ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

ভারতকে বয়কটের হুমকি পাকিস্তানের! বিপাকে পড়ে বড় পদক্ষেপ নিল আইসিসি

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:১৩:২৬
ভারতকে বয়কটের হুমকি পাকিস্তানের! বিপাকে পড়ে বড় পদক্ষেপ নিল আইসিসি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২২ গজের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত লড়াই ‘ভারত বনাম পাকিস্তান’ ম্যাচ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি দিলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে নারাজ তারা। ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই মহারণকে রক্ষা করতে এবং পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে এবার সরাসরি মধ্যস্থতায় নামল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

সরকারের অনুমতি মিললেও কেন কাটছে না জট?

পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সবুজ সংকেত পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক বড় শর্ত। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন। পাকিস্তান সরকার এই কঠোর অবস্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও, পিসিবি এখনও আইসিসিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা লিখে জানায়নি। আর এই নীরবতার সুযোগ নিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

পিসিবিকে বোঝাতে আইসিসির ‘তুরুপের তাস’

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া মানে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। তাই পিসিবিকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আইসিসি। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সহকারী তথা সংস্থার ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে পাকিস্তানের সাথে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট সংস্থার এই প্রতিনিধি এখন লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কাজ করবেন। রেভস্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, খাজার ওপর বড় দায়িত্ব থাকছে যেভাবেই হোক পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচে মাঠে নামতে রাজি করানো।

সম্প্রচার স্বত্ব ও আইনি জটিলতার মুখে আইসিসি

পাকিস্তান যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আইসিসি শুধু ক্রিকেটীয় উন্মাদনা হারাবে না, পড়বে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর সাথে আইসিসির যে চার বছরের বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের কারণেই চুক্তির অঙ্ক আকাশচুম্বী হয়েছিল।

এখন যদি পাকিস্তান এই ম্যাচটি বয়কট করে, তবে সম্প্রচারকারীরা বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে আইসিসিকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে। মূলত এই বাণিজ্যিক ও আইনি বিপর্যয় এড়াতেই এখন মরিয়া হয়ে পিসিবিকে মানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি।

এখন দেখার বিষয়, ইমরান খাজার মধ্যস্থতায় পাকিস্তান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না, নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়াই কাটবে ভারত-পাক উত্তজনা।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ