ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, জেনে নিন পুরো নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৩৬:৩৩
ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, জেনে নিন পুরো নিয়ম

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করতে এখন আর পুরো প্রক্রিয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফরম সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন শুরু করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ, ফি পরিশোধ এবং নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করা যায়। তবে আবেদনের সময় NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে নাম, জন্মতারিখসহ অন্যান্য তথ্যের মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী সময়ে সংশোধন বা যাচাইয়ের কারণে প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময় লাগতে পারে।

ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কাগজপত্র সত্যায়ন বা আবেদনপত্রে সাধারণভাবে ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি ও প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়।

ই-পাসপোর্টের আবেদন কোথা থেকে শুরু করবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত e-Passport Online Portal-এ যেতে হবে। আবেদন শুরুর আগে নিজের বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী কোন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্ট করতে হবে, সেটি অনলাইন পোর্টাল থেকেই নির্বাচন করা যায়।

ই-পাসপোর্টের সরকারি অনলাইন পোর্টাল

ধাপ ১: বর্তমান ঠিকানা ও পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন

অনলাইন পোর্টালে গিয়ে প্রথমে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন কি না সেটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর বর্তমান ঠিকানার জেলা ও সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করলে কোন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে হবে, তা দেখানো হবে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—আবেদন সাধারণত আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে দাখিল করতে হয়। তাই ফরম পূরণের আগে ঠিকানা ও অফিস নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ

এরপর অনলাইন আবেদন ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, বাবা-মায়ের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য NID অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদে থাকা তথ্য অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।

১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর NID না থাকলে পিতা বা মাতার NID নম্বর উল্লেখ করতে হয়। বয়স অনুযায়ী পরিচয়পত্রের নিয়মও আলাদা:

১৮ বছরের নিচে: অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)

১৮ থেকে ২০ বছর: NID অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ

২০ বছরের বেশি: NID আবশ্যক; তবে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে BRC English Version গ্রহণযোগ্য।

আবেদনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মূল পরিচয়পত্রের তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

ধাপ ৩: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারি নির্বাচন

আবেদন ফরমে পাসপোর্টের ধরন, কত পৃষ্ঠার পাসপোর্ট চান, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করতে হবে। সরকারি অনলাইন ফরমেও এসব তথ্যের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার এবং ৫ ও ১০ বছরের বিভিন্ন অপশন রয়েছে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর এবং পৃষ্ঠা ৪৮ নির্ধারিত।

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য ও কাগজপত্র

সবার জন্য একই ধরনের অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগে না। আবেদনকারীর পেশা, বয়স, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট, সরকারি চাকরি বা তথ্য পরিবর্তনের মতো বিষয় অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

যেমন—

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য GO/NOC প্রয়োজন হতে পারে।

পেশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক পেশাগত সনদ বা শিক্ষার্থী আইডি লাগতে পারে।

বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন হলে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান বা বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি দিতে হয়।

রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট দেখাতে হয়।

পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হলে জিডির কপি ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন হয়।

ধাপ ৫: পাসপোর্টের ফি পরিশোধ

আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পাসপোর্ট ফি দেওয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ফি অনলাইনে A-Challan, DGePay ও ShurjoPay-এর মাধ্যমে দেওয়া যায়। অনলাইন পেমেন্টে বিভিন্ন কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং অপশনও রয়েছে। এছাড়া A-Challan-এর মাধ্যমে অফলাইনেও সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে ফি দেওয়া যায়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ই-পাসপোর্টের ফি হলো:

পাসপোর্টরেগুলারএক্সপ্রেসসুপার এক্সপ্রেস
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এসব ফি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।

ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট করে Application Summary প্রিন্ট

সব তথ্য পূরণ ও পেমেন্টের প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদন সাবমিট করতে হবে। এরপর Application Summary বা আবেদন সারাংশ প্রিন্ট করে রাখতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে সেটিও সংরক্ষণ করতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের সময় Application Summary, পরিচয়পত্র এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথি সঙ্গে নিতে হবে। অফলাইনে ফি দিলে পেমেন্ট স্লিপও সঙ্গে রাখতে হবে।

ধাপ ৭: পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট

অনলাইনে আবেদন করলেই ই-পাসপোর্টের পুরো কাজ শেষ হয় না। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী—

ছবি তোলা হবে

আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে

আইরিশের তথ্য নেওয়া হবে

প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে

ছবি সাধারণত সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এনরোলমেন্টের সময় পাসপোর্ট অফিসেই ডিজিটাল ছবি তোলা হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে 3R সাইজের ছবি প্রয়োজন হতে পারে।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় কী কী নেবেন

এনরোলমেন্টের দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া ভালো। সরকারি পোর্টালের তালিকা অনুযায়ী সাধারণভাবে সঙ্গে রাখতে হবে—

Application Summary/অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ সারাংশের প্রিন্ট

মূল NID অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ

অফলাইনে পেমেন্ট করলে পেমেন্ট স্লিপ

আগের পাসপোর্ট, যদি থাকে

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য GO/NOC

আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি

তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র।

কত দিনে ই-পাসপোর্ট পাওয়া যায়

ই-পাসপোর্টের ডেলিভারি সময় নির্ভর করে আবেদনকারীর বেছে নেওয়া ডেলিভারি সার্ভিসের ওপর। সরকারি পোর্টালে বর্তমানে এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে রেগুলার, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেসের জন্য আলাদা সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

রেগুলার: ১৫ কর্মদিবস / ২১ দিন

এক্সপ্রেস: ৭ কর্মদিবস / ১০ দিন

সুপার এক্সপ্রেস: ২ কর্মদিবস

তবে এসব সময়সীমা সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

ই-পাসপোর্ট আবেদনের স্ট্যাটাস দেখবেন যেভাবে

আবেদন করার পর পাসপোর্টের কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি অনলাইনেই দেখা যায়। এর জন্য ই-পাসপোর্ট পোর্টালের Status Check অপশনে গিয়ে Application ID অথবা Online Registration ID এবং জন্মতারিখ দিতে হবে। Application ID সাধারণত এনরোলমেন্টের পর পাওয়া ডেলিভারি স্লিপে থাকে।

ই-পাসপোর্ট আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন

আবেদন করার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন খুব জটিল না হলেও কিছু ভুলের কারণে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তাই—

প্রথমত, NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য দেখে হুবহু তথ্য দিন।

দ্বিতীয়ত, নামের ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং জন্মস্থান সাবমিট করার আগে ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।

তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় GO, NOC, বিবাহ সনদ বা অন্য কোনো নথি প্রযোজ্য হলে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।

চতুর্থত, পেমেন্টের পর রসিদ বা পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষণ করুন।

পঞ্চমত, Application Summary এবং এনরোলমেন্টের পর পাওয়া Delivery Slip হারিয়ে ফেলবেন না।

আবেদন সাবমিট করার পর কোনো তথ্য ভুল ধরা পড়লেও সব ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন করতে হবে—এমন নয়। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী Application Summary নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে এনরোলমেন্টের সময় কিছু ভুল তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা থাকতে পারে।

এক নজরে ই-পাসপোর্ট আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার বিষয়টি সহজভাবে মনে রাখতে চাইলে পুরো প্রক্রিয়াটি এভাবে সাজানো যায়—

পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন → অনলাইন ফরম পূরণ → তথ্য যাচাই → পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ নির্বাচন → ফি পরিশোধ → আবেদন সাবমিট → Application Summary প্রিন্ট → পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্ট → বায়োমেট্রিক ও ছবি → Delivery Slip সংগ্রহ → অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা → পাসপোর্ট সংগ্রহ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইন আবেদন করার সময় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। কারণ পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে NID, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি কাগজের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তী যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং এতে সময় বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সরকারি তথ্য।

ই-পাসপোর্ট নিয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ FAQ

১. ই-পাসপোর্টের আবেদন কি পুরোপুরি অনলাইনে করা যায়?

অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও পেমেন্ট করা যায়। তবে আবেদন সম্পূর্ণ করতে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এনরোলমেন্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়।

২. ই-পাসপোর্ট করতে কি ছবি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে?

সাধারণত না। এনরোলমেন্টের সময় পাসপোর্ট অফিসে ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী আলাদা ছবি সংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে।

৩. NID না থাকলে ই-পাসপোর্ট করা যাবে?

বয়স অনুযায়ী নিয়ম আলাদা। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সে NID অথবা BRC English Version ব্যবহার করা যায়। ২০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বাংলাদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে NID আবশ্যক।

৪. ই-পাসপোর্টের আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখব?

ই-পাসপোর্টের Status Check পেজে Application ID অথবা Online Registration ID এবং জন্মতারিখ দিয়ে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা দেখা যায়।

৫. আবেদন করার পর তথ্য ভুল হলে কী করবেন?

ভুল তথ্য ধরা পড়লে Application Summary নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। সঠিক তথ্যের প্রমাণ হিসেবে NID, BRC বা প্রয়োজনীয় সরকারি নথি দেখাতে হতে পারে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: