ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির নতুন দর কত?

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:৫৫:৫৬
এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির নতুন দর কত?

একদিকে বাজারে এলপিজি মিলছে না, অন্যদিকে কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে—এমন অভিযোগের মধ্যেই আবার বাড়ল গ্যাসটির দাম। অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর অনুযায়ী এখন এই সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

রোববার বিকেলে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পরই সন্ধ্যা থেকে তা কার্যকর হয়েছে। শুধু ১২ কেজি নয়, সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও একই হারে বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে একদিকে নির্ধারিত মূল্যই বেড়েছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উদ্বেগ। কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

নতুন দরে কত হলো এলপিজি ও অটোগ্যাস

বিইআরসির নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজির এলপিজির দর দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আগের মাসে এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি, অর্থাৎ অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ৭৩ টাকা ৯ পয়সার পরিবর্তে এখন দাম হবে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সেটির দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা রাখা হয়েছে। যদিও সরকারি এই এলপিজির সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের অধিকাংশই তা কিনতে পারেন না।

দাম বাড়ার সময়েই বাজারে সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন

এলপিজির নতুন দর ঘোষণার আগে থেকেই বাজারে সরবরাহ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকেরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ২৫ সেপ্টেম্বরের পর। ওই সময় কয়েকটি ডিপো থেকে এলপিজির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

তবে আমদানিকারকদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা সরবরাহ কমানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, বিইআরসি নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।

শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকেরা একই অবস্থান তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়াও বেড়েছে। তারপরও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বাজারে কারসাজির ঘটনা থাকলে সেটি আমদানিকারক পর্যায়ে নয়, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের পর্যায়ে হতে পারে বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা।

১২ আমদানিকারকের তথ্য চেয়েছে বিইআরসি

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নিয়েছে বিইআরসি। ১২ আমদানিকারকের কাছে সেপ্টেম্বর মাসে কত এলপিজি আমদানি ও কত পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, তার তথ্য চাওয়া হয়েছে।

শনিবার চিঠি দিয়ে রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়। আমদানির পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য হাতে পাওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেই কি বাড়ল দাম?

দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পরিবর্তনকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে বিইআরসি। কমিশন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের এলপিজির নতুন দর নির্ধারণ করে।

বিইআরসির বক্তব্য অনুযায়ী, এবার আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারের নতুন দরে যুক্ত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমলেও পরবর্তী কয়েক মাসে বাজারে আবার দামের ওঠানামা দেখা গেছে। অক্টোবরের নতুন মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

বছরের শুরু থেকে বারবার বদলেছে ১২ কেজির দর

চলতি বছর ১২ কেজি এলপিজির দামে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা ১ হাজার ৩৫৬ টাকায় ওঠে। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমে দর দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

মার্চে দাম একই থাকলেও এপ্রিলে বড় পরিবর্তন আসে। ওই মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় নেওয়া হয়।

এরপর আবার কমতে শুরু করে দাম। জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে ৭০ টাকা বাড়িয়ে মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। এক মাস না যেতেই এবার সেই দরের সঙ্গে আরও ২৫২ টাকা যোগ হলো।

২০২১ সালে মাসভিত্তিক দাম নির্ধারণ শুরু

বিইআরসির হিসাবে, বাংলাদেশে প্রথমবার মাসভিত্তিক এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ছিল ৯৭৫ টাকা।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে এলপিজির দাম বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। কখনো দাম কমেছে, কখনো বেড়েছে। তবে বিইআরসির হিসাব অনুযায়ী, কমার তুলনায় দাম বাড়ার প্রবণতা বেশি ছিল।

এবার অক্টোবরের জন্য নতুন দর কার্যকর হওয়ায় ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত মূল্য দাঁড়াল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আর এই মূল্যবৃদ্ধির সময়েই বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি বিইআরসির নজরদারিতে রয়েছে।

FAQ

প্রশ্ন: বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম কত?

উত্তর: অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

প্রশ্ন: এলপিজির নতুন দাম কখন থেকে কার্যকর হয়েছে?

উত্তর: রোববার সন্ধ্যা থেকেই নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়েছে।

প্রশ্ন: অটোগ্যাসের নতুন দাম কত?

উত্তর: প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা হয়েছে।

প্রশ্ন: সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম কি বেড়েছে?

উত্তর: না। সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে এর সরবরাহ খুবই সীমিত।

প্রশ্ন: এলপিজির দাম বাড়ানোর কারণ কী বলেছে বিইআরসি?

উত্তর: আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ