ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্ট হাতে পেতে কত দিন লাগে, আবেদনের আগে জেনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:১০:২২
পাসপোর্ট হাতে পেতে কত দিন লাগে, আবেদনের আগে জেনে নিন

বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। তবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার আগে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি আসে, তা হলো—আবেদন করার পর হাতে পেতে কত দিন লাগে? বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সময় নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের ডেলিভারি সেবা বেছে নিচ্ছেন তার ওপর। বর্তমানে নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস—এই তিন ধরনের ডেলিভারি সুবিধা রয়েছে। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর নিয়মিত সেবায় সর্বোচ্চ ২১ দিন, এক্সপ্রেসে ১০ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেসে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে।

কোন সেবায় কত দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যায়?

পাসপোর্ট পাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। কারণ আবেদন অনলাইনে করার দিন থেকেই সময় গণনা শুরু হয় না। সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা সময়সীমা বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে গণনা করা হয়।

ডেলিভারি সেবাসরকারি সময়সীমা
Regular ১৫ কর্মদিবস / ২১ দিন
Express ৭ কর্মদিবস / ১০ দিন
Super Express ২ কর্মদিবস

অর্থাৎ, সাধারণভাবে পাসপোর্টের প্রয়োজন থাকলে নিয়মিত সেবা বেছে নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় হাতে রাখা ভালো। আর দ্রুত প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস সেবা নেওয়া যায়। সরকারি পোর্টালের বর্তমান তথ্যেই এই তিন ধরনের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সময় গণনা শুরু হবে কখন?

ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন ফরম পূরণ বা ফি পরিশোধ করলেই নির্ধারিত সময় গণনা শুরু হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। সরকারি পোর্টালের ডেলিভারি সময়সীমাও এই বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখকে ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

তাই কেউ যদি আজ অনলাইনে আবেদন করেন কিন্তু কয়েক দিন পর বায়োমেট্রিক দেন, তাহলে পাসপোর্ট পাওয়ার সময় হিসাব করতে হবে বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন থেকে।

এটি মাথায় না রাখলে অনেকেই মনে করতে পারেন যে আবেদন করার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট আসছে না।

পাসপোর্টের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?

পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রিন্ট করা আবেদন সারাংশ, পরিচয়পত্র হিসেবে মূল NID বা জন্মনিবন্ধন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেমেন্ট স্লিপ, আগের পাসপোর্ট এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে GO/NOC প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনের ধরন বা তথ্য সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত কাগজপত্রও লাগতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে নিজের ক্ষেত্রে কোন কোন নথি প্রযোজ্য, সেটি যাচাই করে নেওয়া ভালো। কাগজপত্রে তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ই-পাসপোর্টের ফি কত?

পাসপোর্টRegularExpressSuper Express
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য নিয়মিত ডেলিভারি ফি ৪,০২৫ টাকা, এক্সপ্রেস ৬,৩২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা।

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফি ৫,৭৫০ টাকা, এক্সপ্রেস ৮,০৫০ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ১০,৩৫০ টাকা।

অন্যদিকে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি আরও বেশি। ৫ বছর মেয়াদে নিয়মিত ৬,৩২৫ টাকা, এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ১২,০৭৫ টাকা। ১০ বছর মেয়াদে এই তিন ধরনের ফি যথাক্রমে ৮,০৫০ টাকা, ১০,৩৫০ টাকা এবং ১৩,৮০০ টাকা।

ই-পাসপোর্টের ফি এক নজরে

সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এসব ফি দেশের ভেতরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরে কি Regular থেকে Express করা যায়?

কোনো কারণে আবেদন করার পর দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডেলিভারি সেবা আপগ্রেড করার সুযোগ রয়েছে। ই-পাসপোর্টের সরকারি FAQ অনুযায়ী, আবেদনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং পাসপোর্ট তৈরি না হলে Regular থেকে Express ডেলিভারিতে আপগ্রেড করা সম্ভব। এজন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হয় এবং পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগের সময় ডেলিভারি স্লিপ ও অতিরিক্ত ফি দেওয়ার পেমেন্ট স্লিপ সঙ্গে রাখতে হয়।

তবে শেষ মুহূর্তে আপগ্রেডের ওপর নির্ভর না করে বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসা আবেদনের পরিকল্পনা থাকলে আগেই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা নিরাপদ।

সুপার এক্সপ্রেসে পাসপোর্ট পেতে কী সুবিধা?

যাদের খুব দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন, তাদের জন্য সুপার এক্সপ্রেস সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারি সুবিধা। সরকারি পোর্টালে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর ২ কর্মদিবসের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেসে পাসপোর্ট দেওয়ার সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এটি নির্ধারিত সরকারি সময়সীমা; আবেদনকারীর তথ্য, প্রয়োজনীয় যাচাই বা অন্য কোনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা থাকলে বাস্তবে সময় ভিন্ন হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার একেবারে শেষ মুহূর্তে আবেদন না করাই ভালো।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা

সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় NOC বা অবসর-সংক্রান্ত নথি থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ডেলিভারি সুবিধার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তারা নিয়মিত ফি দিয়ে Express সুবিধা এবং Express ফি দিয়ে Super Express সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

পাসপোর্ট হাতে পেতে দেরি হলে কী করবেন?

প্রথমেই আবেদনটির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য নথিতে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় আবেদনসংক্রান্ত ডেলিভারি স্লিপ ও প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখা ভালো। সরকারি পোর্টালেও এনরোলমেন্টের সময় আবেদন সারাংশ, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা থাকলে পরে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যায়।

প্রথমত, অনলাইনে আবেদন করার দিন থেকে ডেলিভারির সময় গণনা করবেন না; মূল সময়সীমা বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে ধরা হয়।

দ্বিতীয়ত, বিদেশে যাওয়ার তারিখের একেবারে কাছাকাছি সময়ে আবেদন না করে হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখা উচিত।

তৃতীয়ত, NID বা জন্মনিবন্ধনসহ আবেদনপত্রের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে দেওয়া জরুরি।

চতুর্থত, দ্রুত পাসপোর্ট দরকার হলে আবেদনের সময়ই উপযুক্ত ডেলিভারি সেবা নির্বাচন করা ভালো।

সবশেষে, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত সর্বশেষ সময়সীমাই অনুসরণ করা উচিত। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে Regular ডেলিভারিতে ১৫ কর্মদিবস/২১ দিন, Express-এ ৭ কর্মদিবস/১০ দিন এবং Super Express-এ ২ কর্মদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

FAQ

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট Regular ডেলিভারিতে কত দিনে পাওয়া যায়?

উত্তর: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে Regular ডেলিভারিতে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার সরকারি সময়সীমা রয়েছে।

প্রশ্ন: Express পাসপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?

উত্তর: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর Express ডেলিভারিতে ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের সময়সীমা রয়েছে।

প্রশ্ন: Super Express পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?

উত্তর: সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর Super Express ডেলিভারিতে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা।

প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করার দিন থেকেই কি পাসপোর্ট পাওয়ার সময় গণনা হয়?

উত্তর: না। নির্ধারিত ডেলিভারি সময়সীমা বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে গণনা করা হয়।

প্রশ্ন: আবেদন করার পর Regular থেকে Express করা যায় কি?

উত্তর: আবেদনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং পাসপোর্ট তৈরি না হলে নির্দিষ্ট নিয়মে অতিরিক্ত ফি দিয়ে Express ডেলিভারিতে আপগ্রেড করা যায়।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: