ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরনো খতিয়ান থেকে বর্তমান মালিকের তথ্য বের করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১১:৩০:০৫
পুরনো খতিয়ান থেকে বর্তমান মালিকের তথ্য বের করবেন যেভাবে

জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা পুরনো সম্পত্তির মালিকানা যাচাইয়ের সময় অনেকের হাতেই থাকে কয়েক দশক আগের খতিয়ান। সেখানে যে ব্যক্তির নাম রয়েছে, তিনি যে এখনও ওই জমির বর্তমান মালিক—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার, হস্তান্তর বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় মালিকানা বদলে গেলে সরকারি রেকর্ডও হালনাগাদ হওয়ার কথা। তাই পুরনো খতিয়ান থেকে বর্তমান মালিকের তথ্য জানতে হলে পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে সর্বশেষ খতিয়ান ও মিউটেশনের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ের জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান তৈরি হয়েছে। ফলে একই জমির ক্ষেত্রে সিএস, এসএ/এমআরএস, আরএস, বিএস বা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রযোজ্য অন্য জরিপের রেকর্ড থাকতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন নির্দেশিকাতেও জমির তথ্য যাচাই ও মিউটেশনের ক্ষেত্রে এলাকার জন্য প্রযোজ্য সর্বশেষ জরিপ রেকর্ড নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে।

পুরনো খতিয়ান থেকে তথ্য নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি

প্রথমেই পুরনো খতিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আলাদা করে নিতে হবে। বিশেষ করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মৌজার নাম, জেএল নম্বর, মালিকের নাম এবং জমির পরিমাণ নোট করে রাখা দরকার। কারণ পরবর্তী রেকর্ডে একই জমির খতিয়ান বা দাগের তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।

খতিয়ানে সাধারণত মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজা, দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমাণ এবং মালিকের অংশের মতো তথ্য থাকে। মিউটেশন সম্পন্ন হওয়ার পর তৈরি খতিয়ানেও এসব তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিকানা পরিবর্তনের হিসাব পাওয়া যায়।

ধাপ ১: পুরনো খতিয়ানের দাগ ও মৌজার তথ্য নিন

পুরনো খতিয়ান হাতে পাওয়ার পর প্রথমে মৌজার নাম, জেএল নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং দাগ নম্বর লিখে রাখুন। শুধু মালিকের নাম ধরে বর্তমান মালিক খোঁজার চেষ্টা না করে জমির পরিচিতি হিসেবে দাগ ও মৌজার তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ সময়ের সঙ্গে মালিকানা পরিবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন জরিপে জমির রেকর্ডও নতুনভাবে প্রস্তুত হতে পারে। তাই পুরনো খতিয়ানের সঙ্গে পরবর্তী জরিপের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে খতিয়ান ও ম্যাপ খোঁজার ই-সেবা রয়েছে।

ধাপ ২: সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ খতিয়ান খুঁজুন

পুরনো খতিয়ানের তথ্য হাতে নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ প্রযোজ্য রেকর্ড খুঁজতে হবে। সরকারি ভূমি-সেবা কাঠামোয় ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপের জন্য আলাদা সেবা রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাইটেও খতিয়ান ও ম্যাপ খোঁজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরনো খতিয়ানের নম্বর আর বর্তমান খতিয়ানের নম্বর এক নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু পুরনো খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে কাঙ্ক্ষিত তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। দাগ, মৌজা ও জমির অন্যান্য পরিচিতি মিলিয়ে রেকর্ড শনাক্ত করতে হতে পারে।

ধাপ ৩: পুরনো দাগের সঙ্গে বর্তমান দাগ মিলিয়ে দেখুন

জমির মালিকানা অনুসন্ধানে দাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো খতিয়ানে যে দাগ নম্বর আছে, সেটি পরবর্তী জরিপে একইভাবে রয়েছে কি না, নাকি নতুন দাগ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—তা যাচাই করতে হবে।

এ পর্যায়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মৌজার নকশা ও পরবর্তী জরিপের রেকর্ড দেখতে হবে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে খতিয়ান ও ম্যাপ খোঁজার সেবা রয়েছে, যা এই যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।

ধাপ ৪: বর্তমান খতিয়ানে কার নাম আছে দেখুন

পুরনো খতিয়ানের সঙ্গে সর্বশেষ রেকর্ড মিলিয়ে বর্তমান খতিয়ানে মালিক বা মালিকদের নাম পরীক্ষা করতে হবে। এখানেই বোঝা যাবে পুরনো খতিয়ানে থাকা ব্যক্তি এখনও রেকর্ডে আছেন কি না, নাকি পরবর্তী সময়ে অন্য কারও নামে রেকর্ড হয়েছে।

তবে এটিও মনে রাখতে হবে, খতিয়ানের তথ্য একা কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ মালিকানা যাচাইয়ের বিকল্প নয়। জমির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দলিল, উত্তরাধিকার এবং মিউটেশনের মতো সংশ্লিষ্ট নথিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ধাপ ৫: মিউটেশন হয়েছে কি না যাচাই করুন

পুরনো খতিয়ানে থাকা মালিকের পর জমিটি বিক্রি, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে হস্তান্তর হয়ে থাকলে মিউটেশনের মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করা হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈধভাবে ভূমির মালিকানা অর্জনের পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নামে তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াই মিউটেশন। মিউটেশন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় এবং সেখানে জমির দাগ, পরিমাণ ও মালিকের অংশের মতো তথ্য থাকে।

এ কারণে পুরনো খতিয়ানে একজনের নাম থাকলেও মিউটেশন হয়ে থাকলে পরবর্তী খতিয়ানে অন্য ব্যক্তির নাম পাওয়া যেতে পারে।

সরকারি ই-মিউটেশন সেবা

ধাপ ৬: মিউটেশনের ভিত্তি কী ছিল, সেটিও দেখুন

শুধু বর্তমান খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম পাওয়া গেলেই অনুসন্ধান শেষ করা উচিত নয়—বিশেষ করে জমি কেনাবেচা বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে।

মালিকানা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, সেটি বুঝতে সংশ্লিষ্ট দলিল বা উত্তরাধিকারসূত্রের কাগজপত্র এবং মিউটেশন রেকর্ড মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন নির্দেশিকায় দলিলসূত্রে মালিক হলে দলিল নম্বর, তারিখ ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ পুরনো মালিক থেকে বর্তমান মালিক পর্যন্ত মালিকানা পরিবর্তনের ধারাটি যতটা সম্ভব নথির মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা নিরাপদ।

ধাপ ৭: প্রয়োজন হলে খতিয়ানের প্রত্যয়িত কপি নিন

অনলাইনে কোনো তথ্য পাওয়া গেলেই সেটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমি কেনাবেচা, মামলা বা গুরুত্বপূর্ণ আইনগত কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খতিয়ানের প্রত্যয়িত কপি ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা উচিত।

আরও পড়ুন:

খতিয়ান, পর্চা নাকি দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী?

নামজারি আবেদন কেন বাতিল হয়? যেসব বিষয় জানা জরুরি

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর খতিয়ান ও পর্চা-সংক্রান্ত সেবা এবং তথ্যের ব্যবস্থা রেখেছে। তাদের ওয়েবসাইটে খতিয়ান-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার তথ্য পাওয়া যায়।

পুরনো খতিয়ান থেকে বর্তমান মালিক বের করার সহজ সূত্র

পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে মনে রাখতে চাইলে বিষয়টি এভাবে সাজানো যায়—

পুরনো খতিয়ান → মৌজা ও দাগ শনাক্ত → পরবর্তী/সর্বশেষ জরিপের রেকর্ড মিলানো → বর্তমান খতিয়ান দেখা → মিউটেশন যাচাই → দলিল বা উত্তরাধিকারসূত্রের নথি মিলানো।

এই ধারায় এগোলে শুধু পুরনো খতিয়ানে থাকা নামের ওপর নির্ভর না করে জমিটির বর্তমান রেকর্ডের সঙ্গে মালিকানা পরিবর্তনের তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়।

পুরনো খতিয়ানে নাম আছে, কিন্তু বর্তমান মালিক অন্য—কেন?

এটি অস্বাভাবিক নয়। পুরনো খতিয়ান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের রেকর্ডের মালিকানা তথ্য তুলে ধরে। পরে জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার বা অন্য বৈধ হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তিত হলে রেকর্ডও পরিবর্তিত হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জরিপ-পরবর্তী সময়ে রেকর্ডীয় মালিকের মৃত্যুতে উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা রেকর্ডীয় মালিক বা তার উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্নভাবে হস্তান্তরের কারণে ভূমিস্বত্ব হালনাগাদ করতে মিউটেশন আবেদন করতে হয়।

তাই পুরনো খতিয়ানে থাকা নামকে বর্তমান মালিকের চূড়ান্ত পরিচয় হিসেবে না দেখে সেটিকে মালিকানা অনুসন্ধানের প্রাথমিক সূত্র হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।

অনলাইনে তথ্য না মিললে কী করবেন?

সব এলাকার পুরনো বা ঐতিহাসিক রেকর্ড একইভাবে অনলাইনে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার পুরনো দাগ বা খতিয়ানের সঙ্গে বর্তমান রেকর্ডের সরাসরি মিল খুঁজে পাওয়াও সব সময় সহজ হয় না।

এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা ভূমি রেকর্ড-সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর চালু রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়ন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পুরনো খতিয়ানে কারও নাম রয়েছে বলেই তিনি বর্তমানে ওই জমির মালিক—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আবার অনলাইনে কোনো নাম দেখা গেলেই জমি কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়াও নিরাপদ নয়।

জমির বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের সময় সর্বশেষ প্রযোজ্য খতিয়ান, দাগ ও মৌজার তথ্য, মিউটেশন রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট দলিল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে জমি কেনার আগে নথিপত্রে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করা ভালো।

পুরনো খতিয়ান থেকে বর্তমান মালিক খোঁজার সারসংক্ষেপ

যা দেখবেনকেন গুরুত্বপূর্ণ
পুরনো খতিয়ান নম্বর প্রাথমিক রেকর্ড শনাক্ত করতে
মৌজার নাম ও জেএল নম্বর জমির অবস্থান নিশ্চিত করতে
পুরনো দাগ নম্বর পরবর্তী রেকর্ডের সঙ্গে মিলাতে
সর্বশেষ খতিয়ান বর্তমান রেকর্ডীয় মালিকের তথ্য জানতে
মিউটেশন রেকর্ড মালিকানা পরিবর্তনের রেকর্ড যাচাই করতে
দলিল/উত্তরাধিকার নথি মালিকানা পরিবর্তনের ভিত্তি যাচাই করতে
নকশা/ম্যাপ দাগ ও জমির অবস্থান মিলিয়ে দেখতে

FAQ

১. পুরনো খতিয়ানে যার নাম আছে, তিনিই কি বর্তমান মালিক?

অবশ্যই এমন নয়। পরবর্তী সময়ে বিক্রি, উত্তরাধিকার বা অন্য বৈধ হস্তান্তরের কারণে মালিকানা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ রেকর্ড ও মিউটেশনসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করতে হবে।

২. শুধু খতিয়ান নম্বর দিয়ে বর্তমান মালিকের তথ্য পাওয়া যাবে?

সব ক্ষেত্রে নাও যেতে পারে। পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান দাগ, মৌজা এবং প্রযোজ্য সর্বশেষ জরিপের তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৩. মিউটেশন খতিয়ানে কী ধরনের তথ্য থাকে?

মিউটেশন সম্পন্ন হলে খতিয়ানে মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজা ও জেএল নম্বর, দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমাণ এবং মালিকের প্রাপ্য অংশের মতো তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

৪. অনলাইনে পুরনো খতিয়ান না পাওয়া গেলে কোথায় যোগাযোগ করব?

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা ভূমি রেকর্ড-সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা সহায়তার হটলাইন ১৬১২২।

৫. জমি কেনার আগে শুধু বর্তমান খতিয়ান দেখলেই হবে?

গুরুত্বপূর্ণ জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে শুধু একটি নথির ওপর নির্ভর না করে খতিয়ান, দাগ, মিউটেশন, সংশ্লিষ্ট দলিল ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি মিলিয়ে দেখা উচিত। নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে সর্বশেষ খতিয়ানের বিষয়েও আইনি বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি তথ্য বাতায়ন, ই-মিউটেশন সিস্টেম এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ