমকপ্রদ তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১০:৪৯:০৫
তারেক ও শফিকুরের সম্পদ কত? হলফনামায় এলো চমকপ্রদ তথ্য

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের আমলনামা এখন জনসমক্ষে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে রাজনীতির শীর্ষ দুই নেতা—বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. মো. শফিকুর রহমানের আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত চিত্র।

হলফনামার তথ্যমতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আয়ের প্রধান উৎস যেখানে ব্যাংক বিনিয়োগ ও শেয়ার বাজার, সেখানে জামায়াত আমিরের আয়ের মূলে রয়েছে কৃষি খাত ও প্রাপ্ত দান।

তারেক রহমান: সঞ্চয় ও শেয়ারে বাড়ছে আয়

বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান। উচ্চমাধ্যমিক পাস এই নেতার বর্তমান পেশা রাজনীতি। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তাঁর মোট বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

আর্থিক খতিয়ান:

তারেক রহমানের প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার সম্পদের মধ্যে সিংহভাগই অস্থাবর। এর পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ রয়েছে সাড়ে ৬৮ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার টাকার বেশি। নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে রয়েছে আরও ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তবে তাঁর স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ নামমাত্র, যার অর্জনকালীন মূল্য ২ হাজার ৯৫০ টাকা।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর নামে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ২ একরের কিছু বেশি অকৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া উপহার হিসেবে পাওয়া ২.৯ শতাংশ জমির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত ঋণ নেই।

পারিবারিক আয়:

তারেক রহমানের স্ত্রী পেশায় চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের বার্ষিক আয় তাঁর স্বামীর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৩৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা আয় করেছেন এবং ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন।

মামলা থেকে মুক্তি:

এক সময়কার ৭৭টি মামলার বোঝা এখন আর নেই তারেক রহমানের কাঁধে। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, সবগুলো মামলা ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪২টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।

ডা. মো. শফিকুর রহমান: পেশায় চিকিৎসক, আয়ে কৃষি ও দান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ৬৭ বছর বয়সী এই নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস। পেশায় চিকিৎসক হলেও তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যার উৎস হিসেবে কৃষি ও দান-কে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদ ও বিনিয়োগ:

শফিকুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্যের ২১৭ শতক কৃষিজমি এবং একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি উল্লেখযোগ্য। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর কাছে নগদ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা রয়েছে। শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ আছে প্রায় ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তাঁর ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

সন্তানদের সম্পদ:

শফিকুর রহমানের স্ত্রীর কোনো সম্পদ না থাকলেও তাঁর তিন সন্তানের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। বড় দুই মেয়ের নামে যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ এবং ছেলের নামে ৩০ হাজার টাকার সম্পদ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি জটিলতা:

জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে এক সময় ৩৪টি মামলা থাকলেও বর্তমানে ৩২টি থেকেই তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে মাত্র দুটি ফৌজদারি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।

স্বচ্ছতার নতুন মানদণ্ড

২০০৮ সাল থেকে হলফনামা বাধ্যতামূলক হলেও এবারের নির্বাচনে তথ্যের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে ৮ ধরনের তথ্য দিতে হলেও এবার ১০ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ ও আয়করের তথ্য অন্যতম। মূলত ভোটাররা যাতে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর আমলনামা যাচাই করে ভোট দিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই নির্বাচন কমিশন এই তথ্যগুলো প্রকাশ করে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজস্ব প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে মাঠে ফিরছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ