ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি ফ্লাইট বাতিলে বিপাকে কর্মীরা, শেষ হচ্ছে ভিসার মেয়াদ

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৭:৩২:৩৭
সৌদি ফ্লাইট বাতিলে বিপাকে কর্মীরা, শেষ হচ্ছে ভিসার মেয়াদ

সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে কিংবা ছুটি শেষে কাজে ফিরতে প্রস্তুত ছিলেন বহু বাংলাদেশি। কিন্তু বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের অনেকের যাত্রা থেমে গেছে ঢাকাতেই। কারও হাতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় খুব কম, আবার কারও সামনে পরিবারের খরচ চালানো ও ঋণ পরিশোধের চাপ। বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা হবে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় বিদেশে কর্মসংস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

সৌদি আরবে প্রথমবার চাকরি করতে যাওয়ার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করেছিলেন মোহাম্মদ হাসান। রোববার তাঁর দেশ ছাড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্য ডেইলি স্টারকে হাসান জানান, সোমবার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

তাঁর কোম্পানি আগের রাতের মধ্যেই বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিল। তাই রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু ব্যবস্থা না হলে কী করবেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না হাসানের। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় তাঁর এই অপেক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের জীবিকাও।

যাত্রা আটকে যাওয়ায় বিপাকে হাজারো যাত্রী

রিয়াদের বিমানবন্দরে গত শনিবারের হামলার পর সৌদি আরবের বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ওই ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকটের প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের যাত্রায়।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হিসাবে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি, সাউদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। তবে ইন্ডিগো ও হিমালয়া এয়ারলাইনসের দাম্মামগামী কানেক্টিং ফ্লাইট বাতিলের তথ্য বেবিচকের তালিকায় নেই।

রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঢাকা-রিয়াদ রুটে স্থগিত ফ্লাইট, যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ ও ১২ অক্টোবরের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। রিয়াদের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার সময়সীমা বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফ্লাইট আবার চালু করার বিষয়ে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া হবে অফিসিয়াল চ্যানেলে।

তবে সব ফ্লাইটের পরিস্থিতি এক রকম ছিল না। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি৩৪৯ ফ্লাইটটি প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বের পর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।

ফ্লাইট বাতিলের খবর অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পেরেছেন। কাউন্টার থেকে তাঁদের নিজ নিজ ট্রাভেল এজেন্সি, রিক্রুটিং এজেন্সি কিংবা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ফলে যাত্রা বাতিলের ধাক্কার পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থা খুঁজে বের করার দায়িত্বও তাঁদের ওপর এসে পড়ে।

ছুটি শেষে ফিরতে গিয়েও আটকে গেলেন প্রবাসীরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সৌদি আরবের দাম্মামে কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে। ইন্ডিগোর কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে দুপুর ১টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। কিন্তু বোর্ডিং কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন, ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে।

দিনভর অপেক্ষার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রেজাউল বলেন, তাঁকে সারাদিন রোদের মধ্যে খাবার ও পানি ছাড়াই বসে থাকতে হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর ট্রাভেল এজেন্সি জানায়, সেদিন রাতে ঢাকায় থাকতে হবে এবং পরদিন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। একই গন্তব্যের যাত্রী মোহাম্মদ আরিফ ও মোহাম্মদ তামিম ইসলামও একই পরিস্থিতিতে পড়েন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন সাইমন। কাঠমান্ডু হয়ে দাম্মাম যাওয়ার জন্য হিমালয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ধরতে দুপুর দেড়টার দিকে বিমানবন্দরে গেলেও তাঁকে ফিরতে হয় ফ্লাইট বাতিলের খবর নিয়ে। পরে তাঁর নিয়োগকর্তা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে শুধু নতুন কর্মীরাই নন, ছুটি শেষে কাজে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরাও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে আয় শুরু করতে না পারার পাশাপাশি তাঁদের অতিরিক্ত যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করতে হচ্ছে।

ভিসা শেষ হওয়ার আগে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তা

যাঁদের ভিসা বা ছুটির মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের উদ্বেগ আরও বেশি। মোহাম্মদ শাহীন কাঠমান্ডু হয়ে দাম্মাম যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসেছিলেন। তাঁকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো অথবা নতুন করে ভ্রমণের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে।

পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়িতে ফিরে এজেন্সির পরবর্তী খবরের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ফেরিতে করে গ্রামের পথে রওনা হন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামও রিয়াদগামী ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। দুই সন্তান ও বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁর ওপর। যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় আপাতত গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

জাহিদুলের মতো কর্মীদের জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষার অর্থ শুধু যাত্রা পিছিয়ে যাওয়া নয়। পরিবারের খরচ চালানোর দায়িত্ব, কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সময়সীমা এবং বিকল্প ভ্রমণের সম্ভাব্য ব্যয়—সবকিছুই তাঁদের সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলছে।

ঋণ ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়েও কাজে ফিরতে চান শংকর

চার মাসের ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন শংকর কুমার দাস। কিন্তু ফ্লাইটের বিষয়ে নিশ্চিত খবর না পেয়ে তিনি নড়াইলের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন।

সংকটের মধ্যেও কর্মস্থলে ফেরার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে শংকর বলেন, পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, পাশাপাশি রয়েছে ঋণের চাপ। সংঘাত থাকুক বা না থাকুক, বেঁচে থাকার জন্য তাঁকে কাজে ফিরতেই হবে।

হাসান, শাহীন ও শংকর—তিনজনের ক্ষেত্রেই পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। এর মধ্যে শাহীন ও শংকরের ওপর ঋণের বোঝাও রয়েছে। ফলে ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা তাঁদের জন্য নিছক ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যা নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে সংসারের আর্থিক নিরাপত্তা।

দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা কর্মীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয়ে। কখন ফ্লাইট পাওয়া যাবে, আদৌ বিকল্প ব্যবস্থা হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকায় তাঁদের অনেককেই বাড়ি ফিরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বিকল্প ফ্লাইটের উদ্যোগ, খরচ নিয়ে স্পষ্টতা নেই

আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য নতুন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। এমআরজে গ্লোবালের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে যাঁদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

তবে এই উদ্যোগের ফল পেতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিকল্প ফ্লাইটের জন্য বাড়তি খরচ হলে সেটি কে বহন করবেন, সেটিও পরিষ্কার নয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে প্রবাসী শ্রমিক, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের নিয়োগকর্তারা ছুটির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হবেন কি না। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিও এখন নির্ভর করছে বিকল্প ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিদেশে কর্মসংস্থান কমার মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্ব

সৌদিগামী কর্মীদের এই সংকট এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। অর্থাৎ, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম।

তারপরও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় বিদেশি কর্মসংস্থানের গন্তব্য সৌদি আরব। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৩২ হাজার ৯১৫ জন বাংলাদেশি সেখানে গেছেন।

দেশটির গুরুত্ব শুধু কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও সৌদি আরব সবচেয়ে বড় উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এর মধ্যে সৌদি আরবের অবদান ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা ওই সময়ের মোট রেমিট্যান্সের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।

সংকট দীর্ঘ হলে প্রবাসী আয়েও পড়তে পারে প্রভাব

এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কার তথ্য নেই। তবে সৌদি আরবের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মীদের কর্মস্থলে যাওয়া কিংবা ছুটি শেষে ফিরে আসার সুযোগ ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

প্রথমবার বিদেশে কাজে যোগ দিতে যাওয়া কর্মীদের জন্য ঝুঁকিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অনেকেই বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন। যাত্রা আটকে গেলে সেই অর্থের সদ্ব্যবহার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, পাশাপাশি চাকরি শুরু করাও পিছিয়ে যায়।

অন্যদিকে, ছুটি শেষে কাজে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের আয় ছাড়াই দিন বা সপ্তাহ পার করতে হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন করে যাতায়াতের ব্যয় এবং পরিবারের খরচ চালানোর চাপ।

মোহাম্মদ হাসানের ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর। সৌদি আরবে প্রথম চাকরি শুরু করার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করার পরও তিনি জানতেন না, সময়মতো রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না। তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হতে যখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখনো কোম্পানির আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচলের এই বিঘ্ন তাই কর্মীদের কাছে একসঙ্গে কয়েকটি সংকট তৈরি করেছে—যাত্রা অনিশ্চিত, ভিসার সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, চাকরিতে যোগ দেওয়া পিছিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বহনের চাপ বাড়ছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সৌদি আরবে হামলার পর কতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে?

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

২. কোন কোন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সাউদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

৩. সৌদিগামী কর্মীদের ভিসা নিয়ে কেন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে?

ফ্লাইট বাতিলের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আবার কারও ছুটির মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন ভ্রমণ অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

৪. সৌদি আরব বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে কতটা অবদান রাখে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসেছে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা ওই সময়ের মোট রেমিট্যান্সের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।

৫. আটকে পড়া কর্মীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা হচ্ছে কি?

এমআরজে গ্লোবালের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ইন্ডিগোর ফ্লাইটে যাঁদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে সময় ও অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ