ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ, কী আছে এতে?

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৫:২১:৫০
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ, কী আছে এতে?

তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বিদেশি সামরিক হামলা হলে বাকি সদস্যদেরও আক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এটি। একই চুক্তিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্য দেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ মঙ্গলবার তুরস্ক সরকার দেশটির সংসদে জমা দিয়েছে। ১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত দলিলটিতে তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সেই সহযোগিতা পরিচালনা, তদারকি ও বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তিটির সম্পূর্ণ পাঠ এককভাবে সংগ্রহ করেছে। দলিলে কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা অঞ্চলকে শত্রু কিংবা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বরং সদস্যদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে পারস্পরিক দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর প্রত্যাহার নয়

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে কার্যকর হলে এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে। তবে সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রক্রিয়া।

চুক্তির ষোড়শ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো পক্ষ চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করতে পারবে না। এই সময় পার হলে কোনো সদস্য দেশ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অন্য সদস্যদের কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

প্রত্যাহার করলেও আগে থেকে সম্মত হয়ে শুরু করা কার্যক্রম বা প্রকল্পের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। চুক্তির অবসান কিংবা কোনো দেশের প্রত্যাহারের পরও চুক্তির আওতায় পাওয়া শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথির গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।

চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য তিন দেশের নিজ নিজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। এরপর কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার তারিখ থেকে এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।

সামরিক হামলার ক্ষেত্রে কী দায়িত্ব থাকবে তিন দেশের?

চুক্তির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হয়।

এ ধরনের হামলাকে শুধু আক্রান্ত দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে না; বরং তিন সদস্যের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আক্রান্ত রাষ্ট্রকে অন্য সদস্যরা অবিলম্বে সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

কতটা এবং কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিটি দেশ নিজের বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতা ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই ব্যবস্থার একটি উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি অঙ্গীকার রয়েছে। কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকি বা বিপদের মুখে পড়লে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এই নীতি ন্যাটো জোটের চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

শুধু যুদ্ধকালীন সহায়তা নয়, শান্তিকালেও সহযোগিতা

চুক্তির আওতায় তিন দেশের সম্পর্ক কেবল সামরিক আক্রমণের সময় সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শান্তিকালেও বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

চুক্তির তৃতীয় অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়ানোর কথা রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সম্মত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত পরামর্শের বিধান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি ও বিপদ মোকাবিলায় অভিন্ন মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং একক ও যৌথ ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধ ও শান্তিকাল—দুই পরিস্থিতিতেই সামরিক কর্মকর্তাদের বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যৌথ মহড়ার আয়োজন করা যাবে। ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে এমন কার্যক্রমের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে উপযুক্ত মোতায়েন ও অন্যান্য উদ্যোগ উৎসাহিত করার বিধান রয়েছে।

এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক বাহিনীর সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদনে গুরুত্ব

চুক্তির সপ্তম অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশের জন্য সহযোগিতার কয়েকটি ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক সরঞ্জাম যৌথভাবে উৎপাদন।

প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন এমন প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া তিন দেশের ভূখণ্ডে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, সামরিক শিল্পকে সহায়তা করা এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উদ্ভাবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যৌথ উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন বাস্তবায়নও এই অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র নির্ধারণ করতে পারবে সদস্য দেশগুলো।

অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগ

জরুরি পরিস্থিতিতে সামরিক সরবরাহ নিশ্চিত করতেও চুক্তিতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দশম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরবরাহ ও সহায়তামূলক সেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্যের শর্ত পূরণ হলে সদস্য দেশগুলো পরস্পরকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিতে পারবে।

এই সরবরাহের মধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত। বিধানটি শুধু যুদ্ধের সময়ের জন্য নয়; শান্তিকাল ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রযোজ্য হবে।

তবে চুক্তিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো শর্তহীন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও সহায়তামূলক সেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্যের ওপর সহযোগিতা নির্ভর করবে।

গোয়েন্দা তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা

নবম অনুচ্ছেদে তিন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করার কথা বলা হয়েছে। তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সদস্যদের পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

চুক্তির ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথি ব্যবহারের বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। চুক্তির আওতায় পাওয়া এসব তথ্য ও নথি সদস্য দেশগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং নিজ নিজ দেশের আইন মেনে চলতে হবে।

সদস্য দেশগুলোর বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ও নথি বিনিময় করা যাবে না। এসব তথ্য ব্যবহারের অনুমতি থাকবে কেবল সংশ্লিষ্ট কাজের প্রয়োজনে এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তিদের।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কিংবা কোনো দেশ প্রত্যাহার করলেও তথ্য ও নথির সুরক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব বহাল থাকবে।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, এমন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার রয়েছে চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদে।

এতে আগে থেকে চালু থাকা সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনার পর্যায়েও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

তিন দেশের মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের নিয়ে কমিটি

চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অষ্টম অনুচ্ছেদে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

কমিটিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং চুক্তি বাস্তবায়নের সময় যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে, সেগুলো মোকাবিলা করা হবে এই কমিটির দায়িত্ব।

বছরে দুবার কমিটির বৈঠক হবে। সদস্য দেশগুলো পালাক্রমে বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে তিন দেশের নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারবেন। কাজের প্রয়োজনে কমিটি উপকমিটিও গঠন করতে পারবে।

চুক্তিতে নির্ধারিত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক চুক্তি বা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

এ ছাড়া মূল তিন দেশের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নতুন কোনো দেশকে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির থাকবে।

সৌদি আরবে সচিবালয়, প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি

কমিটির কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার জন্য সৌদি আরবে সদর দপ্তরসহ একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত নিয়ম ও নীতিমালা মূল তিন দেশের সর্বসম্মতিতে নির্ধারিত হবে।

সচিবালয়ের সদর দপ্তর নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পৃথক চুক্তি সম্পাদন করা হবে। এর প্রধান হিসেবে একজন মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্য থেকে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক।

চুক্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আগে থেকে থাকা সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।

চুক্তি সংশোধন ও বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়ম

চুক্তির ব্যাখ্যা কিংবা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে সদস্য দেশগুলো আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। এ বিধান রয়েছে চতুর্দশ অনুচ্ছেদে।

চুক্তিতে পরিবর্তন আনতে হলে মূল তিন দেশের মধ্যে আলোচনা করতে হবে এবং সর্বসম্মতি অর্জন করতে হবে। পঞ্চদশ অনুচ্ছেদে এই শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

একাদশ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইন এবং সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ প্রাসঙ্গিক আইন মেনে চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, দ্বাদশ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর আগে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার ও বাধ্যবাধকতা অক্ষুণ্ন থাকবে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এসব বিদ্যমান অধিকার ও দায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলবে না।

তিন ভাষায় স্বাক্ষর, ব্যাখ্যায় প্রাধান্য ইংরেজি পাঠের

চুক্তিটির মূল কপি তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি—এই তিন ভাষায় স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনটি ভাষার পাঠকেই সমানভাবে প্রামাণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে কোনো বিষয়ে তিন ভাষার পাঠের ব্যাখ্যায় পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি ভাষার পাঠকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, ১৬ অনুচ্ছেদের এই চুক্তিতে তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতির পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা পরিচালনা, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, গোয়েন্দা তথ্যের সুরক্ষা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য তিন দেশের অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোন দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে?

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

২. চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার কী বিধান রয়েছে?

কোনো সদস্য দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আক্রান্ত দেশকে অন্য সদস্যরা তাদের সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহায়তা দেবে।

৩. মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে কখন প্রত্যাহার করা যাবে?

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। এরপর প্রত্যাহার করতে চাইলে অন্য সদস্যদের কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

৪. চুক্তিতে কি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিধান রয়েছে?

হ্যাঁ। সরবরাহব্যবস্থার প্রাপ্যতা ও সামঞ্জস্যের শর্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

৫. চুক্তিটি কবে কার্যকর হবে?

তিন দেশের নিজ নিজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার তারিখে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ