সরকারি বাসায় ভাড়াটিয়া রাখলে বরাদ্দ বাতিল, শেষ সময় শনিবার
সরকারি আবাসনের সুবিধা নিয়ে সেই বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে রাখার সুযোগ বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। বরাদ্দ পাওয়া বাসায় নিজে না থেকে অন্য কাউকে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া কিংবা একটি বা একাধিক কক্ষ ভাড়া দেওয়ার ঘটনায় এবার সরাসরি বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বাসায় থাকা ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাদের আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবারের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও অনিয়ম পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীন বাসা ও ফ্ল্যাটের ব্যবহার নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নামে বরাদ্দ করা আবাসন অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া কিংবা সাবলেট হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
পরিদর্শনে ধরা পড়েছে বাসা ভাড়া দেওয়ার ঘটনা
সরকারি বাসা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সেখানে বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে নিজেদের আবাসনের এক কক্ষ, দুই কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ বরাদ্দের সুবিধা পেয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরা বসবাস না করে বাসার পুরোটা অথবা অংশবিশেষ অন্যের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন।
পরিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সরকারি আবাসনের বরাদ্দপ্রাপকদের এ ধরনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাসা খালি করাতে হবে
ইতোমধ্যে যারা বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের কোনো অংশ কিংবা সম্পূর্ণ আবাসন অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে পরিদপ্তর। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতাদের বাসা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
শুধু ভাড়াটিয়া সরিয়ে দিলেই নির্দেশনার বিষয়টি শেষ হচ্ছে না। গণবিজ্ঞপ্তিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের বরাদ্দ করা বাসায় অবস্থান ও বসবাস করার কথাও বলা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাতিল হতে পারে বরাদ্দ
আবাসন পরিদপ্তরের সতর্কবার্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপককে আলাদাভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁর নামে থাকা বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সরকারি আবাসনে বসবাসের জন্য বরাদ্দ পাওয়া কর্মচারীদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতা সরিয়ে নিজেদের বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
FAQ
১. সরকারি বাসার ভাড়াটিয়া সরানোর শেষ সময় কবে?
আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবারের মধ্যে ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে নিতে হবে।
২. সরকারি বাসার একটি বা দুটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া যাবে কি?
না। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসার এক কক্ষ, দুই কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া যাবে না।
৩. নির্ধারিত সময়ের পর ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে কী হবে?
কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. কোন বিধিমালার পরিপন্থি সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়া?
বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থি এ ধরনের কার্যক্রম।
৫. বরাদ্দ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের কী করতে হবে?
ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে নিজেদের বরাদ্দ পাওয়া বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।
তানভির ইসলাম/