Md Razib Ali
Senior Reporter
জাকাত না দিলে কি কপালে আগুনের দাগ হবে? কোরআনের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইসলামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার মূল হাতিয়ার হলো জাকাত। এটি কেবল ধনীর দয়া নয়, বরং বিত্তবানদের সম্পদে বঞ্চিতদের এক অনিবার্য অধিকার। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনে বিমুখতা দেখালে ইসলামে রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই মহান আল্লাহ জাকাত ফরজ করেছেন। এটি ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদ বা স্তম্ভের অন্যতম একটি। তবে এই ইবাদত পালনে অনীহা বা অস্বীকৃতি জানানোর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
বিশ্বাস ও পালনের ক্ষেত্রে কঠোরতা
জাকাতের আবশ্যকতা বা ফরজ হওয়া নিয়ে যদি কেউ সংশয় প্রকাশ করে বা এটি অস্বীকার করে, তবে সে ইসলামের গণ্ডি থেকে ছিটকে পড়বে। আর যারা এই বিধানকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেও কার্পণ্য কিংবা অলসতার কারণে জাকাত দেয় না, তারা বড় ধরনের পাপে নিমজ্জিত হয়। শরিয়ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব হলো প্রয়োজনে কঠোর হয়ে তাদের থেকে জাকাত সংগ্রহ করা।
মহানবী (সা.) ও খলিফাদের কঠোর অবস্থান
ইসলামের ইতিহাসে জাকাত আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নজির রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সা.) এ প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাওহিদের সাক্ষ্য না দেবে এবং নামাজ ও জাকাত কায়েম না করবে, ততক্ষণ তাদের ইসলামের পূর্ণ অনুসারী হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে কড়াকড়ি রয়েছে।
একই দৃঢ়তা দেখা গেছে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর আমলে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, কেউ যদি রাসূল (সা.)-এর যুগে একটি মেষশাবকও জাকাত হিসেবে দিয়ে থাকে এবং এখন তা দিতে অস্বীকার করে, তবে দ্বীনের খাতিরে তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।
পরকালীন শাস্তি: উত্তপ্ত স্বর্ণ-রুপার দাগ
যারা সম্পদ জমিয়ে রাখে কিন্তু তার নির্দিষ্ট অংশ গরিবের মাঝে বিলিয়ে দেয় না, তাদের জন্য আল-কুরআনে ‘যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’র কথা বলা হয়েছে। সূরা তাওবা-র আয়াত অনুযায়ী, সঞ্চিত সেই সোনা ও রুপা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে লাল করা হবে। এরপর সেই উত্তপ্ত ধাতু দিয়ে জাকাত না দেওয়া ব্যক্তিদের কপাল, দুই পাশ এবং পিঠে দাগ দেওয়া হবে।
দুনিয়াবি পরিণতি: রহমতের বৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া
জাকাত আদায়ের সাথে প্রকৃতির ভারসাম্য ও আল্লাহর রহমত সরাসরি যুক্ত। হাদিসের বর্ণনা মতে, কোনো জাতি যখন সমষ্টিগতভাবে জাকাত দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা শাস্তি হিসেবে আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেন। অর্থাৎ, তাদের অবহেলার কারণে পুরো সমাজকে অনাবৃষ্টির মতো সংকটে পড়তে হয়।
জাকাত কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ। পরকালের ভয়াবহ আজাব থেকে রক্ষা পেতে এবং দুনিয়ায় আল্লাহর রহমত ও বরকত বজায় রাখতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সঠিকভাবে জাকাত হিসাব করে আদায় করা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া: কখন, কোথায় ও কীভাবে লাইভ দেখবেন
- খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না দেখবেন যেভাবে, জানুন সহজ পদ্ধতি
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- vivo X500 Pro Max: ২০০MP ক্যামেরা ও ৮০০০mAh ব্যাটারি
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ, কখন, কোথায় কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আবহাওয়ার খবর: ৬০ কিমি বেগে হাওয়ার শঙ্কা, ৩ বন্দরে সংকেত