MD. Razib Ali
Senior Reporter
আবারও ভমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ: উৎপত্তিস্থল কোথায়, মাত্রা কত?
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উত্তর জনপদ হঠাৎই কেঁপে উঠল তীব্র এক ঝাঁকুনিতে। হিমালয় পাদদেশীয় রাজ্য সিকিমে একের পর এক ভূমিকম্পের আঘাতে নির্ঘুম রাত কাটালেন বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের মানুষ। ভারতের সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ১০ বার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও ধারাবাহিকতা
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) নিশ্চিত করেছে যে, এবারের কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সিকিমের মাঙ্গান ও নামচি এলাকা।
সময়ানুক্রমিক কম্পনের মাত্রা:
রাত ১টা ৩৯ মিনিট: প্রথম ধাক্কাটি ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৬ মাত্রার।
রাত ২টা ৫০ মিনিট: দ্বিতীয় দফায় অনুভূত হয় ৪.৪ মাত্রার কম্পন।
ভোর ৩টা ৩১ মিনিট: তৃতীয় মাঝারি মাত্রার (৪.০) কম্পনে আবারও কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি।
ভোর ৬টা পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতায় আরও অন্তত ৫ থেকে ৬টি আফটারশক বা পরবর্তী মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত গ্যাংটকসহ সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ভূ-আলোড়ন সবচেয়ে বেশি ছিল।
কেন তীব্রতা ছিল বেশি?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এবারের ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল অত্যন্ত কম—ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। এই অগভীর অবস্থানের কারণেই রিখটার স্কেলে মাত্রা মাঝারি হওয়া সত্ত্বেও কম্পনের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি ভয়ংকর মনে হয়েছে।
আতঙ্কে ঘরছাড়া মানুষ: প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কম্পন অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নীলফামারীর এক বাসিন্দা সেই ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “বিছানায় শোয়া অবস্থায় হঠাৎ মনে হলো ছাদটা মাথায় ভেঙে পড়বে। প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম, পরে বুঝতে পারি এটা ভূমিকম্প।” এই আতঙ্কে অনেকেই মধ্যরাতেই খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
হিমালয় অঞ্চলের ‘ফল্ট লাইন’ ও বিশেষজ্ঞ মত
ভূ-তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সিকিম ও তৎসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি অত্যন্ত সক্রিয় একটি ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত। এই অঞ্চলে বড় ধরনের কম্পনের পর ছোট ছোট একাধিক আফটারশক হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে ঘনঘন এই কম্পন মাটির নিচে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রবণতা
উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই বাংলাদেশে ভূ-কম্পনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। একই দিনে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত প্রকম্পিত হয়েছিল।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের সোনার দাম: (রবিবার, ২৪ মে ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:বায়ার্ন মিউনিখ বনাম স্টুটগার্ট
- সরাসরি চুক্তিতে জাফনা কিংসে সাকিব: লঙ্কান লিগে বড় চমক
- ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙছেন মেসি, স্কোয়াডে বড় চমক
- শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ১০ গোলের মহানাটকীয় ম্যাচ, বিশ্বকাপের আগে মেসির ইনজুরি