ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ৩ ডিসেম্বর, সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৫:৪০:৫৩
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ৩ ডিসেম্বর, সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা

২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশটির সামরিক মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণের সামনে আনার উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি তুলে ধরা। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।

হামলার দিন ও সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারিত কার্যকরের সময়

আগামী ৩ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, স্থানীয় সময় বেলা ১টায় হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তের কথা জানান হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টের সাক্ষাৎকারে তাঁকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

হেগসেথের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০০৯ সালের হামলার দিন, সময় ও স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে তিনি একে ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণের দেখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন প্রক্রিয়াটি দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের কাজের জন্য যে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়, তা মানুষের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

ট্রাম্পের সম্মতির পর দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সচিবের

হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা এর আগেই জানিয়েছিল পেন্টাগন। গত সোমবার সংস্থাটি জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর সচিবকে।

বর্তমানে হাসান কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রয়েছেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন এবং মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।

২০০৯ সালের হামলায় প্রাণ হারান ১৩ জন

নিদাল মালিক হাসানের বিরুদ্ধে মামলার সূত্রপাত ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের একটি হামলাকে কেন্দ্র করে। সেদিন টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন, আহত হন আরও ৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।

হামলার পর হাসান বলেছিলেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এ হামলা চালিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

১৯৬১ সালের পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড

হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। পাশাপাশি, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

১. নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পিত তারিখ কবে?

আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

২. কী পদ্ধতিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা করা হয়েছে?

ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. ফোর্ট হুড হামলায় কতজন হতাহত হয়েছিলেন?

২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন।

৪. নিদাল মালিক হাসানকে কখন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল?

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

৫. তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ঐতিহাসিক হবে কেন?

এটি কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হবে। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: