ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে বিএসইসির নতুন পদক্ষেপ

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১০:৫৫:৪৯
বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে বিএসইসির নতুন পদক্ষেপ

দেশের পুঁজিবাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি যেন সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

তাঁর মতে, পুঁজিবাজারের আকার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শনিবার বিকালে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন মাসুদ খান। সিসিসিআই ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাতে চিটাগাং চেম্বারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়।

আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস নয়

পুঁজিবাজারে কোম্পানি আনার পাশাপাশি আইপিওর মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “আইপিওতে কোন ধরনের ফিক্সড প্রাইস থাকবে না বরং ইনডিকেটিভ মূল্য থাকবে, যা পরবর্তীতে মার্কেটে প্রকৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।”

মাসুদ খান বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার হার অন্যদেশের তুলনায় অনেক কম। বাজারের আকার বাড়াতে বড় বড় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

তালিকাভুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ হওয়ার কথা

সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তাদের কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ সহজতর হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই বার্ষিক মোট রাজস্ব ৫০০ কোটি টাকা থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন সহজ করার পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের দাবি

পুঁজিবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আনেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

তাঁর বক্তব্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লাভ-লোকসানের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, “তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় লাভ করলে ডিভিডেন্ড দিবে, লোকসান হলে দেবে না। তাই পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব নিয়মানুযায়ী চলতে দিতে হবে।”

আমিরুল হক আরও বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যেকোনো রেগুলেটরি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের একমত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংলাপে অংশ নেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সংলাপে বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার এবং চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফ এর এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন সালেহ জহুর এবং বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চিটাগাং চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ