জমি আপনার নামে আছে, নাকি এখনও আগের মালিকের? জানুন সহজেই
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার পর শুধু দলিল হাতে থাকলেই মালিকানার রেকর্ড সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম উঠেছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই জমির রেকর্ড ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়।
অনলাইনে খতিয়ান যাচাইয়ের সময় মালিকের নামের পাশাপাশি মৌজা, জে এল নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকানার অংশের তথ্যও পাওয়া যায়। ফলে নিজের নামে জমির রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই শুরু করা সম্ভব।
দলিল থাকলেই খতিয়ানে নাম ওঠে না
জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো কারণে মালিকানা পরিবর্তিত হলে সেই পরিবর্তন ভূমি রেকর্ডে হালনাগাদ করার প্রয়োজন হয়। তাই হাতে জমির দলিল থাকার সঙ্গে খতিয়ানে নিজের নাম থাকার বিষয়টি এক নয়।
মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি বা মিউটেশন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমির স্বত্বের রেকর্ড নতুন মালিকের নামে হালনাগাদ করা হয়।
ঘরে বসে খতিয়ানে নিজের নাম যাচাই
খতিয়ান দেখতে হলে প্রথমে সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে। সেখানে ভূমির মালিকানা বা স্বত্বের ইতিবৃত্ত এবং দাগের ইতিবৃত্তসহ ভূমি রেকর্ডসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে দেখার সুবিধা রয়েছে।
অনুসন্ধানের আগে জমির অবস্থান ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য হাতে রাখলে কাজটি সহজ হয়। বিশেষ করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর জানা থাকলে নির্দিষ্ট রেকর্ড খুঁজে বের করা সুবিধাজনক।
অনলাইনে খতিয়ান যাচাইয়ের জন্য সাধারণভাবে যেভাবে এগোতে হবে—
১. সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হবে।
২. ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ বা ই-পর্চা-সংক্রান্ত সেবাটি নির্বাচন করতে হবে।
৩. জমিটি যে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজায় অবস্থিত, সেগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করতে হবে।
৪. হাতে থাকা খতিয়ান বা দাগ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে অনুসন্ধান করতে হবে।
৫. রেকর্ড পাওয়া গেলে সেখানে থাকা মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
শুধু নাম মিললেই যাচাই শেষ নয়
অনলাইনে খতিয়ান খুলে নিজের নাম দেখতে পাওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নাম মিলে গেলেই রেকর্ড যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন এবং একই ব্যক্তির নামও অন্য জমির রেকর্ডে থাকতে পারে। তাই খতিয়ানে নিজের নামের সঙ্গে পিতা বা স্বামীর নাম, মৌজার তথ্য, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকানার অংশও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
খতিয়ান, পর্চা নাকি দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী?
নামজারি আবেদন কেন বাতিল হয়? যেসব বিষয় জানা জরুরি
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রেকর্ডীয় মালিকের নামের সঙ্গে পিতা বা স্বামীর নাম এবং পূর্ণ ঠিকানার তথ্য ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
খতিয়ানে পুরোনো মালিকের নাম থাকলে
জমি কেনার পর অনলাইনে খতিয়ানে যদি আগের মালিকের নামই দেখা যায়, তাহলে নতুন মালিকের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে মালিকানা পরিবর্তনের রেকর্ড হালনাগাদের জন্য নামজারি বা মিউটেশন প্রয়োজন হতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্নভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর ভূমিস্বত্ব হালনাগাদের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিউটেশন আবেদন করতে হয়।
আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মিউটেশন খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। অনলাইনে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
নামজারি সম্পন্ন হলে খতিয়ান পাওয়ার উপায়
নামজারি অনুমোদনের পর অনলাইনে কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ান পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে ডিআরসি ফি পরিশোধ করার পর আবেদন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে খতিয়ান এবং ডিআরসি প্রিন্ট কপি নেওয়া যায়।
অনলাইনে পাওয়া এ ধরনের খতিয়ান ও ডিআরসিও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
খতিয়ানের অনলাইন কপির ফি কত
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, খতিয়ানের অনলাইন কপির জন্য ১০০ টাকা দিতে হয়। সার্টিফায়েড খতিয়ানের আবেদন ফিও ১০০ টাকা। তবে ডাকযোগে গ্রহণ করলে এর সঙ্গে প্রযোজ্য ডাক মাশুল যোগ হবে।
এ ছাড়া খতিয়ান সংশোধনের আবেদনের নির্ধারিত ফি ২০ টাকা। মৌজা ম্যাপের জন্য নির্ধারিত ফি ৫২০ টাকা। দেশের ভেতরে ডাকযোগে সরবরাহের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ১১০ টাকা ডাক মাশুল রয়েছে।
নিজের নাম থাকলেও রেকর্ডের সব তথ্য মিলিয়ে নিন
খতিয়ানে নিজের নাম থাকার পরও দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ কিংবা মালিকানার অংশে ভুল বা অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটি দেখা জরুরি। কোনো তথ্য সঠিক না থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা উচিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি সেবার মাধ্যমে আবেদন করা যায়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সুবিধার তালিকায় খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, জমাভাগ, জমা একত্রিকরণ এবং ভূমির মালিকানা বা স্বত্বের ইতিবৃত্ত অনলাইনে পাওয়ার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে
সব জমির রেকর্ড একই সময়ে একইভাবে অনলাইনে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পুরোনো রেকর্ড, বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী খতিয়ানের পরিবর্তন কিংবা রেকর্ড হালনাগাদের বিষয় থাকলে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইনে পাওয়া তথ্য নিয়ে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করা নিরাপদ। ভূমি-সংক্রান্ত সেবার জন্য সরকারি ১৬১২২ কলসেন্টারেও যোগাযোগ করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে জমির দলিল, নামজারি খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকানার অংশ মিলিয়ে দেখা। কারণ নামজারি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে ভূমির রেকর্ড হালনাগাদ হতে পারে।
জমির খতিয়ান যাচাইয়ে যা মনে রাখবেন
খতিয়ানে নিজের নাম রয়েছে কি না জানতে সরকারি ভূমি রেকর্ড সেবায় জমির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। তবে শুধু মালিকের নাম নয়, পিতা বা স্বামীর নাম, মৌজা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং নিজের মালিকানার অংশও যাচাই করা উচিত।
জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর খতিয়ানে নাম না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি বা মিউটেশনের মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে। আর সরকারি সেবার তথ্য ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
FAQ
প্রশ্ন: খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না অনলাইনে দেখা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমির রেকর্ড ও মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই করা যায়।
প্রশ্ন: খতিয়ান খুঁজতে কী তথ্য প্রয়োজন হতে পারে?
উত্তর: জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর জানা থাকলে অনুসন্ধান করা সহজ হয়।
প্রশ্ন: জমি কেনার পরও খতিয়ানে আগের মালিকের নাম থাকলে কী করতে হবে?
উত্তর: প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি বা মিউটেশনের মাধ্যমে ভূমিস্বত্বের রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে।
প্রশ্ন: খতিয়ানের অনলাইন কপি পেতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: নির্ধারিত ফি অনুযায়ী খতিয়ানের অনলাইন কপির জন্য ১০০ টাকা লাগে। সার্টিফায়েড খতিয়ানের আবেদন ফিও ১০০ টাকা; ডাকযোগে নিলে প্রযোজ্য ডাক মাশুল যুক্ত হবে।
প্রশ্ন: অনলাইনে জমির তথ্য না মিললে কোথায় যোগাযোগ করা যাবে?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করা যায়। ভূমি-সংক্রান্ত সেবার জন্য সরকারি ১৬১২২ কলসেন্টারেও যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না দেখবেন যেভাবে, জানুন সহজ পদ্ধতি
- চলছে আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ, কখন, কোথায় কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- vivo X500 Pro Max: ২০০MP ক্যামেরা ও ৮০০০mAh ব্যাটারি
- HONOR Magic9 Pro Max: দাম, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও স্পেসিফিকেশন
- আবহাওয়ার খবর: ৬০ কিমি বেগে হাওয়ার শঙ্কা, ৩ বন্দরে সংকেত
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার মান
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সেমিফাইনাল, কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজকের সৌদি রিয়াল রেট (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)