ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উরুগুয়ে বনাম দক্ষিণ কোরিয়া: এক হালি গোল, দেখুন সর্বশেষ ফলাফল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৮:৩৯:৩৮
উরুগুয়ে বনাম দক্ষিণ কোরিয়া: এক হালি গোল, দেখুন সর্বশেষ ফলাফল

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়েছে উরুগুয়ে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৭০ মিনিটের খেলা শেষে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ৪-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে। দারউইন নুনিয়েজ করেছেন জোড়া গোল। বাকি দুটি গোল এসেছে জর্জিয়ান দে আরাসকায়েতা ও ভরেলার পা থেকে।

বিশেষ করে প্রথমার্ধেই ম্যাচের চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। ১৪ মিনিটে নুনিয়েজের গোলে শুরু হয় উরুগুয়ের গোল উৎসব। এরপর ২৭ মিনিটে দে আরাসকায়েতার দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট এবং ৪৩ মিনিটে ভরেলার গোলে বিরতির আগেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। দ্বিতীয়ার্ধে ৬২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরার পথ আরও কঠিন করে দেন নুনিয়েজ।

শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে উরুগুয়ে

ম্যাচের প্রথম দিকেই গোলের সুযোগ তৈরি করে উরুগুয়ে। ৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া বলে শট নেন পিকেরেজ। তবে তার প্রচেষ্টা কিম সেউং-গিউয়ের গোলের ওপর দিয়ে চলে যায়।

১০ মিনিটে দারউইন নুনিয়েজকে বক্সের কাছে একা পেয়ে গিয়েছিল উরুগুয়ে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিম মিন-জে বল সরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

তবে ১৪ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। আক্রমণাত্মক তৃতীয়াংশ থেকে দে আরাসকায়েতার নিখুঁত পাসে নুনিয়েজ একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিম সেউং-গিউকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে।

দে আরাসকায়েতার দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান বাড়ে

প্রথম গোলের পরও উরুগুয়ের আক্রমণের ধার কমেনি। ২৫ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলেও উরুগুয়ে পাল্টা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

২৭ মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন গোল। প্রায় ২৭ মিটার দূর থেকে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান জর্জিয়ান দে আরাসকায়েতা। কিম সেউং-গিউয়ের পক্ষে সেই শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ব্যবধান হয়ে যায় ২-০।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও উরুগুয়ের রক্ষণে খুব একটা ফাটল ধরাতে পারেনি।

বিরতির আগেই ৩-০

৩৫ মিনিটে সনের পাল্টা আক্রমণ থামিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাত্মক ভূমিকা রাখেন ভরেলা। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সেটি ছিল কঠিন সময়ের আরেকটি মুহূর্ত।

শেষ পর্যন্ত ৪৩ মিনিটে আবারও গোল করে উরুগুয়ে। মাঝমাঠ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দৌড়ে বক্সে ঢুকে কিম সেউং-গিউকে পরাস্ত করেন ভরেলা। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ তখন আক্রমণটি ঠেকাতে পারেনি।

ফলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সময় ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে উরুগুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে চার পরিবর্তন দক্ষিণ কোরিয়ার

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন আনে। কিম মিন-জে, হোয়াং হি-চ্যান, কিম বং-সু ও লি তায়ে-সক মাঠ ছাড়েন। তাদের জায়গায় নামেন কিম তায়ে-হিয়ন, পার্ক জিন-সিওগ, চো হিউন-তেক ও মিনসু কিম।

উরুগুয়ে অবশ্য একই একাদশ নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে।

পরিবর্তনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণে কিছুটা গতি দেখা যায়। ৫০ মিনিটে লি কাং-ইনের শট ফিরমারিন কর্নারের জন্য ঠেকিয়ে দেন। কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগেও কিম মিনসুর শট দ্বিতীয় চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক।

৫৫ মিনিটে আবারও কিম মিনসুর নিচু শট সামলে নেন ফিরমারিন। দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি আক্রমণ সামলে উরুগুয়ের গোলরক্ষক তখন দলকে এগিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।

নুনিয়েজের জোড়া গোল, স্কোর ৪-০

৬০ মিনিটে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। উরুগুয়ের টোরেইরার ক্রস দারউইন নুনিয়েজকে লক্ষ্য করে যায়। অন্য প্রান্তে পাল্টা আক্রমণে কিম মিনসু একা গোলের সুযোগ পেলেও ফিরমারিনকে পরাস্ত করতে পারেননি।

এর ঠিক দুই মিনিট পরেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নুনিয়েজ। ৬২ মিনিটে তার গোলে উরুগুয়ের লিড বেড়ে হয় ৪-০।

জাতীয় দলের হয়ে ২০২৪ সালের পর গোলের দেখা না পাওয়া নুনিয়েজ এই ম্যাচে একসঙ্গে দুটি গোল করে নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলেছেন।

পঞ্চম গোলের সুযোগও পেয়েছিল উরুগুয়ে

৭০ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ আসে উরুগুয়ের সামনে। ম্যাক্সি আরাউহো কিম সেউং-গিউয়ের সঙ্গে একা অবস্থায় চলে গিয়ে কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক জায়গা ঠিক রেখে সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন। পরে বল কর্নারের জন্য চলে যায়।

এদিকে ম্যাচের পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ রবার্তো মোরেনো বদলি খেলোয়াড়দের প্রস্তুত হতে বলেন। উরুগুয়ের আক্রমণাত্মক ফুটবলে সন্তুষ্ট দেখা যায় কোচ দিয়েগো ফোরলানকেও।

ম্যাচের আগে দুই দলের অবস্থান

এই ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়া ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল। ওই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেছিলেন ওহ হিয়ন-গিউ, সন হিয়ুং-মিন ও লি দং-গিয়ং। দলের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক স্পেন কোচ রবার্তো মোরেনো।

উরুগুয়ে এর আগে ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে। এরপর মার্সেলো বিয়েলসার স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক অধিনায়ক দিয়েগো ফোরলান। তার অধীনে প্রথম ম্যাচে জাপানের কাছে ১-৩ গোলে হেরেছিল উরুগুয়ে।

দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের মাঠে আগের চার ম্যাচে মোট ৮-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ৩২তম, যা উরুগুয়ের চেয়ে ১২ ধাপ ওপরে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে উরুগুয়ের পরিষ্কার এগিয়ে থাকা

দুই দলের পুরুষ জাতীয় দল এখন পর্যন্ত মোট ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে উরুগুয়ের জয় ৭টি, দুটি ম্যাচ ড্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জয় একটি।

বিশ্বকাপেও তিনবার দেখা হয়েছে দুই দলের। ১৯৯০ সালের গ্রুপ পর্বে ১-০ গোলে জিতেছিল উরুগুয়ে। ২০১০ সালের শেষ ষোলোতে লুইস সুয়ারেজের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় তারা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দুই দলের ম্যাচ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০১৮ সালের অক্টোবরে সিউলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। সেবার তারা উরুগুয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল।

সামনে দুই দলের আরও ম্যাচ

অক্টোবর ২০২৬ ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২ অক্টোবর উলসানের মুনসু স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে এবং ৬ অক্টোবর ইয়োঙ্গিনের মির স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। দুটি ম্যাচই স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়ার কথা।

উরুগুয়ের পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ৬ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে। অ্যাওয়ে ম্যাচটি ০৯:০০ সময়ে নির্ধারিত হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: