ডিএসইর তদন্ত নোটিশে মুনাফার সুযোগ হারানোর শঙ্কা বিনিয়োগকারীদের
ধারাবাহিক দরপতনের পর শেয়ারবাজারে যখন আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোম্পানির শেয়ারদর কয়েক দিন বাড়লেই দ্রুত শোকজ বা তদন্ত নোটিশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় দরপতনের ক্ষেত্রে একই ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায় না। এতে বাজারে স্বাভাবিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
সম্প্রতি ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর টানা পাঁচ কার্যদিবস বাড়ার পর ডিএসই তদন্ত নোটিশ দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একই কোম্পানির শেয়ারদর এর আগে টানা নয় দিন কমলেও তখন কেন কোনো নোটিশ বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দরপতনের দীর্ঘ ইতিহাস, ফিরছে ঊর্ধ্বমুখী বাজার
২০১০ সালের ভয়াবহ শেয়ারবাজার ধসের ক্ষতি এখনো বহন করছেন অসংখ্য বিনিয়োগকারী। ওই সময় পুঁজি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। লোকসানের চাপ সামলাতে না পেরে কারও জীবনও ঝরে গেছে; কেউ আত্মহত্যা করেছেন, আবার কেউ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এরপর বাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেয়ারবাজার এখনো প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
বিভিন্ন সময়ে বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও পরে আবার দরপতন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একপর্যায়ে অবশ্য বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। সে সময় সূচকে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি এবং লেনদেনে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা যায়। প্রধান সূচক প্রায় ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি গেলেও সেই সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
এর পর আবার ধারাবাহিক দরপতনে সূচক ও লেনদেন প্রায় তলানিতে নেমে আসে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে নতুন করে কিছুটা আস্থার সংকট তৈরি হয়।
আবারও ঊর্ধ্বমুখী বাজার, তবু উদ্বেগ
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, এমন সময়ে কিছু সিদ্ধান্ত বাজারের গতি দুর্বল করে দিতে পারে।
তাদের ভাষ্য, বিনিয়োগকারীরা যখন দীর্ঘ দরপতনের পর কিছু শেয়ারে মুনাফা করার সুযোগ পাচ্ছেন, তখন শেয়ারদর এক-দুই দিন বাড়ার পরই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে শোকজ বা তদন্ত নোটিশ দেওয়ার প্রবণতা সেই সুযোগ সংকুচিত করতে পারে।
তাদের মতে, কোনো শেয়ারের স্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এভাবে থেমে গেলে তার প্রভাব সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ওপর পড়ে।
ওরিয়ন ইনফিউশন নিয়ে যত প্রশ্ন
বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর টানা পাঁচ কার্যদিবস বাড়ার পর ডিএসই কোম্পানিটিকে তদন্ত নোটিশ দিয়েছে।
তবে এর আগে একই কোম্পানির শেয়ারদর টানা নয় দিন কমেছিল। সে সময় ডিএসইর পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এখানেই তাদের মূল প্রশ্ন—একটি শেয়ারের দর বাড়ার সময় যদি তদন্তের প্রয়োজন হয়, তাহলে একই শেয়ারের ধারাবাহিক দরপতনের সময়ও কি সমানভাবে নজরদারি করা উচিত নয়?
বাজারসংশ্লিষ্টদের যুক্তি, দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের লোকসান বাড়ে। বিপরীতে শেয়ারের দাম বাড়লে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হয়। তাই উত্থান ও পতন—দুই অবস্থাতেই একই ধরনের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।
শুধু কোম্পানি নয়, লেনদেনও নজরদারিতে আনার দাবি
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিএসইর সার্ভিল্যান্স বিভাগের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট শেয়ারে কারা কী ধরনের লেনদেন করছেন, তা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে।
তাদের বক্তব্য, কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক কিংবা বিতর্কিত লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে পুরো কোম্পানিকে প্রশ্নের মুখে না ফেলে ওই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারী বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
কোম্পানির ব্যবসা বা কার্যক্রম নিয়ে সংবেদনশীল কোনো তথ্য থাকলেও তা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। কারণ এ ধরনের তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিয়ম অনুযায়ী ডিএসইকে তা জানিয়ে থাকে।
ফলে কোনো শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য কাজ করছে কি না, সেটি যাচাই করা সম্ভব বলে তাদের মত। আর বিতর্কিত লেনদেনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।
তবে তাদের অভিযোগ, বাস্তবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ডিএসইকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।
বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা নতুন করে লোকসানের
ডিএসইর তদন্ত নোটিশ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শেয়ারদর দীর্ঘ সময় কমলে লোকসানের পরিমাণ বাড়লেও তা ঠেকাতে ডিএসইর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। অথচ বাজার ঘুরে দাঁড়ালে এবং দর বাড়তে শুরু করলে বিনিয়োগকারীরা আগের লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পান।
একজন বিনিয়োগকারী বলেন, ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার মুনাফার প্রত্যাশায় যে দরে কেনা হয়েছে, তদন্ত নোটিশের পর যদি সেটির দাম আবার কমে যায়, তাহলে লাভ করার পরিবর্তে নতুন করে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। এমন ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নতুন করে শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
উত্থান-পতনে সমান নীতির দাবি
বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের মূল দাবি হলো, শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে যেমন নজরদারি থাকবে, তেমনি কোনো কোম্পানির দর ধারাবাহিকভাবে কমলেও একইভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাদের মতে, শুধু শেয়ারদর বাড়লেই শোকজ বা তদন্ত নোটিশ পাঠানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে বাজারের উত্থান ও পতন—দুই ক্ষেত্রেই সমান নীতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ডিএসইকে ‘হটকারী’ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আরও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল: কিছুক্ষণ পর ম্যাচ, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- অ্যাটলেটিকো-রিয়াল ম্যাচ চলছে: লাল কার্ড ও গোল দেখুন Live
- চলছে অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: লাল কার্ড, ২ গোলের ম্যাচে ফলাফল কী
- দুই বছরের বেশি আর্থিক প্রতিবেদন নেই, সিঅ্যান্ডএতে ডিএসইর পরিদর্শন
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দাম কত
- ভ্যাট রিটার্নে নতুন নিয়ম, ১১ খাতে অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক
- ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে মিরসরাইয়ে এমইপির নতুন কারখানা
- বাংলাদেশ বনাম ভারত সেমিফাইনালে কে জিতল? জানুন ফলাফল
- উৎপাদন দ্বিগুণ, বাড়ছে মুনাফা-নগদ প্রবাহ; সুখবরের অপেক্ষায়
- অ্যাতলেটিকো বনাম রিয়াল: সম্ভাব্য একাদশ, প্রিভিউ ও লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট(২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- কমার পর বাড়লো আজকের সৌদি রিয়াল রেট (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- আজকের টাকার রেট কত(২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সান্ডারল্যান্ড: ৮ গোলের ম্যাচে শেষ হাসি কার?