ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে? খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২২:০৯:০৩
পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে? খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজ

বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়ন বা পুনরায় ইস্যু করতে কত টাকা লাগবে, তা নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও কত দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেতে চান তার ওপর। বর্তমানে দেশে ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা থেকে শুরু। একই পাসপোর্ট জরুরি ভিত্তিতে নিতে খরচ ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং অতীব জরুরি সেবায় ৮ হাজার ৬২৫ টাকা। অন্যদিকে, ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট কিংবা ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নিলে খরচ আরও বাড়বে।

তবে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, পৃষ্ঠা শেষের দিকে থাকলে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি। পুরোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং সঠিক ক্যাটাগরিতে আবেদন করা গেলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়নের খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনপদ্ধতি ও পাসপোর্ট পেতে সম্ভাব্য সময় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকছে এই প্রতিবেদনে।

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ‘নবায়ন’ বলতে মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষের কাছাকাছি থাকা পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করাকে বোঝানো হয়। নতুন পাসপোর্টের মতোই এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন গুরুত্বপূর্ণ।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, দেশে ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য খরচের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

পাসপোর্টের ধরননিয়মিতজরুরিঅতীব জরুরি
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

সূত্র: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি তালিকা। উল্লিখিত ফিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।

এখানে উল্লেখিত ফি বাংলাদেশের ভেতরে ই-পাসপোর্টের জন্য। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করলে ফি আলাদা হতে পারে। পুরোনো এমআরপি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদন ও ফি-সংক্রান্ত নিয়মও আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর আবেদনে সবার জন্য একই কাগজপত্র প্রযোজ্য হয় না। আবেদনকারীর বয়স, পরিচয়পত্র, পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা এবং তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না—এসবের ওপর প্রয়োজনীয় নথি নির্ভর করে।

সাধারণভাবে নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো।

১. পুরোনো পাসপোর্ট: আগের পাসপোর্টের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফটোকপিও প্রস্তুত রাখুন।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

৩. অনলাইন আবেদনপত্র ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের কাগজ: ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে পূরণ করে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কাগজ সঙ্গে রাখতে হবে।

৪. ফি জমার রসিদ: নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি পরিশোধের প্রমাণ বা পেমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করতে হবে।

৫. জন্মনিবন্ধন সনদ: আবেদনকারীর বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

৬. অতিরিক্ত প্রমাণপত্র: নাম, জন্মতারিখ, বৈবাহিক অবস্থা বা অন্য কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে অনাপত্তিপত্র (NOC), সরকারি আদেশ (GO) বা অবসরসংক্রান্ত নথি লাগতে পারে।

ই-পাসপোর্টের সরকারি নির্দেশনায় রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি এবং পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ: আবেদন জমা দেওয়ার আগে [ই-পাসপোর্টের সরকারি নির্দেশনা]

দেখে নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করে নিন।

পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় তথ্যের নির্ভুলতা ও সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদন করুন। ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইট [epassport.gov.bd](https://www.epassport.gov.bd/) থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করুন। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা ও পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন যাচাই করুন। আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, পরিচয়পত্রের নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠা ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি নির্বাচন করুন। সরকারি পোর্টালে অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা বা নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন।

চতুর্থ ধাপ: নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে যান। আবেদনপত্র, পুরোনো পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হন। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি নেওয়া হতে পারে।

পঞ্চম ধাপ: পাসপোর্টের অবস্থা যাচাই করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি দেখুন। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে নির্ধারিত নিয়মে সংগ্রহ করুন।

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত দিন লাগে?

ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি তালিকায় বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে সাধারণ ডেলিভারির জন্য ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ২ কর্মদিবস উল্লেখ রয়েছে।

তবে এই সময়কে সব আবেদনের ক্ষেত্রে নিশ্চিত ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। পুলিশ যাচাই, তথ্যের অসংগতি, অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন কিংবা প্রশাসনিক কারণে সময় বাড়তে পারে।

পাসপোর্ট নবায়নের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসার কাজে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় ইস্যুর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা ভালো।

- তথ্যের মিল রাখুন: পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে আগে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

- পুরোনো পাসপোর্ট সংরক্ষণ করুন: আবেদন জমা দেওয়ার সময় মূল পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

- জরুরি সেবা বুঝে নিন: দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে প্রযোজ্য সময় ও শর্ত যাচাই করুন।

- দালাল এড়িয়ে চলুন: আবেদন সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না। ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত পদ্ধতিতে ফি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?

মেয়াদ শেষ হলে সাধারণত পুনরায় ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

২. পাসপোর্ট নবায়নের সর্বনিম্ন খরচ কত?

বাংলাদেশে ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা। তবে আবেদনকারীর বয়স, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ নির্ধারিত হতে পারে।

৩. পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কি নবায়ন করা যাবে?

হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ নবায়নের পরিবর্তে হারানো পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে পুনরায় ইস্যুর আবেদন করতে হয়। সাধারণ ডায়েরির কপি ও পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি প্রয়োজন হতে পারে।

৪. পাসপোর্ট নবায়নে কি আবার বায়োমেট্রিক দিতে হয়?

আবেদনের ধরন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছবি, আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

৫. পাসপোর্ট নবায়নের ফি কি অনলাইনে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে উল্লেখিত অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে ফি দেওয়া যায়। নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমেও ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ