Md Razib Ali
Senior Reporter
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: পেস বোলিংয়েই ভরসা খুঁজছে বাংলাদেশ
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম মানেই গতানুগতিক স্পিন ট্র্যাক—এই ধারণা এবার পাল্টে যেতে পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ কি তবে সেই ‘রাওয়ালপিন্ডি টেমপ্লেট’ অনুসরণ করতে যাচ্ছে? গতকাল বিকেলে মিরপুরের সেন্টার উইকেটে তরুণ পেসার নাহিদ রানার বোলিং অনুশীলনের দৃশ্য অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ঘাসে ঢাকা উইকেটে রানার সেই দীর্ঘক্ষণ বল করার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের স্মৃতি, যেখানে পেসারদের দাপটে ইতিহাস গড়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।
পেস বোলিংয়ে আমূল পরিবর্তন
রাওয়ালপিন্ডি সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পেস ইউনিট খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না। পরিসংখ্যান বলছে, সেই সিরিজের আগে টাইগার পেসারদের স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৮.৩। তবে সিরিজের পর তা নাটকীয়ভাবে উন্নতি করে দাঁড়িয়েছে ৪৮.৪-এ। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এবং শরিফুল ইসলাম মিলে তুলে নিয়েছিলেন ২১টি উইকেট। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০টি উইকেটের সবকটিই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা, যা দেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম।
সবুজ উইকেটের চ্যালেঞ্জ
শুক্রবার খেলা শুরুর আগে উইকেটের ঘাস কিছুটা ছাঁটা হতে পারে, তবে এটা স্পষ্ট যে স্বাগতিকরা তাদের নতুন শক্তিমত্তা অর্থাৎ ‘পেস’ দিয়েই পাকিস্তানকে কাবু করতে চায়। বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিমন্স বলেন, "আমি মনে করি আমাদের দুটি ভালো ফাস্ট বোলিং ইউনিট এবং দুটি ভালো স্পিনিং ইউনিট আছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো কারা মোক্ষম সময়ে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে।"
তবে সিমন্স ব্যাটারদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, একটি ভালো ক্রিকেট পিচে জিততে হলে ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলতে হবে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে হবে।
রাওয়ালপিন্ডি এখন অতীত: সিমন্স
গত বছরের সেই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের প্রভাব বর্তমান সিরিজে কতোটা পড়বে? সিমন্স মনে করেন, অতীত থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়া গেলেও বর্তমানটা নতুন। তিনি বলেন, "সেখানে কী ঘটেছিল তা এখন আর বড় বিষয় নয়। হ্যাঁ, সেটা মাথায় থাকলে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়, কিন্তু মনে রাখতে হবে এটি একটি নতুন খেলা এবং একটি নতুন জায়গা।"
পাকিস্তানের পাল্টা পরিকল্পনা
এদিকে মিরপুরের উইকেটে ঘাস দেখে নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারে পাকিস্তানও। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেবল একজন স্পিনার (নোমান আলী) নিয়ে মাঠে নামতে পারে। পাকিস্তান পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র শাহিন শাহ আফ্রিদি জানান, তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।আফ্রিদি বলেন, "অতীতে বাংলাদেশ সবসময় নিজেদের মাটিতে স্পিন ট্র্যাক তৈরি করত। স্বাগতিক দল হিসেবে তারা তাদের কন্ডিশন ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরাও আমাদের দেশে স্পিনারদের সহায়তা নিয়েছি। এবার এখানে ট্র্যাক সবুজ। আমাদের বোলাররা উইকেট নিতে এবং পাকিস্তানের জন্য জয় ছিনিয়ে আনতে প্রস্তুত।"
একনজরে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ভেন্যু: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
মূল আকর্ষণ: বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বনাম পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ।
ইতিহাস: ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান বধের সুখস্মৃতি।
কন্ডিশন: স্পিন ট্র্যাকের বদলে এবার মিরপুরে সবুজ উইকেটের সম্ভাবনা।
মিরপুরে পেস বনাম পেসের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাসি চওড়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- সিরিন ল্যাবস ফিনি: প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা সেই ৫ লাখ টাকার ফোনের আসল রহস্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ৬ মে ২০২৬)
- বিএসইসির কড়া নির্দেশ: ২০ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে ভ্যানগার্ড ম্যানেজমেন্ট
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মে ২০২৬; জানুন ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- বায়ার্ন-পিএসজি মহারণ: দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি
- উইজডেনের পিএসএল সেরা একাদশে বাংলাদেশের নাহিদ রানা
- আজকের খেলার সময় সূচি:অ্যাস্টন ভিলা-নটিংহাম
- ডিভিডেন্ড ও ইপিএস ঘোষণা: ব্র্যাক ও উত্তরা ব্যাংকসহ ৭ কোম্পানির দিনক্ষণ চূড়ান্ত