ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বেলিংহামের ঘুষি, রুডিগারের চড়; রিয়ালে নতুন বিতর্ক

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১১:২৩:৩৭
বেলিংহামের ঘুষি, রুডিগারের চড়; রিয়ালে নতুন বিতর্ক

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল ড্রেসিংরুমের পথেও। রিয়াল মাদ্রিদের দুই ফুটবলার জুড বেলিংহাম ও আন্তোনিও রুডিগারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীদের শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন নিরাপত্তাকর্মীকে ঘুষি মেরেছেন বেলিংহাম, আরেকজনকে চড় দিয়েছেন রুডিগার। ঘটনাটি রেফারিকে জানানো হয়েছে এবং তিনি তা লিখে রেখেছেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক নাচো সানচেজ। ফলে এখন রেফারির প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিবরণ কীভাবে উঠে আসে, সেটিই হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়।

ঘটনাটি সামনে এসেছে স্প্যানিশ সংবাদপত্র স্পোর্ট-এর এক প্রতিবেদনে। তাদের দাবি, ভ্যালেন্সিয়া-রিয়াল ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন টানেলের ভেতরে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। মাঠের ক্যামেরায় ধরা না পড়া সেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন আ পুন্তের সাংবাদিক নাচো সানচেজ।

নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ পৌঁছেছে রেফারির কাছে

সানচেজের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, টানেলের ভেতরে দুই নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান রিয়ালের দুই খেলোয়াড়। তার দাবি, বেলিংহাম একজন নিরাপত্তাকর্মীকে ঘুষি মারেন। অন্যদিকে, রুডিগারের বিরুদ্ধে আরেক নিরাপত্তারক্ষীকে চড় মারার অভিযোগ রয়েছে।

নাচো সানচেজ বলেন, ‘ড্রেসিংরুম টানেলে ঘটে যাওয়া বাগবিতণ্ডার বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরা হলো। বেলিংহাম একজন নিরাপত্তারক্ষীকে ঘুষি মারেন এবং রুডিগারও আরেকজন নিরাপত্তারক্ষীকে চড় মারেন। নিরাপত্তা কর্মীরা রেফারির কাছে যান, তিনি যা ঘটেছে সব লিখে রেখেছেন।’

তার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি সরাসরি ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিকে জানিয়েছেন। ফলে ঘটনাটি শুধু টানেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক নথিতেও এর উল্লেখ থাকার কথা।

ম্যাচের প্রতিবেদনে আসতে পারে হামলার অভিযোগ

নিরাপত্তারক্ষীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ পাওয়ার পর রেফারি হার্নান্দেজ মায়েসো তা লিখে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন সানচেজ। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রেফারির প্রতিবেদনে থাকার কথা। কারণ নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে জানিয়েছিল কী ঘটেছে। তিনিও সব লিখে রেখেছেন।’

অর্থাৎ, অভিযোগগুলোর বিষয়ে রেফারির প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেখানে কী বিবরণ অন্তর্ভুক্ত হয়, তা সামনে এলে টানেলের ঘটনার আনুষ্ঠানিক চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল মাঠের উত্তেজনা?

টানেলের ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে সামনে এলেও ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভ্যালেন্সিয়ার ফুল ব্যাক মার্ক কুকুরেল্লাকে মাফেও মারাত্মক ফাউল করার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হাতাহাতি হয়। স্প্যানিশ লিগের চলতি মৌসুমের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল ম্যাচটি।

এরপর প্রথমার্ধ শেষ হলে রেফারি হার্নান্দেজ মায়েসো খেলোয়াড়দের টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। স্পোর্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সময়ই ক্যামেরার আড়ালে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

টানেলে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও

শুধু বেলিংহাম ও রুডিগারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, টানেলে প্রবেশের সময় আরও দুই রিয়াল খেলোয়াড়ের আচরণও আলোচনায় এসেছে। মিলিতাও ও বেলিংহামকে ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করতে করতে টানেলে ঢুকতে দেখা গেছে। এতে দুই দলের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ঘটনা এখন মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযোগ, রেফারির কাছে দেওয়া বিবরণ এবং ম্যাচের প্রতিবেদন—সবকিছুর দিকেই এখন নজর রয়েছে।

FAQ

১. রিয়াল মাদ্রিদের কোন দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে?

জুড বেলিংহাম ও আন্তোনিও রুডিগারের বিরুদ্ধে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

২. বেলিংহাম ও রুডিগারের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

নাচো সানচেজের দাবি, বেলিংহাম একজন নিরাপত্তারক্ষীকে ঘুষি এবং রুডিগার অন্য একজনকে চড় মেরেছেন।

৩. ঘটনাটি কখন ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে?

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময় টানেলে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

৪. রেফারি কি ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন?

সাংবাদিক নাচো সানচেজের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তারক্ষীরা রেফারি হার্নান্দেজ মায়েসোকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি তা লিখে রেখেছেন।

৫. ম্যাচে উত্তেজনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল?

মার্ক কুকুরেল্লাকে মাফেও মারাত্মক ফাউল করার পর প্রথমার্ধে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: