Md Razib Ali
Senior Reporter
বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কবে, কখন; কোথায় দেখবেন লাইভ
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ফুটবল লড়াইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের পুরোনো হিসাব বেশ ভারী মালয়েশিয়ার পক্ষে। ১০টি নথিভুক্ত ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, আর দুটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। এই সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার জালে ২০টি গোল গেছে, বিপরীতে বাংলাদেশ করেছে চারটি।
এবার সেই হিসাবের সামনে নতুন একটি ম্যাচ। ২৫ সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। মোবাইলেও ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে।
তবে এবারের ম্যাচকে শুধু পরিসংখ্যানের চোখে দেখলে দুই দলের দীর্ঘ ইতিহাসের পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ এই দ্বৈরথে যেমন ৬-০ গোলের হার রয়েছে, তেমনি আছে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় এবং টানা দুটি ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত থাকার ঘটনাও।
এক নজরে ম্যাচ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া |
| তারিখ | ২৫ সেপ্টেম্বর |
| বাংলাদেশ সময় | বিকেল ৩:০০টা |
| টিভি সম্প্রচার | টি স্পোর্টস |
| মোবাইলে দেখা | Sportzfy অ্যাপ ও ফেসবুকে লাইভ |
যে রেকর্ড বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সংখ্যায় মালয়েশিয়া এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় জয় ও গোলের হিসাবে। ১০ ম্যাচে সাত জয় তাদের। বাংলাদেশের জয় এসেছে একটিতে।
গোলের ব্যবধানও একই চিত্র দেখায়। মালয়েশিয়া যেখানে ২০ বার জালের দেখা পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ গোল করেছে চারটি।
এই রেকর্ডের পেছনে রয়েছে প্রায় পাঁচ দশকের লড়াই। ১৯৭৫ সালের মুখোমুখি ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই দল বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ফল পেয়েছে।
ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা, আবার সবচেয়ে স্মরণীয় জয়ও
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারগুলোর একটি এসেছিল ১৯৭৬ সালের কিংস কাপে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল মালয়েশিয়া।
কিন্তু এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প শুধু বড় হারের নয়। এর কয়েক বছর পরই বাংলাদেশ পায় নিজেদের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্যগুলোর একটি।
১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। দুই দলের নথিভুক্ত মুখোমুখি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের একমাত্র জয়।
অর্থাৎ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একদিকে রয়েছে ৬-০ গোলের হার, অন্যদিকে ২-১ ব্যবধানের জয়—দুই চিত্রই এই দ্বৈরথের ইতিহাসে পাশাপাশি রয়েছে।
১৯৯৭ সালের দুই ম্যাচেও জয় পায় মালয়েশিয়া
১৯৮২ সালের বাংলাদেশের জয় অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য বদলে দিতে পারেনি। ১৯৮৩ সালের মারদেকা টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারায়।
এরপর ১৯৯৭ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুই দল মুখোমুখি হয় আরও দুইবার। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার জয় আসে ২-০ গোলে। পরের ম্যাচেও বাংলাদেশকে হারায় তারা, এবার ব্যবধান ছিল ১-০।
যে দুই ম্যাচে মালয়েশিয়াকে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ
দুই দলের দীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য আলাদা গুরুত্ব রয়েছে ২০১২ ও ২০১৫ সালের ম্যাচের।
২০১২ সালে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর ২০১৫ সালে আবারও মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ গোলশূন্য ড্র আদায় করে।
ফলে টানা দুই ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারেনি বাংলাদেশ। একটি ম্যাচে ১-১ এবং পরেরটিতে ০-০ ফল আসে।
এই দুটি ম্যাচ দেখিয়েছে, অতীত রেকর্ডে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সংগঠিত করে লড়াই করতে পারে।
সর্বশেষ সাক্ষাতে আবার বড় ব্যবধান
দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয় ২০২২ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে। সেই ম্যাচে মালয়েশিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় পায়।
বাংলাদেশ একটি গোল করলেও ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার হাতে। সর্বশেষ সাক্ষাতের এই ফল দুই দলের সাম্প্রতিক অবস্থানের পার্থক্যও সামনে নিয়ে আসে।
এবার বাংলাদেশের দলে কী বদলেছে
এবারের ম্যাচকে ঘিরে বাংলাদেশের দল নিয়ে আলাদা একটি বিষয় সামনে এসেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বাংলাদেশ দলে প্রবাসী খেলোয়াড় হিসেবে একমাত্র জামাল ভূঁইয়া ছিলেন। এখন জাতীয় দলে রয়েছেন নয়জন প্রবাসী।
তাই পুরোনো পরিসংখ্যান থাকলেও এবারের দলের প্রেক্ষাপট আগের মতো নয়—এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমান ফিফা র্যাংকিংয়েও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে কয়েক ধাপ ওপরে রয়েছে। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মাঠের ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগ সামলানো এবং নিজেদের পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানো।
পুরোনো রেকর্ডের সামনে নতুন পরীক্ষা
বাংলাদেশের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার সাত জয় এবং বাংলাদেশের একটি জয়—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় দুই দলের ঐতিহাসিক অবস্থান কতটা ভিন্ন। কিন্তু ২০১২ ও ২০১৫ সালের ফলও একই ইতিহাসের অংশ।
তাই ২৫ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে অতীতের ফলাফল নতুন করে ফিরে আসবে কি না, নাকি দুই দলের পুরোনো হিসাবের বাইরে নতুন কোনো ফল যুক্ত হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
টিভিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ দেখবেন যেভাবে
বাংলাদেশের দর্শকরা টি স্পোর্টস চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন। ম্যাচের সময় নির্ধারিত হয়েছে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা।
মোবাইলে লাইভ দেখার তথ্য
মোবাইল ফোনে ম্যাচ দেখার জন্য Sportzfy অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। তবে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড বা ব্যবহারের আগে সেটির বৈধতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া ফেসবুকে “Bangladesh Vs Malaysia Football match Live” লিখে খুঁজলে বিভিন্ন পেজে ম্যাচের লাইভ সম্প্রচার পাওয়া যাবে।
সবশেষে, ম্যাচের সময়, সম্প্রচার এবং দুই দলের ইতিহাস—সব মিলিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বরের লড়াইটি বাংলাদেশের জন্য পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
FAQ
বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কবে অনুষ্ঠিত হবে?
২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি কখন শুরু হবে?
ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে।
কোন টিভি চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে?
টি স্পোর্টস ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
হেড টু হেডে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার রেকর্ড কী?
১০টি নথিভুক্ত ম্যাচে মালয়েশিয়া জিতেছে সাতটি, বাংলাদেশ জিতেছে একটি এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মালয়েশিয়ার গোল ২০টি, বাংলাদেশের চারটি।
বাংলাদেশ এর আগে মালয়েশিয়াকে কখন হারিয়েছিল?
১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। এটিই দুই দলের নথিভুক্ত ইতিহাসে বাংলাদেশের একমাত্র জয়।
তানভির ইসলাম/