সূচক বাড়লেও স্বস্তি নেই, শেয়ারবাজারের একই ধারা নিয়ে প্রশ্ন
এক দিনের উত্থানে বুধবার দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারের সামগ্রিক চিত্রে পুরোপুরি স্বস্তির জায়গা তৈরি হয়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন—দুটিই বেড়েছে, কিন্তু চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। এর মধ্যে টানা চার কার্যদিবস পতনের পর আবার উত্থানের যে ধারা গত সপ্তাহে দেখা গিয়েছিল, চলতি সপ্তাহেও একইভাবে ফিরে আসায় বাজারের এই ওঠানামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭ অক্টোবর বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮.৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩.৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১১.১৮ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬.০৩ পয়েন্ট। আর নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ১৯.৭৪ পয়েন্ট; দিনের শেষে এর অবস্থান ২ হাজার ৯৬.৮৩ পয়েন্ট।
ডিএসইতে ৪০ কোটি টাকার বেশি বাড়ল লেনদেন
সূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে। বুধবার প্রায় ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
তবে বাজারের সব প্রতিষ্ঠানে উত্থানের চিত্র দেখা যায়নি। এদিন ডিএসইতে ৩৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৩৪টির এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সিএসইতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, কমেছে লেনদেন
ডিএসইর সঙ্গে বুধবার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচকও বেড়েছে। সিএএসপিআই ৯৮.১৪ পয়েন্ট যোগ হয়ে ১৪ হাজার ৬৫৫.৭৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এর আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৬২.৯১ পয়েন্ট কমেছিল।
তবে সূচকের উত্থানের বিপরীতে সিএসইতে লেনদেন কমেছে। বুধবার সেখানে মোট ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ১৬৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৬৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৮৫টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
পরপর দুই সপ্তাহে একই ছক
বাজারের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েক দিনের গতিপথই এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে, গত সপ্তাহে টানা চার কার্যদিবস সূচক কমার পর একদিন উত্থান হয়েছিল। চলতি সপ্তাহেও চার কার্যদিবস পতনের পর একইভাবে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশেষ করে দুই সপ্তাহেই সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার সূচকের উত্থান হওয়ায় ঘটনাটিকে কেবল স্বাভাবিক বাজারের ওঠানামা হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টদের অনেকে।
তাদের ধারণা, একই ধরনের প্রবণতা বারবার ফিরে আসায় বাজারে কোনো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন বাজার সংশ্লিষ্টদের
বাজারের এই ধারাবাহিকতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য, নতুন কমিশনের সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বাজারের সাম্প্রতিক ওঠানামাকেও তারা সেই দুর্বলতার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, কার্যকরভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে টানা চার দিন পতনের পর আবার একই সময়ের ব্যবধানে সূচকের উত্থানের এমন পুনরাবৃত্তি দেখা যেত না।
এ অবস্থায় আগের সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহের পরও একই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীকাল আবার বাজারে দরপতন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে বর্তমান কমিশনের বাজার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে আস্থার সংকট
বাজারে এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সূচক আরও নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটও আরও গভীর হতে পারে।
এই পরিস্থিতি এড়াতে বাজারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি জোরদার করে দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মুনাফার ধারাবাহিকতার পর বিএসআরএম স্টিলে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ কখন, কোথায় কীভাবে লাইভ দেখবেন
- Vivo V80 কেনার আগে জেনে নিন এর ভালো-মন্দ, কার জন্য সেরা
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দর
- OPPO F35 Pro 5G: ৮,০০০mAh ব্যাটারি ও ১৪৪Hz AMOLED
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ: সময়, একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১টি দেশের টাকার মান
- মেসির শেষ ম্যাচ আজ, আর্জেন্টিনা-বেনিন কখন ও কোথায় দেখবেন