ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাড়িতে পৌঁছে যাবে ফ্যামিলি কার্ড, জানালেন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ২১:১৬:০৭
বাড়িতে পৌঁছে যাবে ফ্যামিলি কার্ড, জানালেন মন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে কারও পেছনে ছুটতে হবে না—ভবিষ্যতে এই কার্ডই মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ জন্য প্রথমে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজ হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও ১ থেকে ২ মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের এই প্রক্রিয়ার কথা জানান তিনি।

আগে তথ্য, পরে বাড়িতে কার্ড

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহের কাজটি সম্পন্ন করা হবে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন পর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে আরও ১ থেকে ২ মাস সময় লাগবে। এরপর ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে খোঁজাখুঁজি বা কারও পেছনে ছুটতে হবে না। কার্ড নিজেই মানুষের বাড়িতে পৌঁছে যাবে।

এ ক্ষেত্রে মামুন বা আজাদের মতো কোনো ব্যক্তির প্রয়োজন হবে না বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষকের প্রয়োজনও পৌঁছাবে ব্যবস্থার আওতায়

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। বর্তমানে কৃষকদের সারের জন্য যে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, কৃষক কার্ড চালু হলে সেই পরিস্থিতি বদলে যাবে বলে জানান তিনি।

একজন কৃষকের কতটুকু সার, কী পরিমাণ কীটনাশক ও কতটা বীজ দরকার, এমনকি ব্যাংক থেকে তার কত টাকা ঋণ প্রয়োজন—এসব বিষয়ও তখন কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থার অংশ হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, তখন কৃষককে প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্য ছোটাছুটি করতে হবে না। বরং ডিলারদের পক্ষ থেকেই কৃষককে সার নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হবে। কারণ সার ডিলারের ঘরে পড়ে থাকলে তার টাকা লোকসান হবে। পাশাপাশি সেটি চুরি করে বিক্রি করার সুযোগও থাকবে না বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুবিধা নয়

নাগরিকদের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে বিবেচনায় না রাখার কথা জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দলের পরিচয় দেখে এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও গির্জায় দায়িত্ব পালনকারীদের সহযোগিতার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এ কার্যক্রমের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার যাজকদেরও সম্মান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা সবাই দেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবেই তাদের অধিকার পাওয়ার কথা।

‘সব মায়েরাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন’

ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে মায়েদের কোনো আলাদা রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাচাই করা হবে না বলেও জানান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, কোনো মা তালিম নিয়েছেন কি না, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে না। কে কী স্লোগান দিয়েছেন কিংবা কে কোথায় ভোট দিয়েছেন, সেটিও দেখা হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষ—এটাই তার বড় পরিচয় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

যারা আছেন, তারা থাকুন: মন্ত্রী

সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বৈরাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ এখনও গ্রাম, শহর ও বিভিন্ন এলাকায় রয়েছেন। তাদের সবাই চলে যাননি; চলে গেছেন তাদের নেত্রী বা দলের কিছু নেতা।

যারা এখনও আছেন, তারা থাকুন—এমন অবস্থানের কথাও জানান তিনি। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারা সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন।

১৭ বছর দেশ শাসন করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যায় করে থাকলে আদালতে গিয়ে তার মোকাবিলা করা উচিত। আদালত সাজা দিলে সাজা হবে, আর সাজা না হলে মুক্তি পাওয়া যাবে। তার মতে, এ কারণে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিশৃঙ্খলা হলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কথা

দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার কথাও বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যে যে অবস্থানে আছেন, সেখানে থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে বাংলাদেশের মানুষ নীরব থাকবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বা যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, দেশের নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিরোধ করবেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও সময় দেওয়ার আহ্বান

মতবিনিময় সভায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সরকারের কাজের জন্য আরও সময় চেয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্বের মূল বিষয় হলো মানুষের দুঃখ-কষ্ট কমানো এবং তাদের পাশে থাকা। দায়িত্ব পাওয়ার পর কয়েক মাস সময় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও কিছু সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

গত ১২ তারিখে জনগণ পরীক্ষা নিয়েছে এবং পাস নম্বর দিয়েছে—এমন বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আবার জনগণের কাছে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে। তখন জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাস বা ফেল—যেটি দেবে, সেটিই তারা মেনে নেবেন।

মানুষের কাছে যেসব কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি। তবে সব কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে এবং কোনো কোনো কাজ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ