ডিভিডেন্ড মৌসুমেও পতন, শেয়ারবাজারে আস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ডিভিডেন্ড ঘোষণার সময়েও স্বস্তি ফিরছে না দেশের শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ৪ অক্টোবর ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক কমেছে, কমেছে লেনদেনের পরিমাণ এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এমনকি জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণার মৌসুম চললেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে টানা দরপতন কতটা দীর্ঘ হবে, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বাজারসংশ্লিষ্টদের কাছে। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে স্বাভাবিকভাবেই উত্থান-পতন থাকবে। কিন্তু কোনো একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের চলাচল অব্যাহত থাকলে সেটি ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে পতন দীর্ঘ হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
৪ অক্টোবরের বাজারে দুর্বলতার চিত্র
দিনের শুরু থেকেই যে বাজারে চাপ ছিল, তার প্রতিফলন দেখা গেছে লেনদেন শেষে প্রকাশিত বিভিন্ন সূচকে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে ৪৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। ফলে সূচকটি ৫ হাজার ৪৮২ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
শুধু প্রধান সূচক নয়, বাকি দুই সূচকও নিম্নমুখী ছিল। ডিএসইএস ১০ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে ডিএসই-৩০ কমেছে ১৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট; দিন শেষে এর অবস্থান হয়েছে ২ হাজার ৮৫ দশমিক ২৯ পয়েন্ট।
শেয়ারদরের চিত্রও সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ডিএসইতে ওই দিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯১টির দর কমেছে। দর বাড়তে পেরেছে ৬৬টির। আর ৫২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
লেনদেনও নেমেছে আগের দিনের তুলনায়
বাজারের দুর্বলতা শুধু সূচক ও শেয়ারদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। টাকার অঙ্কেও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
৪ অক্টোবর ডিএসইতে প্রায় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৮০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
ফলে সপ্তাহের শুরুতেই সূচকের পতনের সঙ্গে বাজারের লেনদেনেও বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা গেছে।
ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও নিম্নমুখী বাজার
ঢাকার বাজারের সঙ্গে দিনের শেষ চিত্রে মিল ছিল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বাজারেও। ৪ অক্টোবর সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের দিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
সিএসইতে ওই দিন মোট ১৭১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআইও দিনের শেষে নিম্নমুখী ছিল। ১৭১ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে সূচকটি ১৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। এর আগের দিন সিএএসপিআই ১৭ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়েছিল।
ডিভিডেন্ডের মৌসুমেও কেন বাড়ছে না আগ্রহ
বর্তমানে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণার মৌসুম চলছে। এমন সময়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও বাজারের সাম্প্রতিক গতিতে তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ধারাবাহিক দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পতনের বাজারে অপেক্ষাকৃত কম দামে ভালো শেয়ার কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময় যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং পতনের ধারাও থামার কোনো লক্ষণ না থাকে, তখন বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে যেতে পারে।
দীর্ঘ সময়ের পতনে ধৈর্য হারিয়ে কেউ কেউ লোকসানেই শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। আর এমন প্রবণতা তৈরি হলে বাজারে আস্থার সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৎপরতা চান বাজারসংশ্লিষ্টরা
এই পরিস্থিতিতে বাজারের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যেও বাজারকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়ছে।
তাদের মতে, শুধু বাজারের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করলেই হবে না; কেন ধারাবাহিক দরপতন হচ্ছে, সেটিও খুঁজে দেখা প্রয়োজন। এজন্য বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার পাশাপাশি দরপতনের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
বাজারসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে, শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বগতি যেমন স্বাভাবিক নয়, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী পতনও কাম্য নয়। কারণ একটি বাজারের কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
৪ অক্টোবরের লেনদেনে ডিএসই ও সিএসই—দুই বাজারেই সূচক ও লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও নিম্নমুখী ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার মৌসুমেও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত আগ্রহের অনুপস্থিতি।
ফলে ধারাবাহিক পতন আরও দীর্ঘ হওয়ার আগে বাজারের আস্থা ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে। বাজার মনিটরিং বাড়ানো, পতনের কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়েই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোর প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
৪ অক্টোবরের শেয়ারবাজার এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ডিএসইএক্স | ৪৯.২৮ পয়েন্ট কমে ৫,৪৮২.৩৬ |
| ডিএসইএস | ১০.৫৮ পয়েন্ট কমে ১,০৮৯.৬৭ |
| ডিএসই-৩০ | ১৮.২৫ পয়েন্ট কমে ২,০৮৫.২৯ |
| ডিএসইতে মোট লেনদেন | ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা |
| আগের কর্মদিবসে ডিএসই লেনদেন | ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকা |
| এক দিনে লেনদেন কমেছে | ১৮০ কোটি ১৩ লাখ টাকা |
| ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান | ৩৮৫টি |
| দর বেড়েছে | ৬৬টি |
| দর কমেছে | ২৯১টি |
| দর অপরিবর্তিত | ৫২৮টি |
| সিএসইতে লেনদেন | ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা |
| আগের দিন সিএসই লেনদেন | ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা |
| সিএএসপিআই | ১৭১.২০ পয়েন্ট কমে ১৪,৬৬০.৭৭ |
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো ম্যাচ ৪ তারিখ সকালে, দেখবেন যেভাবে লাইভ
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৫টি দেশের টাকার মান
- আর্জেন্টিনা বনাম বুরকিনা ফাসো ম্যাচ কখন, কোথায়, কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আজ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আজ: লাইভ দেখার সহজ উপায়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: শেষ পর্যন্ত কী হলো ম্যাচে, জানুন ফলাফল
- চলছে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল: সরাসরি দেখুন Live
- আজ ১০/০৩/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের টাকার রেট কত: বাড়লো ২০টি দেশের টাকার মান
- বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কে জিতল?