ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

বাতিল হতে পারে হাজী আহমেদ ব্রাদার্সের লাইসেন্স: তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৮:১২:৩৫
বাতিল হতে পারে হাজী আহমেদ ব্রাদার্সের লাইসেন্স: তদন্তে বিএসইসি

দেশের শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলায় কোনো আপস নয়—এই বার্তাকে সামনে রেখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৪১ নম্বর ট্রেকধারী প্রতিষ্ঠান হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রতিষ্ঠানটির ব্রোকারেজ সনদ বা ট্রেক (TREC) বাতিলের লক্ষ্য নিয়ে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তদন্তের কারণ ও লক্ষ্য

সূত্রমতে, হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনার যোগ্যতা আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মূলত প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও দলিলাদি সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীকেও অবহিত করা হয়েছে।

তদন্ত দলের সদস্যবৃন্দ

বিএসইসির দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক শাহরিয়ার পারভেজ। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে কাজ করবেন সহকারী পরিচালক কুলসুম আক্তার এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত তথ্যসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে যা থাকছে

তদন্ত কমিটি মূলত তিনটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখবে:

১. আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: ব্রোকারেজ হাউজটির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা এবং দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী চলছে কি না।

২. আইনী পরিপালন: সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও নীতিমালা তারা কতটুকু মেনে চলছে।

৩. সনদ বাতিলের ভিত্তি: প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ট্রেক সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিশ্চিত করা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর বার্তা

বিএসইসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সুরক্ষা দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ব্রোকারেজ হাউজ যদি আইন লঙ্ঘন করে বা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কমিশন পিছপা হবে না। তদন্তে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকার বিধিমালা, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এই কমিটি কাজ করবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসির এই অনমনীয় অবস্থান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ