ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ব্যাংকের মুনাফায় সংসার চালানো কি জায়েজ? জানুন শরীয়তের সঠিক বিধান

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৪:৫৯:৩৪
ব্যাংকের মুনাফায় সংসার চালানো কি জায়েজ? জানুন শরীয়তের সঠিক বিধান

বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সঞ্চিত অর্থের লভ্যাংশ দিয়ে জীবিকা নির্বাহের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংকে ডিপিএস বা এফডিআর করে সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে সংসার চালানোর বিষয়টি এখন অনেকের কাছেই সাধারণ বিষয়। তবে ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ডে এই অর্থ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা জিজ্ঞাসা। সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহ ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

ইসলামি ব্যাংকিং ও বর্তমান বাস্তবতা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যাংক ‘শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত’ হওয়ার দাবি করলেও তাদের বিনিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফতোয়া অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ ইসলামি ব্যাংক তাদের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় শরিয়তের নীতিমালাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং শরিয়াহ পরিপালন নিশ্চিত না হওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ এসব প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস বা সেভিং অ্যাকাউন্ট থেকে লভ্যাংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ইসলামি ব্যাংক কেবল কাগজে-কলমে শরিয়াহর কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মতোই। এমনকি কিছু ব্যাংকের আর্থিক অস্থিরতা ও নিয়মবহির্ভূত লেনদেন তাদের শরিয়াহ পরিপালনের দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তোলে।

প্রচলিত ব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস

প্রচলিত বা সুদি ব্যাংক (Conventional Bank) এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলোর (যেমন বিকাশ) সঞ্চয়ী স্কিম নিয়ে শরিয়তের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সরাসরি সুদের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই সুদ গ্রহণ বা ভোগ করা সম্পূর্ণ হারাম। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এ ধরনের উপার্জনের পথে হাঁটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

আমানত বনাম ঋণ: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

ব্যাংকে রাখা টাকাকে সাধারণ মানুষ ‘আমানত’ মনে করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি মূলত ‘ঋণ’ বা ‘করজ’। এর কারণ হলো:

অর্থের দায়ভার: ব্যাংক আপনার টাকা ফেরত দিতে আইনত বাধ্য থাকে, যা ঋণের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বিনিয়োগ পদ্ধতি: আমানত সাধারণত হুবহু গচ্ছিত রাখার কথা থাকলেও ব্যাংক গ্রাহকের টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে। এই প্রকৃতি পরিবর্তনের ফলে এটি আর আমানত থাকে না, বরং ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে বলে গণ্য হয়। আর ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণই হলো সুদ।

বৈধ বিকল্প: কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও লকার সুবিধা

তবে সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন নিষিদ্ধ নয়। দ্বীনি প্রয়োজন ও জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু সেবা গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (চলতি হিসাব): এখানে যেহেতু কোনো অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়া হয় না, বরং চার্জ কাটা হয়, তাই প্রয়োজনের খাতিরে এটি ব্যবহার করা বৈধ। তবে সুদি ব্যাংকের চেয়ে ইসলামি ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাই শ্রেয়।

২. লকার সার্ভিস: মূল্যবান গয়না বা দলিলপত্র ব্যাংকের লকারে ভাড়া দিয়ে রাখা শরিয়তসম্মতভাবে জায়েজ। এটি মূলত আমানত রক্ষা করার একটি প্রক্রিয়া।

সুদের অর্থ থেকে মুক্তির উপায়

অজ্ঞতাবশত কেউ যদি সুদি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে ফেলেন, তবে তার জন্য দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে করণীয়গুলো হলো:

অবিলম্বে ওই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া।

মূল টাকা নিজের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া।

অতিরিক্ত যে লভ্যাংশ বা সুদ জমা হয়েছে, তা সওয়াবের আশা ছাড়াই অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া। এই অর্থ দিয়ে কোনোভাবেই নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানো বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের সুদ পরিশোধ করা যাবে না।

এক নজরে ব্যাংক মুনাফা বিষয়ক FAQ

প্রশ্ন: ব্যাংক থেকে পাওয়া মুনাফার টাকা কি মসজিদে দান করা যাবে?

উত্তর: না। সুদের বা হারামের টাকা মসজিদ বা মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে দান করা বৈধ নয়।

প্রশ্ন: মুনাফার টাকা দিয়ে কি কল্যাণমূলক কাজ করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই এই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে বা দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: সব কারেন্ট অ্যাকাউন্ট কি বৈধ?

উত্তর: না, যেসব কারেন্ট অ্যাকাউন্টেও সামান্যতম মুনাফা দেওয়া হয়, সেগুলো পরিহার করা আবশ্যক।

উৎস ও তথ্যসূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪২৬; আলমাআয়ীরুশ র্শইয়্যাহ; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী।তত্ত্বাবধানে: ফতওয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা।

তানভির ইসলাম/

ট্যাগ: ব্যাংক মুনাফা ব্যাংকের মুনাফা কি হালাল ব্যাংকের সুদ কি জায়েজ ডিপিএস এর লভ্যাংশ কি হালাল এফডিআর এর টাকা কি হারাম ব্যাংকে টাকা রেখে সংসার চালানো কি জায়েজ ইসলামি ব্যাংকের মুনাফা কি হালাল সুদি ব্যাংকে টাকা রাখার বিধান সঞ্চয়ী হিসাবের মুনাফা কি সুদ বিকাশের লভ্যাংশ কি জায়েজ মোবাইল ব্যাংকিং এর মুনাফা কি হালাল সুদের টাকা কি করা উচিত ব্যাংকের সুদের টাকা কি মসজিদে দেওয়া যায় কারেন্ট অ্যাকাউন্ট কি জায়েজ লকার ব্যবহারের শরিয়তি বিধান সুদের টাকা সদকা করার নিয়ম মারকাযুদ দাওয়াহ ফতোয়া ব্যাংক মুনাফা বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং এর বাস্তবতা ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে ইসলামি বিধান সুদের বিধান ও ব্যাংকিং আমানত সুদ ও ইসলাম ডিপিএস কি হালাল এফডিআর এর বিধান ইসলামি ব্যাংক ফতোয়া মারকাযুদ দাওয়াহ সুদের টাকা সদকা বিকাশ মুনাফা জায়েজ কি ব্যাংকিং শরিয়ত Is bank interest halal in Islam Bank profit vs Interest in Sharia Is Islamic banking in Bangladesh halal Fatwa on Bank DPS and FDR Halal way to keep money in bank Monthly profit from bank is it haram Is profit from savings account interest Can I use bank interest for poor people Donation of bank interest money in Islam Difference between current and savings account in Sharia Is Bkash interest halal or haram Bank Interest Halal or Haram Islamic Banking Bangladesh DPS Profit Fatwa FDR Interest Sharia Markazul Dawah Fatwa

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ