ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি বনাম বেলজিয়াম: শেষ হাসি হাসল কে, জানুন ফল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১১:৫৫:১৯
ইতালি বনাম বেলজিয়াম: শেষ হাসি হাসল কে, জানুন ফল

ঘরের মাঠে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর গ্যালারি থেকে ভেসে এলো দুয়োধ্বনি। বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার জায়গা না পাওয়ার ছয় মাস পর উয়েফা নেশন্স লিগে ফিরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে সেই হতাশাই যেন আরও বাড়াল ইতালি। রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গোলের জন্য অপেক্ষা শেষ হয়নি, বরং শেষ বাঁশির পর শুনতে হয়েছে নিজেদের সমর্থকদের অসন্তোষ।

পরাজয়ের রাতে ইতালির আরেকটি হতাশার জায়গা ছিল সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা। ম্যাচে প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও ২১টি শট নেওয়া দলটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ছয়টি। কিন্তু একটিও গোল হয়নি।

অন্যদিকে ১৯টি শট নেওয়া বেলজিয়াম লক্ষ্যে রাখে আটটি। সেই আটটির মধ্য থেকেই দুটি গোল তুলে নিয়ে নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে জয় দিয়ে নেশন্স লিগ শুরু করে তারা।

গ্যালারির প্রতিক্রিয়া নিয়ে যা বললেন মানচিনি

ম্যাচের ফল ঘোষণার পর ইতালির খেলোয়াড়রা যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন রোমের গ্যালারি থেকে উচ্চস্বরে দুয়োধ্বনি আসে। এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোচ রবার্তো মানচিনির বক্তব্যও ছিল সরল।

তিনি বলেন, ‘আমরা হারলে কেউ খুশি হয় না। যখন আপনি হারবেন আপনাকে দুয়োধ্বনি শুনতে হতে পারে।’

মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেও তাই স্বস্তি ফেরেনি ইতালিতে। এর আগে গত মার্চে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফে হেরে টানা দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল তাদের।

আক্রমণ ছিল, গোল ছিল না

বেলজিয়ামের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ইতালি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। একাধিক আক্রমণও তৈরি হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তের কার্যকারিতার অভাবে সেসব প্রচেষ্টা স্কোরে রূপ নেয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭তম মিনিটে ইতালির একটি কোনাকুনি শট পা দিয়ে প্রতিহত করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে লেমেন্স। এরপর একটি হেড চলে যায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে। দুই মিনিট পর ফ্রান্সেসকো এসপোসিতোর হেডও বাধার মুখে পড়ে।

অর্থাৎ আক্রমণে সময় কাটালেও সমতা ফেরানোর মতো গোলটি আর বের করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

প্রথম গোলের পর দোন্নারুমার প্রতিরোধ

বেলজিয়ামের প্রথম গোলটি আসে ম্যাচের ২০তম মিনিটে। একজন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে মিকা গটস ইতালির জালে বল পাঠান।

জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তৃতীয় ম্যাচে গটসের প্রথম গোল।

গোলের পর অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। ২৩তম মিনিটে ডে কেটলার ও নিকোলাস রাসকিনের পরপর দুটি শট ঠেকান ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। অল্প সময় পর গটসের দ্রুতগতির হেডও ঠেকিয়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা গোলরক্ষক।

এই প্রতিরোধের কারণেই প্রথমার্ধে ব্যবধান আর বাড়তে দেয়নি ইতালি।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলেই ম্যাচের সমাপ্তি

ইতালির সমতায় ফেরার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু ৬৯তম মিনিটে সেই সম্ভাবনাতেও বড় ধাক্কা লাগে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা দোদি লুকেবাকিও ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শটে দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির জাল কাঁপান।

এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ২-০ ব্যবধান অক্ষুণ্ন রেখে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।

ফলে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থতার ছয় মাস পর নেশন্স লিগের মঞ্চেও ইতালির সংকট কাটল না। বিপরীতে মার্ক ফন বোমেলের অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল বেলজিয়াম।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ