ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কোস্টারিকা বনাম কুরাসাও: ৭ গোলের নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি কার

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১০:৩৭:০৩
কোস্টারিকা বনাম কুরাসাও: ৭ গোলের নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি কার

সান হোসেতে এমন এক ম্যাচের সাক্ষী হলো কনকাকাফ নেশন্স লিগ, যার মোড় বদলে গেল দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির আগে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকা শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাঠেই ৪-৩ গোলে হেরে গেল কুরাসাওয়ের কাছে। তিন গোলের ঘাটতি মুছে দ্বিতীয়ার্ধে চার গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় কুরাসাও। ঘরের মাঠে কোস্টারিকার সমর্থকদের দুয়ো আর বাঁশির শব্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ম্যাচটি।

কোস্টারিকার হয়ে কার্লোস মোরার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হ্যাটট্রিকের দেখা মিললেও সেটিও দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। বিপরীতে কুরাসাওয়ের হয়ে গোরে, চং ও পাউলিনা দ্বিতীয়ার্ধের প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাউলিনার ৮৩ মিনিটের গোলেই ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

প্রথমার্ধে কোস্টারিকার দাপট

ম্যাচ শুরুর পর খুব বেশি সময় নেয়নি কোস্টারিকা। ৫ মিনিটে সিনক্লেয়ার ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। ১০ মিনিটের ঘটনাতেও সেই গোলের বর্ণনা উঠে এসেছে। সান হোসের এস্তাদিও রিকার্দো সাপ্রিসায় অল্প দর্শক উপস্থিতির মধ্যেই প্রথম আঘাত হানে কোস্টারিকা।

গোল হজমের পর কুরাসাও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়ে। ১৫ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কোস্টারিকার হাতে চলে যায়। এরপর ২০ মিনিটের দিকে কুরাসাওয়ের রক্ষণে একের পর এক ভুল দেখা দিতে থাকে।

২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কার্লোস মোরার। কুরাসাওয়ের বক্সের ভেতরে বড় ধরনের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

এরপর ২৮ মিনিটে কুরাসাও প্রথম কর্নার পায়। সেটপিস থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে তারা কাঙ্ক্ষিত আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। ৩৩ মিনিটে কোস্টারিকা নিজেদের দ্বিতীয় গোলের দৃশ্য তুলে ধরে; গোলটি করেন মোরাই, যা রক্ষণভাগের ভুলের পর আসে।

৩৮ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কুরাসাওয়ের বাকুনা। নিজের অর্ধে বল হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করেন তিনি। পাঁচ মিনিট পর কোস্টারিকার হোসিমার মেন্দেজও পাল্টা আক্রমণ থামাতে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও গোল করেন মোরাই। ৪৫ মিনিটে তার গোলেই কোস্টারিকা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিরতিতে ম্যাচটি স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধেই পাল্টে গেল ম্যাচ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কুরাসাও বল দখলে রাখলেও কোস্টারিকার রক্ষণে কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারছিল না। ৫০ মিনিটেও তাদের আক্রমণে প্রয়োজনীয় গতি ও সৃষ্টিশীলতার ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে কোস্টারিকা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

৫৫ মিনিটে কুরাসাও দ্বিতীয় কর্নার পায়। এরপরই ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ৬০ মিনিটে বক্সের ভেতর সুন্দর আক্রমণ সাজিয়ে গোরে গোল করেন। এতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-১।

মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবার গোল। ৬৫ মিনিটে চং দূরপাল্লার বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে কোস্টারিকার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। ফলে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচে ফিরে আসে কুরাসাও।

এরপর কোস্টারিকার ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। ৭০ মিনিটে স্বাগতিক গোলরক্ষক সময় নষ্ট করার জন্য পেশিতে সমস্যা হওয়ার ভান করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বিরতিতে কোচ ফার্নান্দো বাতিস্তা খেলোয়াড়দের জরুরি নির্দেশনা দেন।

৭৫ মিনিটে রিকার্দো সাপ্রিসা স্টেডিয়ামে কোস্টারিকাকে ঘিরে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্যালারি থেকে দুয়ো ও বাঁশির শব্দ শোনা যায়। কুরাসাও তখন সমতায় ফেরার জন্য মাত্র এক গোল দূরে।

৭৮ মিনিটে সমতা, ৮৩ মিনিটে ইতিহাস

৭৮ মিনিটে কুরাসাও কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল পেয়ে যায়। দূরপাল্লার একটি শট পোস্টে আঘাত করার পর ফিরতি বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেন গোরে। বক্সের ভেতর থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে তিনি স্কোর ৩-৩ করেন। তিন গোলের লিড হারিয়ে তখন চাপে পড়ে যায় কোস্টারিকা।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৩ মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণের পর নিচু ক্রস পৌঁছে যায় বক্সের মাঝখানে। সেখানে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা পাউলিনা সহজেই বল জালে পাঠান। কুরাসাও ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং তিন গোলের ঘাটতি থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে।

শেষ কয়েক মিনিটে কোস্টারিকার ওপর চাপ আরও বাড়ে। ৮৮ মিনিটে গ্যালারি থেকে জোরালো দুয়ো শোনা যায়। এমনকি কুরাসাও পরপর পাস খেলতে থাকলে স্বাগতিক সমর্থকদের একাংশ তাদের পক্ষেই ‘ওলে’ ধ্বনি দিতে থাকে।

৯০ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক জয়। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে চার গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। বিপরীতে তিন গোলের লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের মাঠে ম্যাচ শেষ করে কোস্টারিকা।

ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের প্রস্তুতি

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় সান হোসের এস্তাদিও রিকার্দো সাপ্রিসা আইমায়। কনকাকাফ নেশন্স লিগের ২০২৬/২৭ মৌসুমের প্রথম ম্যাচডের সূচিতে এই লড়াইটি ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে ওয়ার্মআপ করেন এবং শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি বল নিয়ে কাজ করেন।

কুরাসাওয়ের কোচ ডিক অ্যাডভোকাট উইংয়ের গতি ও কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে দল সাজানোর কথা ছিল। অন্যদিকে কোস্টারিকার কোচ ফার্নান্দো বাতিস্তা মাঝমাঠে ভারসাম্য, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে জায়গা তৈরির ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন।

কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে মাঠের গল্প দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোস্টারিকার প্রথমার্ধের ৩-০ ব্যবধান দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। কুরাসাওয়ের চার গোলের ঝড়ে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় পায় সফরকারীরা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: