Md Razib Ali
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতে বড় পতন:‘জেড’ গ্রুপে ঠাঁই হচ্ছে ১০ ব্যাংকের
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার একযোগে ১০টি ব্যাংককে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বনিম্ন বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস থেকেই এই অবনমন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
রেড জোনে যেসব ব্যাংক
ডিএসইর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘জাঙ্ক স্টক’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় নতুন করে নাম লেখাতে যাচ্ছে— এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংককে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
মূল সংকট যেখানে: প্রভিশন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর এই ভগদশার মূলে রয়েছে বিশাল অঙ্কের প্রভিশন ঘাটতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে ব্যর্থ হলে কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারে না। অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দায় স্থগিত বা ‘ডিফারাল’ সুবিধা নিলেও তা বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর্থিক অবস্থার করুণ চিত্র
২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র অত্যন্ত নাজুক:
এবি ব্যাংক ও আইএফআইসি: এবি ব্যাংক ৩,৮৮৯ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ২,৫৬০ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। তাদের প্রভিশন ঘাটতি যথাক্রমে ১৬,৮৭৪ কোটি ও ১৮,৫৫৭ কোটি টাকা।
বিশাল ঘাটতির মুখে রূপালী ও ইসলামী ব্যাংক: রূপালী ব্যাংক সামান্য মুনাফা করলেও তাদের ঘাটতি ১৪,০১৪ কোটি টাকা। এদিকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮৪,৬১৫ কোটি টাকায়।
অন্যান্য: প্রিমিয়ার ব্যাংক ৯৯৩ কোটি টাকার লোকসানে রয়েছে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইউসিবির প্রভিশন ঘাটতিও ৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিড়ম্বনা
একটি কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া মানেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেন কঠিন হয়ে পড়া। এই ক্যাটাগরির শেয়ারে টি+৩ সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, অর্থাৎ শেয়ার কেনাবেচার টাকা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এছাড়া এসব শেয়ার কিনতে কোনো মার্জিন ঋণ পাওয়া যায় না এবং শুধুমাত্র নগদ টাকায় লেনদেন করতে হয়। ফলে বাজারে এসব শেয়ারের ক্রেতা বা তারল্য নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিসংখ্যান
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ১৫টিই এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৪২ শতাংশই এখন বিনিয়োগের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া একীভূতকরণ বা মার্জার প্রক্রিয়ার কারণে ৫টি ব্যাংকের লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং কর্পোরেট সুশাসনের অভাবই আজ ব্যাংক খাতকে এই খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থানের ফলে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় টেস্ট: সরাসরি দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট: ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, সরাসরি দেখুন
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: তাসকিনের তোপে চাপে পাকিস্তান, সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের খেলার সময়সূচি:বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় টেস্ট
- লিটন দাসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে টাইগারদের পাল্টা লড়াই, সরাসরি দেখুন এখানে
- ফুটবল ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ? বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে শঙ্কা
- অল-আউট পাকিস্তান লিড পেল বাংলাদেশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি:(রবিবার, ১৭ মে ২০২৬)
- সোনার দাম কি বাড়ল? দেখুন আজকের ভরি প্রতি বাজারদর