MD Zamirul Islam
Senior Reporter
শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও আমল
শবে বরাত বা ‘লাইলাতুল বরাত’ মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। ‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ। ‘শব’ মানে রাত আর ‘বরাত’ মানে মুক্তি বা মুক্তি পাওয়া। অর্থাৎ এই রাতটি গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার রাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই হলো পবিত্র শবে বরাত।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে শবে বরাতের গুরুত্ব, নামাজের নিয়ম ও আমল সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
কুরআনের রেফারেন্স:
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমি এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা করা হয়।” (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৪)। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে লাইলাতুল কদরকে বোঝানো হয়েছে। তবে কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে এটি শবে বরাত। যদিও ফয়সালার বিষয়টি এই রাতে শুরু হয় বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
হাদীসের রেফারেন্স:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো। কেননা এদিন সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন— আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিজিক অন্বেষণকারী? আমি তাকে রিজিক দেব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ ঘোষণা করতে থাকেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ১৩৮৮)
অন্য এক হাদীসে এসেছে, মুশরিক এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আল্লাহ তাআলা এই রাতে সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ৫৬৬৫)
শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও রাকাত সংখ্যা
শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নিয়ম বা আলাদা কোনো নামাজ নেই। এটি একটি নফল ইবাদতের রাত।
কত রাকাত নামাজ পড়তে হয়?
শবে বরাতের নামাজের কোনো নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা কুরআন বা হাদীসে নির্ধারিত নেই। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ২ রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ পড়তে পারেন। তবে সাধারণত ৮, ১২ বা ২০ রাকাত পড়ার প্রচলন রয়েছে। আপনি চাইলে ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়তে পারেন।
নামাজের নিয়ম:
১. অন্য নফল নামাজের মতোই এই নামাজ পড়তে হয়।
২. নিয়ত: ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি— আল্লাহু আকবার।’ (নিয়ত মনে মনে করাই যথেষ্ট)।
৩. প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যে কোনো সূরা মেলাতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় নিয়ে তিলাওয়াত ও ধীরস্থিরভাবে রুকু-সেজদা করা উত্তম।
শবে বরাতের বিশেষ আমলসমূহ
১. নফল নামাজ: দীর্ঘ কিরাত, দীর্ঘ রুকু ও সেজদার মাধ্যমে নফল নামাজ পড়া। এই রাতে তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবীহ নামাজ পড়ার বিশেষ সওয়াব রয়েছে।
২. কুরআন তিলাওয়াত: অর্থ বুঝে বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কালামের সাথে সময় কাটানো।
৩. তওবা ও ইস্তিগফার: এই রাত মূলত গুনাহ মাফের রাত। তাই বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার শপথ করা।
৪. জিকির ও দরুদ পাঠ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং নবীজির ওপর দরুদ শরীফ পাঠ করা।
৫. কবর জিয়ারত: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছিলেন। তাই সম্ভব হলে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা।
৬. রোজা রাখা: শাবান মাসের ১৫ তারিখে (শবে বরাতের পরের দিন) রোজা রাখা মুস্তাহাব। এছাড়া ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (আইয়ামে বীজ) রোজা রাখা সুন্নাত।
শবে বরাতের দোয়া
শবে বরাতের জন্য বিশেষ কোনো দোয়া হাদীসে নির্দিষ্ট নেই। তবে ক্ষমা পাওয়ার জন্য এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া যেতে পারে:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।”
(অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)
বর্জনীয় বিষয়সমূহ
শবে বরাত উপলক্ষে অনেক সময় বাড়াবাড়ি ও কুসংস্কার দেখা যায়, যা ইসলাম সমর্থন করে না। যেমন:
আতশবাজি বা পটকা ফোটানো।
আলোকসজ্জা বা ঘরবাড়ি সাজানো।
হালুয়া-রুটি নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি করা বা এটিকে ইবাদতের অংশ মনে করা।
জামাতের সাথে নফল নামাজ পড়া (নফল নামাজ একাকী পড়াই উত্তম)।
শবে বরাত হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ। আনন্দ-উৎসব নয়, বরং নিভৃতে ইবাদত, তওবা এবং কান্নাকাটির মাধ্যমেই এই রাত কাটানো উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রাতের বরকত নসিব করুন। আমীন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মনোস্পুল বিডির ব্যবসায়িক চমক: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম ফুলহ্যাম প্রিভিউ: জেনে নিন সম্ভাব্য একাদশ ও প্রেডিকশন
- অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি ২০২৫ ফল প্রকাশের আপডেট
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ক্রেতার চাপে বিক্রেতাশূন্য ১৬ কোম্পানির শেয়ার
- জিকিউ বলপেন: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- লিগ্যাসি ফুটওয়্যার: দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ
- ফেব্রুয়ারি মাসে ছুটি কত দিন কখন, কবে, জানুন তালিকা
- সায়হাম কটন: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের নগদ প্রবাহে উন্নতি: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ইন্দো-বাংলা ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সরকারি চাকরিজীবীদেরজন্য বড় সুখবর
- তিন দলের তিন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
- ফার কেমিক্যাল: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ