ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

Bajaj Pulsar N160: ১৬০ সিসির এই বাইকে কী কী সুবিধা?

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:৫৩:২৩
Bajaj Pulsar N160: ১৬০ সিসির এই বাইকে কী কী সুবিধা?

১৬০ সিসি মোটরসাইকেলের বাজারে স্পোর্টি লুক, ভালো পারফরম্যান্স এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় খুঁজছেন—এমন চালকদের জন্য Bajaj Pulsar N160 একটি পরিচিত নাম। বাইকটিতে রয়েছে ১৬৪.৮২ সিসির ফুয়েল-ইনজেকশন ইঞ্জিন, ১৬ PS শক্তি, ১৪.৬৫ Nm টর্ক, ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং LED লাইটিং। বাংলাদেশের বাজারে এর Single Seat সংস্করণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা বলে Bajaj-এর স্থানীয় ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।

Pulsar N160-এর নকশায় স্ট্রিটফাইটার মোটরসাইকেলের বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ লিটারের জ্বালানি ট্যাংক, ১৬৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং ১৫৪ কেজি ওজনের কারণে এটি দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝারি দূরত্বের ভ্রমণেও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট সংস্করণের ব্রেকিং ব্যবস্থা ও অন্যান্য ফিচার যাচাই করা জরুরি।

বাংলাদেশে Bajaj Pulsar N160-এর দাম কত?

Bajaj-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে Pulsar N160 Single Seat সংস্করণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ মে ঢাকায় এই সংস্করণটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করে উত্তরা মোটরস। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে Bajaj মোটরসাইকেলের পরিবেশক।

তবে বাজারে N160-এর একাধিক সংস্করণ রয়েছে। সংস্করণভেদে ব্রেক, সাসপেনশন ও অন্যান্য সরঞ্জামে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে শুধু মডেলের নাম দেখে দাম বা ফিচার এক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। শোরুমে গিয়ে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের মূল্য, স্টক এবং বিক্রয়-পরবর্তী সুবিধা জেনে নেওয়া ভালো।

১৬৪.৮২ সিসির ইঞ্জিনে কত শক্তি পাওয়া যায়?

Bajaj Pulsar N160 Single Seat-এ ব্যবহার করা হয়েছে ১৬৪.৮২ সিসির এক সিলিন্ডার, চার-স্ট্রোক, SOHC, দুই-ভালভের এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এতে ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি রয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

প্রস্তুতকারকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনটি ৮,৭৫০ rpm-এ সর্বোচ্চ ১৬ PS শক্তি এবং ৬,৭৫০ rpm-এ ১৪.৬৫ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। বিস্তৃত টর্ক ব্যান্ডের কারণে বিভিন্ন গতিতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় টান পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে Bajaj।

শহরের যানজটে বারবার গতি কমানো-বাড়ানো কিংবা ফাঁকা রাস্তায় চলার সময় ইঞ্জিনের এই বৈশিষ্ট্য কাজে আসতে পারে। তবে প্রকৃত পারফরম্যান্স নির্ভর করবে চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা এবং মোটরসাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

ডিজাইনে স্পোর্টি স্ট্রিটফাইটার লুক

Pulsar N160-এর সামনের অংশে রয়েছে বায়-ফাংশনাল LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও LED DRL। এর সঙ্গে পেশিবহুল ফুয়েল ট্যাংক, স্পোর্টি বডি প্যানেল এবং আন্ডারবেলি এক্সহস্ট বাইকটিকে আক্রমণাত্মক চেহারা দিয়েছে।

পেছনে রয়েছে LED টেললাইট। বাইকটির নকশায় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, ওজনের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আন্ডারবেলি এক্সহস্টকে মোটরসাইকেলের কেন্দ্রীয় অংশের কাছাকাছি অবস্থানে রাখার ফলে ভারসাম্য ও হ্যান্ডলিংয়ে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশে Single Seat সংস্করণটি Harbour Grey, Glossy Racing Red, Brooklyn Black এবং Pearl Metallic White—এই চারটি রঙে তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট রঙের প্রাপ্যতা শোরুমভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ব্রেকিং ব্যবস্থায় রয়েছে ABS

Pulsar N160 Single Seat সংস্করণে সামনের চাকায় ২৮০ মিলিমিটার এবং পেছনের চাকায় ২৩০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। এই সংস্করণে সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS দেওয়া হয়েছে। সামনের চাকায় ABS কাজ করলেও পেছনের চাকায় এই সুবিধা নেই।

ABS ব্রেক করার সময় চাকাকে লক হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে হঠাৎ ব্রেক করার পরিস্থিতিতে এটি চালকের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ABS থাকলেও নিরাপদ গতিতে চালানো, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং সঠিক ব্রেকিং কৌশল অনুসরণ করা জরুরি।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: Bajaj-এর বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অন্য N160 সংস্করণে ডুয়াল-চ্যানেল ABS-এর তথ্য রয়েছে। তাই Single Seat সংস্করণের সঙ্গে অন্য ভ্যারিয়েন্টের ব্রেকিং ফিচার মিলিয়ে ফেলা যাবে না।

সাসপেনশন ও টায়ারে কী থাকছে?

বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত Pulsar N160 Single Seat সংস্করণে সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে Nitrox-সহ মনোশক সাসপেনশন রয়েছে। সামনের সাসপেনশন রাস্তার অসমান অংশের ধাক্কা সামলাতে সহায়তা করে। পেছনের মনোশক ব্যবস্থা যাত্রী ও মালপত্রের ওজন অনুযায়ী বাইকের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

চাকার ক্ষেত্রে সামনে ১০০/৮০-১৭ এবং পেছনে ১৩০/৭০-১৭ মাপের টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনের তুলনামূলক চওড়া টায়ার রাস্তার সঙ্গে সংযোগ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

ডিজিটাল কনসোল ও Bluetooth সংযোগ

মোটরসাইকেলটিতে পূর্ণ ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। Bluetooth সংযোগের মাধ্যমে স্মার্টফোনের কল ও মেসেজের নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের মতো তথ্য দেখার সুবিধাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাইকটিতে USB মোবাইল চার্জিং সুবিধা রয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কাজে আসতে পারে। সামনের LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও পেছনের LED টেললাইটও এর আধুনিক সরঞ্জামের অংশ।

১৪ লিটারের ট্যাংক ও ১৫৪ কেজি ওজন

Pulsar N160 Single Seat-এর জ্বালানি ধারণক্ষমতা ১৪ লিটার। বাইকটির কার্ব ওজন ১৫৪ কেজি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিলিমিটার। এর হুইলবেস ১ হাজার ৩৫৮ মিলিমিটার। দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৯৮৯ মিলিমিটার, প্রস্থ ৭৪৩ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৫০ মিলিমিটার।

১৪ লিটারের ট্যাংক দীর্ঘ পথ চলার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। তবে একবার পূর্ণ ট্যাংকে কত দূর যাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে বাইকের প্রকৃত মাইলেজের ওপর।

Bajaj Pulsar N160-এর মাইলেজ কত?

Pulsar N160-এর নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত মাইলেজের কোনো সংখ্যা Bajaj-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল পণ্য পৃষ্ঠায় প্রকাশ করা হয়নি। তাই বাইকটি প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট কত কিলোমিটার চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বাস্তবে জ্বালানি খরচ নির্ভর করে যানজট, গতি, রাস্তার ধরন, চালকের অভ্যাস, টায়ারের চাপ এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের ওপর। অনলাইনে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর দেওয়া মাইলেজের হিসাব পাওয়া গেলেও সেগুলোকে প্রস্তুতকারকের পরীক্ষিত বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ফল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

কেনার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন

Bajaj Pulsar N160 মূলত এমন চালকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি, যাঁরা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য স্পোর্টি নকশার ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল চান। এর ইঞ্জিন ক্ষমতা, ডিজিটাল কনসোল, LED লাইটিং এবং ১৪ লিটারের ট্যাংক ব্যবহারিক দিক থেকে আকর্ষণীয়।

তবে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন:

আপনার পছন্দের সংস্করণে সিঙ্গেল-চ্যানেল নাকি ডুয়াল-চ্যানেল ABS রয়েছে।

নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের দাম ও শোরুমে প্রাপ্যতা কত।

সিটে বসে উচ্চতা ও নিয়ন্ত্রণের স্বাচ্ছন্দ্য কেমন।

আপনার দৈনন্দিন চলাচলের ধরন অনুযায়ী ওজন ও সাসপেনশন উপযুক্ত কি না।

ওয়ারেন্টি, সার্ভিসিং ও যন্ত্রাংশের সুবিধা কী রয়েছে।

Bajaj Pulsar N160-এর বড় শক্তি হলো এর ১৬৪.৮২ সিসির ইঞ্জিন, স্পোর্টি স্ট্রিটফাইটার ডিজাইন এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক ফিচারের সমন্বয়। ১৬ PS শক্তি ও ১৪.৬৫ Nm টর্কের পাশাপাশি ডিজিটাল কনসোল, Bluetooth সংযোগ, LED লাইটিং এবং ১৪ লিটারের ট্যাংক বাইকটিকে ১৬০ সিসি শ্রেণিতে আগ্রহী ক্রেতাদের বিবেচনায় রাখে।

বাংলাদেশে Single Seat সংস্করণের অফিসিয়াল তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা। তবে ভ্যারিয়েন্টভেদে ফিচারের পার্থক্য থাকায় কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেলের ABS, সাসপেনশন ও অন্যান্য সরঞ্জাম যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. বাংলাদেশে Bajaj Pulsar N160-এর দাম কত?

Bajaj-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে Pulsar N160 Single Seat সংস্করণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। শোরুমে বর্তমান মূল্য ও প্রাপ্যতা যাচাই করা উচিত।

২. Bajaj Pulsar N160-এর ইঞ্জিন কত সিসির?

এতে ১৬৪.৮২ সিসির এক সিলিন্ডার, চার-স্ট্রোক, SOHC, দুই-ভালভের এয়ার-কুলড ফুয়েল-ইনজেকশন ইঞ্জিন রয়েছে।

৩. Pulsar N160 কত PS শক্তি উৎপন্ন করে?

ইঞ্জিনটি ৮,৭৫০ rpm-এ সর্বোচ্চ ১৬ PS শক্তি এবং ৬,৭৫০ rpm-এ ১৪.৬৫ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।

৪. Bajaj Pulsar N160-এ কি ডুয়াল-চ্যানেল ABS আছে?

সংস্করণভেদে ব্রেকিং ব্যবস্থায় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত Single Seat সংস্করণে সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS দেওয়া হয়েছে। অন্য N160 সংস্করণে ডুয়াল-চ্যানেল ABS রয়েছে।

৫. Bajaj Pulsar N160-এর মাইলেজ কত?

Bajaj-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট মাইলেজের সংখ্যা দেওয়া নেই। বাস্তবে জ্বালানি খরচ চালানোর ধরন, রাস্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: