বিনিয়োগকারীদের টাকা না দিয়ে ডিলিস্টিং নয়: বিএসইসি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিয়ে সেগুলোকে বাজার থেকে সরানো যাবে না। অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এমন কঠোর শর্তারোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ‘ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
৩ প্রতিষ্ঠানকে সময় দান, ৬টির ভাগ্য নির্ধারণ
তালিকায় থাকা ৯টি রুগ্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুনানির পর প্রাইম ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি-কে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ৩ থেকে ৬ মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে বিলুপ্তির (লিকুইডেশন) পথে রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আভিভা ফাইন্যান্স বাদে এই তালিকার বাকি সব প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান অধিকারের দাবি
সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি (NAV) ঋণাত্মক হয়ে পড়লে লিকুইডেশন শেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো অর্থ পান না। তবে এসব এনবিএফআই-এর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) টাকার প্রয়োজন হতে পারে। বিএসইসি’র যুক্তি হলো, আমানতকারীরা যদি তাদের অর্থ ফেরত পান, তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কেন বঞ্চিত করা হবে? সমবণ্টনের নীতি থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্যও শেয়ার প্রতি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসি’র ১০ দফা সুপারিশের সারসংক্ষেপ:
১. শেয়ারের মূল্য পরিশোধ: লিকুইডেশনের আগেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রদানের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে। প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে তার অভিহিত মূল্য (১০ টাকা) অথবা বর্তমান বাজার দর—যেটি বেশি, সেটিই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রদান করতে হবে।
২. অসাধু পরিচালকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: অর্থ আত্মসাৎ কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোনোভাবেই এই ক্ষতিপূরণ পাবেন না। এই সুবিধা কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
৩. স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রবাহ: লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত স্বচ্ছ হতে হবে। ডিএসইতে লেনদেন বন্ধ এবং মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো লুকোছাপা চলবে না।
আস্থা সংকটের পূর্বাভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএসইসি’র এই চিঠি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের পাওনা নিশ্চিত না করে এসব প্রতিষ্ঠানকে ডিলিস্টিং বা তালিকাভুক্তি বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে আস্থার চরম সংকট তৈরি হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার প্রভাব পুরো আর্থিক খাতের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ২১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় যে ব্যাংক
- শেয়ার বাজারের পতন থামাতে অবকাঠামো সংস্কারের তাগিদ, সিসিপি নিয়ে প্রশ্ন
- দরপতন থামছে না, শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ডিএসই
- বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়া: গোল বন্যায় শেষ হলো ম্যাচ
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে, জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- এআই ঘিরে নতুন শঙ্কা, বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি ও চিপ শেয়ারে বড় ধাক্কা
- পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ
- আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা
- বিক্রির চাপে ডিএসই, কমেছে প্রধান তিন সূচক
- নিয়মিত ভেজানো ছোলা খাচ্ছেন? জানুন উপকারিতা, ক্ষতি ও কারা খাবেন
- সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল ইসি
- মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, যতো উইকেট ও যতো রান করলেন
- আজকের অবহাওয়ার খবর: বৃষ্টি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আজকের সোনার দাম: নতুন দামে গহনা বিক্রি হচ্ছে বাজারে
- তিন সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন ও কুপন পেমেন্টের রেকর্ড ডেট ঘোষণা