ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

এক দিনেই কমল তেলের দাম, সামনে কী হতে পারে?

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৫:০৮:৩৭
এক দিনেই কমল তেলের দাম, সামনে কী হতে পারে?

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা একদিকে, অন্যদিকে নতুন করে হামলা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা—এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে দাম কমার চাপ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১টা নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১১৪.৪৭ ডলারে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১৩ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬৫ ডলারে নেমে আসে।

এর আগের দিন অবশ্য বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছিল। বুধবার ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১.৩ শতাংশ, আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ৩ শতাংশ। ফলে এক দিনের ব্যবধানে দরপতন হলেও তেলের বাজারে স্থায়ীভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

শান্তি আলোচনার উদ্যোগে নজর বাজারের

তেলের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে আলোচনার উদ্যোগ থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

এই আলোচনায় অগ্রগতি হলে তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমতে পারে। আর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে।

হামলা ও সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও তেলের বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। ইয়েমেনে হুতিদের হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সংঘাত আরও তীব্র হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তেলের দাম কমবে, নাকি আবার বাড়বে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে এগোয় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়। শান্তি আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে, যা তেলের দাম কমার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করবে।

অন্যদিকে, আলোচনা ব্যর্থ হলে বা সংঘাত নতুন করে বাড়লে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরবর্তী পরিবর্তন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর। সাম্প্রতিক দরপতন বাজারের অনিশ্চয়তা কাটার প্রমাণ নয়; বরং সামনে দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকেই নজর রাখতে হবে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

১. বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম কত ছিল?

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ কমে ১১৪.৪৭ ডলারে দাঁড়ায়।

২. ডব্লিউটিআই তেলের দাম কত কমেছে?

ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ১৩ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬৫ ডলারে নেমে আসে।

৩. তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কেন তৈরি হয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোলে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. কোন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে?

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে, নতুন হামলা হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম বাড়তে পারে।

৫. তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা কীসের ওপর নির্ভর করছে?

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ওপর তেলের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: